আশাশুনিতে দূর্যোগ প্রবণ এলাকা পরিদর্শন করলেন অক্সফাম কর্মকর্তা


292 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনিতে দূর্যোগ প্রবণ এলাকা পরিদর্শন করলেন অক্সফাম কর্মকর্তা
ডিসেম্বর ১, ২০১৮ আশাশুনি দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::
অক্সফাম-এর হিউম্যানেটেরিয়ান প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিজানুর রহমান আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের আইলা-সিডোরে ক্ষতিগ্রস্ত ও নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন ও প্রত্যক্ষ করলেন।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর ’১৮) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ইউনিয়নের শ্রীপুর ও কুড়িকাহনীয়া গ্রামের মানুষের সাথে কথা বলেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন আশ্রয় ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মমতাজ খাতুন, এলনা প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিজানুর রহমান, দৈনিক সাতনদীর নির্বাহী সম্পাদক ও আশ্রয় ফাউন্ডেশনের ফেলো জাহাঙ্গীর আলম কবীর, ক্রিসেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক আবু জাফর সিদ্দিক এবং খুলনা বিশ্ব বিদ্যালয়ের পানি, মাটি ও পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্র ও আশ্রয় ফাউন্ডেশনের এন্টার্নি আরিফুল ইসলাম। তারা বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় নারী-পুরুষের সাথে দলীয় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এতে সহযোগিতা করেন স্থানীয় সিপিপি লিডার আক্তারুজ্জামান।


দলীয় আলোচনায় শ্রীপুর ও কুড়িকাহনীয়াসহ এই এলাকার মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা উঠে আসে। জানা যায়, আইলা ও সিডোরে ক্ষতিগ্রস্ত এবং কপোতাক্ষ নদীর অব্যাহত ভাঙনে মানষের জীবন জীবিকা দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। নদী ভাঙনে শ্রীপুর লঞ্চঘাট মসজিদ, লঞ্চঘাটের জেটি, শ্বশ্মান, কবরস্থান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেটসহ গ্রামের ৭৫ ভাগ এলাকা নদী গর্ভে হারিয়ে গেছে। শতাধিক পরিবার এলাকা ছেড়ে রাঙামটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, যশোর, নওয়াপাড়া, খুলনা, ফুলতলা, নড়াইল সহ বিভিন্নস্থানে চলে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ওপরে বসবাস ৪০০ পরিবার। কিন্তু এ সবের কোন পরিসংখ্যান করা হয়নি।


এলাকাবাসীরা জানান, শ্রীপুর গ্রামের ৬০ ভাগ মানুষ গ্রাম ছেড়ে পাশের গ্রাম কুড়িকাহনীয়া গ্রামে স্থায়ীভাবে বাস করছে। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করায় খালের মুখের স্লইস গেট বন্ধ হয়ে গেছে। তাই বর্ষার মওসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বাড়িঘরে পানি ঢুকে যায়। পানি নিস্কাশন হয় প্রতাপনগরের পশ্চিমে কল্যাণপুর গ্রাম দিয়ে। কপোতাক্ষ এলাকার পানি পড়ে দেড় কিলোমিটার দূরে খোলপেটুয়া নদীতে। যেখানে নদী ভাঙন হয় সেখানে নদীর লবণাক্ত পানির  স্রোতে সৃষ্টি হয় নতুন নতুন খাল। বছর বছর কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধ ভাঙনের কারণে সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়ে নারীরা। দুর্ভোগ পোহায় নারী ও শিশুরাই। তাই কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের ওপরে দুর্গত মানুষের প্রচন্ড ক্ষোভ। শ্রীপুর ও কুড়িকাহনীয়াবাসীদেও একটাই দাবি বিগত শতাব্দীর ৬০-এর দশকে নির্মিত বেড়িবাঁধগুলো ব্লক দিয়ে পুনঃনির্মাণ করা হোক।
সিপিপি লিডার আক্তারুজ্জামান জানান, প্রতাপনগরের তিন তলায় স্থাপিত ভিএইচএফ ওয়্যারলেস সেটটি এক বছর ভাল কাজ করেছিল। বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
অক্সফাম-এর হিউম্যানেটেরিয়ান প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, এই এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশার দেখার জন্য জনপ্রতিনিধি ও সরকার রয়েছে। অক্সফাম শুধু সহযোগিতা দিয়ে থাকে। তবে তাদের দঃখ-দুর্দশা ও কষ্ট নিরসনের জন্য সরকারের কাছে বিষটি তুলে ধরবেন।

##