আশাশুনিতে পুরোহিত পরিবারককে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ


294 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনিতে পুরোহিত পরিবারককে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
মে ১৭, ২০২২ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কৃষ্ণ ব্যানার্জী ::

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে শিব মন্দিরে চড়ক পূজা চলাকালীন সময়ে মদ্যপান করে নীলমাধব চক্রবর্তী নামে এক বৃদ্ধ পুরোহিতকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হামলা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে এক মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে। রবিবার (১৫ ই মে) বিকালে উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা শিব মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধার নাম দীনেশ চন্দ্র মন্ডল। সে উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মৃত মানিক মন্ডল এর পুত্র। এ ঘটনায় আশাশুনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী হয়েছে।

থানায় সাধারণ ডায়েরি ও ভুক্তভোগী পুরোহিতের পুত্র প্রদীপ চক্রবর্তী জানান, রবিবার বিকালে তিন গ্রামের সার্বজনীন চড়ক পূজা চলাকালীন সময়ে দুর্গাপুর গ্রামের মৃত মানিক চন্দ্র মন্ডল এর পুত্র মুক্তিযোদ্ধা দীনেশ চন্দ্র মন্ডল হঠাৎ মন্দিরের মধ্যে প্রবেশ করে। এ সময় আমার পিতা (পুরোহিত) নীলমাধব চক্রবর্তী পূজা করেছিলেন। মন্দিরের চারিপাশে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে ফিল্মি স্টাইলে মদ্যপান রত অবস্থায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এমনকি পূজার স্থান থেকে তুলে নিয়ে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার সাথে সাথে উপস্থিতিত জনতার মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মন্দির কমিটি এবং স্থানীয়রা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরো জানান,তিনি পুরোহিতকে লাঞ্চিত করে ক্ষ্যান্ত ছিলেন না আমাকে এবং আমার সপরিবার কে যেখানে পাবে প্রাণনাশের হুমকি দেন তিনি। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।
ডাইরি নাম্বার ৬৯১। তাং ১৭-০৫-২০২২।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তিরা জানান, দীনেশ মন্ডল একদিকে মুক্তিযোদ্ধা অপরদিকে পূজা উদযাপন পরিষদের খাজরা ইউনিয়নের সভাপতি হওয়ায় সুবাদে সাধারণ মানুষের উপর মদ্যপান করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্রায়ই খাজরা বাজারে বসে লাউতারা দুর্গাপুর পিরোজপুর সহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাজারে আসলে কারনে অকারনে গালিগালাজ এবং লাঞ্ছিত করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে যাত্রা গানের নামে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন, বাল্যবিবাহ সহ নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি করুনা কান্ত ব্যানার্জী ও সাধারণ সম্পাদক শংকর কুমার ব্যানার্জী জানান, মন্দিরে পূজা চলাকালীন সময় পুরোহিতকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে নিন্দা এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আশাশুনি উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নীলকন্ঠ সোম জানান পূজা চলাকালীন সময় পুরোহিতকে লাঞ্ছিত ও বের করে দেওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

অভিযুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা দীনেশ মন্ডল জানান,গ্রামের দ্বন্দ নিরোসনে একটি দেল পূজা করা হচ্ছিলো। নিয়ম নীতি অনুযায়ী পূজা করার কথা থাকলেও পুরোহিতের ছেলে প্রদীপ চক্রবর্তী বিরোধিতা করতে থাকে। গ্রামবাসী প্রতিবাদ করলে প্রদীপ চক্রবর্তী চড়াও হয়ে তার ইচ্ছে মত পূজার করার হচ্ছে বলে অটুট থাকে। তাই পুরোহিতকে সাবধান করা হয়েছে মাত্র।

আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমিনুল ইসলাম জানান, পুরোহিতকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। তার নং ৬৯১। আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে কেউই আইনের উর্ধে নয়। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে পুরোহিত নীলমাধব চক্রবর্তীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি লেফটেন্যান্ট কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত নিরাঞ্জন ভট্টাচার্য ও মহাসচিব বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য সহ সকল নেতৃবৃন্দ।

#