আশাশুনিতে পুলিশের উপর হামলা মামলায় চার গ্রাম পুরুষ শুন্য


563 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনিতে পুলিশের উপর হামলা মামলায় চার গ্রাম পুরুষ শুন্য
সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

 

ইব্রাহিম খলিল :
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে পুলিশের দায়ের করা হামলা মামলায় চার গ্রাম এখন পুরুষ শুন্য। রাত হলেই পুলিশের ভয়ে মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এছাড়া ‘অজ্ঞাতনামা’ আসামির খোঁজে এলাকায় পুলিশ গেলে সাধারন মানুষও আতংকিত হয়ে পালাতে শুরু করে। পুলিশকে মারপিট করে আসামি ছিনতাই ঘটনায় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের প্রতাপনগর, কুড়িকাহনিয়া ও শ্রীপুর এবং পদ্মপুকুর ইউপির বন্যতলা চারটি গ্রাম পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে।

মামলামর বাদী আশাশুনি থানার এস আই নয়ন চৌধুরি ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, তিনি নিজে বাদি হয়ে আশাশুনি থানায় গত ৯.৯.২০১৭ তারিখে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নং ৬। ধারা১৪৩/৩৪১/৩৪২/১৮৬/৩৩২/৩৫৩/৩০৭ ও ১১৪। এস আই নয়ন চৌধুরি দাবি করে বলেন, রফিকুল ইসলাম বুলির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ তদন্তে তিনি সহ পুলিশের চার সদস্য গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রতাপনগর এলাকায় যান। বুলিকে সাথে নিয়ে তালতলা বাজারে আসতেই আসামী রফিকুল ইসলাম বুলির হুকুমে কয়েক শত মানুষ পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে তারা আসামীকে ছিনিয়ে নেয়। এসময় পুলিশের ৪ সদস্য এসআই নয়ন চৌধুরী, এএসআই তুহিন, কনস্টেবল জাহাঙ্গীর ও কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান আহত হন। মামলায় আরও বলা হয়, মারধর করে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাদেরকে একটি কক্ষে আটকে রেখে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়।

মামলার প্রধান আসামী প্রতাপনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বুলি জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর আশাশুনি থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) নয়ন চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের চার সদস্য সিভিল পোশাকে আমাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে । তার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এ সময় গ্রামবাসী তাতে বাধা দেয়। তারা রফিকুল ইসলাম বুলি কোনভাবে দোষী নন বলে স্লোগান দেন। এক পর্যায় পুলিশ রফিকুল ইসলাম বুলিকে ছেড়ে দেয়।

পুলিশের দায়ের করা মামলায় আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি গ্রামবাসীর উদ্দ্যেশ্য বলেন, এলাকার কোন সাধারন মানুষকে হয়রানি করা হবে না। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুল ইসলাম শাহিন ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, পুলিশের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করায় মামলটি দায়ের করা হয়েছে। সাধারন মানুষের হয়রানি সম্পর্কে তিনি বলেন সাধারন মানুষ যাতে হয়রানির স্বীকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। আসামীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলবে।

##