আশাশুনিতে বোমা ও বন্দুকের গুলি উদ্ধার, আটক-১


437 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনিতে বোমা ও বন্দুকের গুলি উদ্ধার, আটক-১
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২২ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

প্রতিবেশির বাড়িতে বোমা ও বন্দুকের গুলি রেখে তাদের ফাঁসাতে যেয়ে নিজেরাই ফেঁসে গেলেন!

॥ এস,কে হাসান ॥

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটিতে হাতবোমা ও রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত ৩টার দিকে আশাশুনি থানা পুলিশ কাদাকাটি ইউনিয়নের কাদাকাটি গ্রামের মফিজুল সরদার বাড়ি থেকে বোমা ও রাইফেলের গুলি উদ্ধার করে।

মফিজুল সরদারের স্ত্রী পারভিন আক্তার জানান, রাতে হঠাৎ আমাদের বাড়িতে ৫ থেকে ৭জন পুলিশ আসে। পুলিশের সাথে স্থানীয় ইসরাফিল ও মিকাইল নামের দুজন ব্যক্তি ছিল। থানা-পুলিশ আমাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে কোন কিছুই না পেয়ে আমাদেরকে জানায় যে আমাদের বাড়িতে নাকি বোমা রাখা আছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। বিষয়টি শুনে আমরা হতভম্ব হয়ে পড়ি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও পুলিশ যখন কোন কিছুই পেলনা, তখন থানা পুলিশ মিকাইল ও ইসরাফিলকে বাড়ির ভিতরে নিয়ে আসে। এ সময় তাদেরকে চাপ প্রয়োগ করলে তারা নিজেরাই আগে থেকে লুকিয়ে রাখা বোমা ও বন্দুকের গুলি বের করে। পুলিশ সাথে সাথে বোমা পানিতে রেখে নিষ্ক্রিয় করে এবং পুলিশ মিকাইলকে গ্রেফতার করলেও ইসরাফিল কৌশলে পালিয়ে যায়।

গৃহবধূ পারভিন আক্তার আরো জানান, অভিযুক্ত মিকাইল ইসরাফিলের সাথে আমাদের জলমহল নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। কাদাকাটিতে সাড়ে চার শত বিঘা জলমহাল জমি আমার স্বামীর বড় ভাই ইজারা পেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সকলেই হারির টাকা পরিশোধ করলেও মিকাইল ও ইসরাফিল হারির টাকা না দিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে। তার-ই সূত্র ধরে তারা আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে আমাদের অজান্তে আমাদের বাড়িতে এসমস্ত অবৈধ জিনিস পত্র রেখে যায়। যা থানা পুলিশ তাদের মাধ্যমেই উদ্ধার করে এবং প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বিপ্লব কুমার রায় জানান, রাতে পুলিশ এসে মফিজুলের বাড়ি থেকে তল্লাশি করে প্রথমে কিছুই পায় না। পরে স্থানীয় মিকাইল ও ইসরাফিল এর সহযোগিতায় বোমা ও রাইফেলের গুলি উদ্ধার করে থানা পুলিশ। সকালে মফিজুলের বাড়ীতে আর কোন অবৈধ মালামাল রেখেছে কিনা সে বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। তবে আর কিছুই পাওয়া যায়নি বলে সরেজমিন দেখা যায়।

এ ব্যাপারে আশাশুনি থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক ও অস্ত্র মামলা দায়ের করেছেন মামলা নং ১৫।

আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমিনুল ইসলাম পিপিএম বলেন, প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে এঘটনা সাজানো হয়েছিলো। পুলিশ প্রতারক মিকাইল সরদারকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অপর আসামী ইসরাফিল ও অজ্ঞাতরা পলাতক রয়েছে। অতিদ্রুত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

#