আশাশুনিতে ১০ গ্রাম নতুন করে প্লাবিত


136 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনিতে ১০ গ্রাম নতুন করে প্লাবিত
আগস্ট ২৩, ২০২০ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

২ হাজারের অধিক পরিবার পানিবন্দী, সুপেয় পানি, শুকনা খাবার, স্যানিটেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত

ডেস্ক রিপোর্ট ::

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বেড়িবাঁধ ভেঙে আশাশুনি সদর, প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের আংশিক প্লাবিত হয়। গত ২/৩ দিন নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙ্গনকৃত এলাকার রিং বাঁধ ভেঙ্গে ও উপচে দ্রুত গতিতে খোল পেটুয়া ও কপোতাক্ষের পানি ভেতরে প্রবল বেগে প্রবেশ করছে।

এতে আশাশুনি সদর, প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের নতুন করে ১০ গ্রামের প্রায় ২ হাজারের অধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। চিংড়ী ঘের ভেসে গিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্লাবিত এলাকায় কাচা ঘরের দেয়াল পড়ে এক গৃহবধুর আহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। এসব প্লাবিত এলাকায় স্যানিটেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে।

সর্বত্রই সুপেয় পানি, শুকনো খাবার, গবাদী পশুপাখি ও শিশু খাদ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এখবরে শনিবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম আশাশুনি ও শ্রীউলার বানভাসী মানুষদের পাশে গিয়ে তাদের খোঁজ খবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। আম্পানের আঘাতে নদীর পানি রক্ষা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলেও এতদিন উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের মাড়িয়ালা এলাকায় মেইন সড়ক ও হাজরাখালী কেয়ারের উপর রিংবাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে রাখলেও গত দুই দিন আগে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও টানা বর্ষনে উক্ত রিংবাঁধ ভেঙে ও উপচে পড়ে ভিতরে পানি ঢুকছে। ফলে মহিষকুড়, গাজীপুর, শ্রীউলা ও পুঁইজালাসহ নতুন নতুন গ্রাম প্রতি জোয়ারে প্লাবিত হচ্ছে। গতকাল দুপুরের জোয়ারে আশাশুনি সদরের কমলাপুর থেকে পুইজালা বাজারের ইটের সোলিং রাস্তার দক্ষিণ পাশে অবস্থিত আশাশুনি ইউনিয়নের খাসেরাবাদ, কমলাপুর ও ডাসেরআটি গ্রামের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে যায়। ওই রাতেই কমলাপুর কার্লভাট, বিলনাটানা কার্লভাটসহ খাসেরাবাদ গ্রামের ৩টি কার্লভাট দিয়ে পানি রাস্তার উত্তর পাশে ঢুকে সলুয়ার খালে পড়তে থাকে।

সদর ইউপি চেয়ারম্যান সম সেলিম রেজা মিলন জানান, খোলপেটুয়া নদী ভাঙনে প্লাবিত শ্রীউলার পানি শুক্রবার সকাল থেকে আশাশুনির মধ্যে ঢুকে পরপর দুটো জোয়ারে ৬ নং ওয়ার্ডের ঠাকুরাবাদ, দক্ষিণ ও মধ্যম বলাবাড়িয়া, হাঁসখালী ও গাইয়াখালী গ্রাম ও ৯নং ওয়ার্ডের কমলাপুর, ডাসেরআটী ও খাসেরাবাদ গ্রামের প্রায় ৭০০ পরিবার এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্রতাপনগর ইউনিয়নের নাকনা ও রুইয়ারবিল রিংবাঁধ ভেঙে প্রতাপনগর ইউনিয়ন সম্পূর্ণ, মাড়িয়ালা রিং বাঁধ ভেঙে শ্রীউলা ইউনিয়ন সম্পূর্ণ এবং শ্রীউলার পানি ও দয়ারঘাট রিংবাঁধ ভেঙে আশাশুনি সদরের আংশিক প্লাবিত হয়েছে। প্রতি ঘন্টায় নতুন নতুন ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। এসব এলাকার প্রায় অধিকাংশ মাটির দেয়ালের ঘরবাড়ী। ইতোমধ্যে মাটির দেয়াল চাপা পড়ে খাসেরাবাদ গ্রামের মৃনাল সরকারের স্ত্রী গুরুতর আহত হলে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসব এলাকায় কোন সাইক্লোন শেল্টার না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিবন্দী লোকজনকে মাটির ঘরেই বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। পানিবন্দী এসব এলাকায় রান্না করার মত জায়গা না থাকা বা জালানির অভাবে নারী, শিশু নিয়ে অধিকাংশ লোকজনকে অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে মাটির ঘরবাড়ি পড়ে যাওয়ার খবর অহরহ আছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পানি আসায় গতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। আশাশুনি সদর এলাকা রক্ষা করার জন্য মধ্যম বলাবাড়িয়া গ্রামের একটি কালভার্ট বন্ধ করে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

এছাড়া আদালতপুর গ্রামে একটি কেয়ার রাস্তায় মাটি দিয়ে উঁচু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্লাবিত এলাকায় অনতিবিলম্বে সুপেয় পানি, শুকনো খাবার ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা গ্রহণ করা অতীব প্রয়োজন বলে সময়ের দাবী হয়ে পড়েছে। এসব প্লাবিত এলাকার সমস্যা সমাধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা, শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা আবু হেনা সাকিল, সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স ম সেলিম রেজা মিলন সহ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাবৃন্দ। পানিবন্দি মানুষে খাবার পানির সংকট ও স্যানিটেশন সমস্যা নিরসন এবং দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মানসহ গো ও শিশু খাদ্য সংকট নিরসনে দ্রুত উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী প্লাবিত এলাকাবাসী।