আশাশুনির আনুলিয়ায় মদিনাতুল উলুম মাদরাসায় দুর্নীতি রোধে ১০ দফা দাবীতে মানববন্ধন


131 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির আনুলিয়ায় মদিনাতুল উলুম মাদরাসায় দুর্নীতি রোধে ১০ দফা দাবীতে মানববন্ধন
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::

আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের মদিনাতুল উলুম ফাজিল মাদরাসার দুর্নীতি, অনিয়ম ও পরিবারতন্ত্র বন্ধসহ সুষ্ঠু ভাবে মাদরাসা পরিচালনার স্বার্থে সোচ্চার এলাকাবাসী ১০ দফা দাবীতে মানববন্ধন পালন করেছে। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাদরাসার সামনে এলাকাবাসী প্রতিবাদ কর্মসূচি ও মানববন্ধন পালনকালে এ দাবীর কথা তুলে ধরেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য এনামুল হোসেন, আবু দাউদ সানা, ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুকুজ্জামান, আশরাফ হোসেন, ইউসুফ আলি প্রমুখ কর্মসূচি চলাকালে বলেন, মাদরাসাটি গুটি কয়েক দুর্নীতিবাজ ও ষড়যন্ত্রকারীর কারণে অচল হতে বসেছে। মাদরাসায় লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক আলোচনা, অনিয়ম বাস্তবায়নে পরিকল্পনা, সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র নিয়ে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকেন। সিনিঃ শিক্ষক জামায়ত নেতা মাওঃ আব্দুল মান্নানসহ ষড়যন্ত্রকারীরা মাদরাসাকে জামাত শিবিরের ঘাটিতে পরিণত করেছে। মাদ্রাসার সার্বিক কল্যান ও উন্নয়নের পক্ষের কিছু প্রকৃত জেনারেল ও হিন্দু শিক্ষকরা এখন মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেননা। ফলে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা খুবই নগন্য হয়ে পড়েছে। ইবতেদায়ী শিক্ষক মাওঃ তৈয়বুর রহমান অবৈধভাবে নিয়োগ নিয়ে এখন মাদরাসার পরিচালনা কর্ণধারে পরিণত হয়েছেন। তাদের পরিবারের ৭ জন এই প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে আছেন বা ছিলেন। তার মেঝ ভাই ঢাকা আলিয়ার ভাইস প্রিন্সিপ্যাল মাওঃ আবদুর রশিদ মাদারাসার ডিজি প্রতিনিধি হওয়ায় তার ক্ষমতার অন্তনেই। পরিবারের এলাহী বকস সরদার (তার বড় ভাই) অবঃ শিক্ষক, রাজাকার/ যুদ্ধপরাধী মামলার (নং ০৫/১১৩ তাং ১৪/০৮/০৯) আসামী। সেজ ভাই কারী মোঃ জাহাঙ্গীর অবঃ শিক্ষক, তিনি নিজে বর্তমানে কর্মরত (নাশকতা মামলা (১৮ তাং ২৯/০৬/১৮) আসামী, চাচাত ভাই নুর বকস সরদার অবঃ শিক্ষক, রাজাকার/ যুদ্ধপরাধী মামলা (নং ০৫/১১৩) আসামী, চাচাত ভাই আঃ হামিদ সরদার বর্তমানে কর্মরত, ফুফাত ভাই মোঃ রফিক কর্মরত, আপন ভাস্তি জামাই মোঃ ইব্রাহিম কর্মরত আছেন।
পারিবারিক শক্তি, ডিজি প্রতিনিধির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ ৭টি শূন্যপদে নিয়োগ দানের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সাথে সাথে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রার্থী চুড়ান্তকরণে কাজ করা হচ্ছে। এহেন দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধসহ মাদরাসার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রতিকার প্রার্থনা করে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাদরাসার সভাপতি এডিসি সাতক্ষীরা বরাবর গত ১৬/০১/২১ তাং লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে উক্ত তৈয়বুর ও মাওঃ রশিদ গং এডিসি মহোদয়ের কঠোর ভূমিকায় কার্যসিদ্ধি করতে পারেননি। ইতিপূর্বে মাদ্রাসার নিয়োগ দানের জন্য বিভিন্ন প্রার্থীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন করেন যাহা বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় পত্র পত্রিকায় রির্পোট হয়। বর্তমানে বিশেষ কৌশলে ভাই মাওঃ আব্দুর রশিদ, মাওঃ ওয়ালিউল্লাহ মাওঃ রবিউল, আঃ মালেক, নিজাম উদ্দিন গং স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সরকারী কর্মকর্তাদের যে কোন উপায়ে রাজি করিয়ে অবৈধভাবে নিয়োগদান সম্পন্ন করতে কাজ করে যাচ্ছেন। এমনকি অর্থের দাবী পুরনকরতে সম্মত এমন প্রার্থীদেরকে নিয়োগ অবশ্যই দেওয়া হবে এমন প্রচারের অভিযোগ এনে বক্তাগণ, অর্থের বিনিময়ে অবৈধ নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করা, নিয়োগদান স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিধি মোতাবেক সম্পন্ন করা, রাজাকার/যুদ্ধপারী সম্প্রদ্বায়ের সন্তানদেরকে নিয়োগ না দেওয়া, অবৈধ নিয়োগের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন, চার্জশিটভুক্ত নাশকতা মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, এবতেদায়ী সেকশনের ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা বিবেচনা করে কল্যাণকর সিদ্ধান্ত নেওয়া, অতি সত্ত্বর মিনিষ্ট্রি অডিট করান, মাদ্রাসায় রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা ও সরকার বিরোধী কার্যক্রম বন্ধ করাসহ বিভিন্ন দাবী জানিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

#