আশাশুনির আনুলিয়া পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বেহাল দশা


644 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির আনুলিয়া পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বেহাল দশা
মে ২৩, ২০১৭ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

গোপাল কুমার ::
আশাশুনির আনুলিয়া পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপযুক্ত শ্রেণীর কক্ষের অভাবে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। বেতন না পেয়ে মানবেতন জীবন যাবন করছেন বিদ্যালয়টির ৫ জন শিক্ষক কর্মচারী। সুপিয় জলের তীব্র সংকট। সরেজমিনে ঘুরে ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় উপজেলা আশাশুনি ইউনিয়নের বাসুদবেপুর গ্রামের জনসাধারণ জাতির জনক বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নারী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে স্থাপিত হয় বিদ্যালয়টি। অত্র বিদ্যালয়টি আনুলিয়া, প্রতাপনগর, শ্রীউলা ও খাজরা ইউনিয়নের মধ্যে ১টি মাত্র বালিকা বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টি ৩শত ৭৩ জন ছাত্রী অধ্যায়নরত আছেন। কিন্তু পর্যপ্ত শিক্ষার্থী থাকলেও নেই পাঠ দানের কোন উপযুক্ত শ্রেণী কক্ষ। বিদ্যালয়টিতে নেই কোন পাকা ভবন। স্কুল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে ও এলাকারবাসির সহযোগিতা ১টি এক চালা ও ২টি দুই চালা টিন সেটের ঘর নির্মাণ করে চলছে পাঠ দান কার্যক্রম। একদিনে প্রকৃতির খরতাপদাহ অন্যদিকে টিনের প্রচন্ড গরম মিলিয়ে অতিষ্ঠ শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। স্কুল ছুটি হলে হাফ ছেড়ে বাচেঁন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে বৃষ্টি মৌসুমে স্কুল মাঠ তলিয়ে যায় বৃষ্টির জলে। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা থাকেন চরম ভোগান্তিতে। সুপিয় জলের রয়েছে তীব্র সংকট। দুর থেকে আনতে হয় সুপিয় জল।
এদিকে প্রধান শিক্ষক সুকুমার বিশ্বাস জানান বতমান বিদ্যালটিতে মানবিক শাখার সহিত চলমান আছে বিজ্ঞান, কৃষি ও কম্পিউপার শাখা। যাহা ২০১১ সাল হতে স্থায়ী অনুমোদন লাভ করেছে। তিনি আরও জানান ২০০৯ সালে আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ এই বিদ্যালয় টিনের ছাউনি চাল সহ উড়িয়ে নিয়ে যায়। সরকারি কোন সহায়তা না পেয়ে নিজস্ব তহবিল থেকে মেরামত করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ভৌত অবকাঠামোগত অবস্থা নাজুক হওয়ায় ও প্রয়োজনীয় শ্রেণী কক্ষের অভাবে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।
প্রসঙ্গতঃ বিদ্যালয় ১৯৯৬ সালে স্থাপিত হলেও ২০০৫ সালে নি¤œমাধ্যমিক পর্যন্ত এমপিও ভুক্ত হয়। ২০০৭ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে স্বীকৃত লাভ করলেও  অদ্যবধি মাধ্যমিক পর্যালেয় কোন শিক্ষক কর্মচারী এপিও ভুক্ত হয়নি। এ কারণে বিদ্যালয়টিতে কয়েকজন শিক্ষক কর্মচারী বেনা বেতনে শ্রেণী পাঠদান অব্যহত রাখলেও তাদের অর্থ ভাগ্যের ঘটছে না কোন পরিবর্তন। বৃদ্ধ পিতা মাতা, সন্তান নিয়ে কাটাচ্ছেন মানবেতন জীবন যাবন। এলাকায় নারী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কোন প্রতিষ্ঠান না থাকায় ছাত্রীদের অভিভাবকদের দাবীতে কলেজিয়েটে উন্নীতকরণে শিক্ষা মন্ত্রালয়ে ২০১৬ সালে প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাথে মুঠফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
এসকল অভাব অনটন ও একাধিক সমস্যার সম্মুখিন হলেও পাবলীক পরীক্ষার পাসের হার কমেনি। জেএসটিতে ২০১৪ সালে ৮৮.৮৮%, ২০১৫ সালে ১০০% এবং ২০১৬ সালেও ১০০% সফতা অজন করেছে। এসএসসিতে ২০১৫ সালে ৮০%, ২০১৬ সালে ১০০% ও ২০১৭ সালে ৯৩.৭৫% সফলা অজর্ন করেছে। অপরদিকে  জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৬ সালে বিদ্যালয়টি উপজেলার শ্রেষ্ঠ বালিকা বিদ্যালয় হিসাবে খ্যাতিলাভ করেছে। নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি, পিটিএ কমিটি, সততা সংঘ, স্টুডেন্টটস কেবিনেট বিদ্যমান রয়েছে। বর্তমান বিদ্যালয়টির বিদ্যমান সংকট উত্তরণের জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভভাবকবৃন্দ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সহ মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।