আশাশুনির কুল্যা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রচার জমে উঠেছে


1009 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির কুল্যা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের  প্রচার  জমে উঠেছে
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৬ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,কে হাসান :
আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নে নির্বাচনের প্রচার বেশ জমে উঠেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ শুরুর পাশাপাশি ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঠ-ঘাট, অফিস-আদালত, দোকান-বাজার সর্বত্র চলছে এখন সমর্থন-মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে জোরালো ও রসালো আলোচনা।

এবার দলীয় প্রতীকের নির্বাচন হওয়ায় স্থানীয় নির্বাচনী আমেজে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা ও ভিন্ন স্বাদ। প্রার্থীরা ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির আশায় কেন্দ্র, জেলা ও উপজেলা শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের আর্শীবাদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যে বড় দু’টি দল তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনে অনেক পথ এগিয়ে গেছে। তবে উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থাকায় কে মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে কিছু দোদুল্যমান অবস্থা রয়েছে। মনোনয়ন কে পাবেন না পাবেন সেটি বিবেচনা থাকলেও প্রার্থীরা নিজেদের প্রার্থীতার বিষয়েও প্রচার শুরু করেছেন। অনেকেই বিলবোর্ড, প্লেকার্ড, ফেস্টুন, পোষ্টার টানিয়ে প্রচার শুরু করেছেন। কুল্যা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে। ভোটাররা এই ৬জনকে নিয়ে হিসাব নিকাশ করতে শুরু করেছেন।

চেয়ারম্যান পদ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন, বর্তমান চেয়ারম্যান, বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি সভাপতি এস এম রফিকুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, আওয়ামিলীগ নেতা, দৈনিক সাতনদী পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান, মানবাধিকার সাংবাদিক সোসাইটির জেলা সভাপতি, কুল্যা ইউনিয়ন পুলিশং ফোরামের সম্পাদক, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক এস এম দেলোয়ার হোসাইন, কুল্যা ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু সায়িদ ঢালী, কুল্যা ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও গাবতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল কুমার দাশ, সাবেক ব্যাংকার ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক সংসদের কুল্যা ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মাদ মাসুম আলী।

চেয়ারম্যান এস এম রফিকুল ইসলাম জানান, আমার ইউনিয়নকে একটি আর্দশ ইউনিয়ন হিসাবে রুপান্তরিত করার চেষ্টা করেছি, আমার কার্যকালে ইউনিয়নের সকল এলাকায় উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়ন করেছি। অনেক জায়গায় কাঁচা রাস্তা পাকা করার চেষ্টা করেছি। আমি পুনরায় নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের কোথাও কাঁচা রাস্তা থাকবে না। গুনাকরকাটি বাজারকে সর্Ÿোচ্চ আধুনিকায়ন করে গড়ে তুলবো। ইউনিয়নবাসীকে মাদকমুক্ত ও দালালমুক্ত ইউনিয়ন উপহার দেব। সমগ্র ইউনিয়নে বিদ্যুতায়ন করার ব্যবস্থা করবো, বাল্য বিবাহ মুক্ত একটা সমাজ উপহার দেব। গরীব অসহায় মানুষের চাওয়া পাওয়াকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবো।

চেয়ারম্যান প্রার্থী দৈনিক সাত নদীর সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, আমি ক্ষমতায় গেলে কুল্যা ইউনিয়নকে একটি আর্দশ ইউনিয়নে রুপান্তিরিত করবো। পানি নিস্কাশন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন ও মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়নে সহযোগিতা করবো। গরীর অসহায় মানুষের জন্য আমার দরজা সকল সময় খোলা থাকবে। বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার ব্যাপারে সরকারি নীতি অনুসরন করবো, মাঝে মধ্যে আমি আমার সাধ্য মত চেষ্টা করেছি ইউনিয়ন বাসিকে সাহায্য করার। নির্বাচিত হলে আমার ইউনিয়নকে একটি ডিজিটাল ইউনিয়ন হিসাবে গড়ে তুলবো।

এসএম দেলোয়ার হোসেন জানান, আমি নির্বাচনে এসেছি মানুষের সেবার জন্য, গরীব জনগনের অর্থ দিয়ে আমি ভোগ বিলাসিতা করতে চাই না, আমার পেটে ক্ষুধা নেই যে গরীবের হক আমি খাবো। আমি সাধ্যমত জনগণের সেবা করে চলেছি। নির্বাচিত হতে পারলে সন্ত্রাস মুক্ত করবো, ইউনিয়নে কোন দালাল থাকবে না। ইউনিয়ন বাসিকে একটা সুখি সমুদ্ধ সমাজ উপহার দেব।

মোঃ আবু সায়িদ ঢালী জানান, বর্তমান সরকারের সময় আমি নির্বাচিত হতে পারলে সরকারের পরিকল্পনার সাথে তাল মিলিয়ে আমার ইউনিয়নকে আর্দশ মডেল ইউনিয়ন হিসাবে উপহার দিতে পারবো। জনপ্রতিনিধি না হয়েও দীর্ঘদিন জনগণের পাশে থেকে সেবা দিতে চেষ্টা করেছি। নির্বাচিত হলে সকল ক্ষেত্রে জনগণের পাশে থাকবো।

পরিমল কুমারদাশ জানান, আমি নির্বাচিত হতে পারলে কুল্যাকে একটা শিক্ষা বান্ধব ইউনিয়ন হিসাবে গড়ে তুলবো। পাড়া মহাল্লার লোকজন যাতে নিরাপদে থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করবো। গরীর দঃখী মানুষ যাতে নায্য অধিকার পায় সে ব্যবস্থা করবো। তিনি বলেন দলীয় মনোনয়ন পেলে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করবো।

মোহাম্মদ মাসুম আলী জানান, আমি নির্বাচিত হতে পারলে ইউনিয়নকে একটা আদর্শ ইউনিয়ন হিসাবে গড়তে চাই। গরীব অসহায় মানুষ হবে আমার চলার সাথী।