আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীতে চলছে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন


389 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীতে চলছে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন
আগস্ট ২৮, ২০১৭ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

 

সৈয়দ সাদিকুর রহমান :
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর হিজলিয়া-ঘোলা খেয়াঘাট এলাকায় অবৈধ উপায়ে চলছে বালু উত্তোলনের কাজ। কখনো বা প্রভাব খাটিয়ে আবার কখনো বা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলে এ অবৈধ কার্যক্রম। আর বালু উত্তোলনের প্রভাব পড়েছে নদীর তীরবর্তী বাঁধে। বর্তমানে নদীর বাঁধগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হবে আশাশুনির প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের ২৪টি গ্রাম। তাছাড়া বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে প্লাবিত হবে আশাশুনি উপজেলার শতাধিক গ্রাম।
এদিকে, অবৈধ উপায়ে এই বালু উত্তোলন করছেন শ্যামনগর উপজেলার ঘোলা গ্রামের মৃত. আফসার গাজীর ছেলে আব্দুল জলিল ও মৃত. কানাই গাজীর ছেলে ইউনুচ আলী গাজী। বালু উত্তোলনের পর গড়ে তুলেছেন বালু বিক্রির রমরমা ব্যবসা। কখনো বা ট্রাকে আবার কখনো বা ট্রলিতে করে এসব বিক্রি করা বালু নিয়ে যাওয়া হয় কাশিমারি, জয়নগর, গোবিন্দপুর, ঝাপালি, শ্যামনগর, কালিকাপুর এলাকায়। এসব কথা জানান শ্যামনগরের ঘোলা গ্রামের আইজুদ্দীন গাজীর ছেলে রাজগুল ইসলাম।
একই গ্রামের অজিয়ার ঘোরামীর ছেলে আব্দুস সালাম জানান, গত দুই বছর ধরে এই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে চলেছে এই দুই বালু ব্যবসায়ী। তবে এখানে প্রশাসনের কোন নজরদারি নেই। শুনেছি প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই করা হয় এসব কাজ। এদিকে, বাঁধ গুলো সব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙ্গে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হবে।
যোগাযোগ করা হলে বালু ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল ও ইউনুচ আলী বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয়ভাবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই আমরা বালু উত্তোলন করি।
আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী হিজলিয়া এ খেয়াঘাট এলাকায় শত শত মানুষের অভিযোগ দীর্ঘ দুই বছর ধরে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রির এ কাজ করলেও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই প্রশাসনের। যখন বাঁধ ভেঙ্গে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হবে তখনই কেবল টনক নড়বে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের।
এসব কথা জানিয়ে আশাশুনি উপজেলার হিজলিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তাফার ছেলে গোলাম সরোয়ার আরো বলেন, আমাদের কথায় তারা এসব বন্ধ করে না। শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল নিজেই বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য একাধিক বার বলেছেন তবে কোন কর্নপাতই করেনি অবৈধ এই দুই বালু ব্যবসায়ী। আমরা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এদিকে, বিষয়টি অবগত করার পর জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দীন বলেন, অবৈধ উপায়ে যারা বালু উত্তোলন করে নদীর তীরবর্তী বাঁধগুলো হুমকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন আমাদের কাছে অভিযোগ আসা মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে আশাশুনির হিজলিয়া-ঘোলা খেয়াঘাট এলাকায় আব্দুল জলিল ও ইউনুচ আলী নামের দুইজন অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন করছেন এমন অভিযোগ আগে পায়নি। এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও আরো যারা অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন করছেন সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।