আশাশুনির তেঁতুলিয়ায় তান্ডবের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন


172 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির তেঁতুলিয়ায় তান্ডবের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন
আগস্ট ১০, ২০২০ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার তেুঁতুলিয়া গ্রামের তান্ডবের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আশাশুনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। রবিবার বেলা ১১ টায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বর্বরোচিত তান্ডবে সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তেঁতুলিয়া গ্রামের আবু হাসানের স্ত্রী রোজিনা খাতুন।
তিনি বলেন, শুক্রবার মাদ্রাসা ছাত্র নাজিমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেঁতুলিয়া গ্রামের রফিকুল সরদার, রবিউল সরদার, রুবেল সরদার, আলাউদ্দীনের নেতৃত্বে মসজিদে মাইকিং করে লোক জড়ো করে শতাধিক লোকজন দা, লাঠি, শাবল, হাতুড়ি নিয়ে আমার বাড়ী সংলগ্ন দোকানে হাজির হয়। এরপর শুরু হয় দোকানের সার্টার, জানালা ভাংচুর ও মালামাল লুটপাট। তারা ইট-পাটকেল ছুড়তে ছুড়তে বাড়ীর ভেতরে ঢুকে আমার মা কহিনুর বেগমকে মারপিট করে তার মুখে কালি লাগিয়ে দেয় এবং মারাত্মক আহত করে। হামলাকারীরা মায়ের টালির ঘর ভাংচুর করার পর আমার বিল্ডিংয়ের ছাদ, দুটি পানির ট্যাংকি, মটর সোলার, বৈদ্যুতিক মিটারসহ বিল্ডিংয়ের ভেতরে ৪টি রুমে থাকা যাবতীয় মালামাল লুটপাট ও ভাংচুর, চাউল ও পরিধেয় কাপড়-চোপড় নিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। মা কহিনুরকে সন্ধ্যায় লোকচক্ষুর আড়ালে সাতক্ষীরা সদরে চিকিৎসা নিতে যেতে হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই আমার মা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ওই দিন যদি থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে না আসতেন তাহলে প্রতিপক্ষরা আমাদের মেরেই ফেলতেন। এরপরও প্রতিপক্ষের প্রকাশ্যে হুমকি-ধামকি শুনে বাড়ী যাওয়া নিরাপদ না বিধায় গত দু’দিন ধরে আমি আমার শিশু ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ও আত্মীয়দের বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছি। আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। হামলাকারীদের তান্ডবে আমার সাজানো সংসারের যাবতীয় মালামাল ধ্বংস হয়ে গেছে। দুই দিন যাবত প্রায় এক কাপড়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বাড়ীতে পানি খাবার মত একটি গ্লাসও অবশিষ্ট নেই। যারা উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে আমাদের ক্ষতি করেছে আমি তাদের আইনানুগ শাস্তি চাই। হামলাকারীরা এখনও প্রকাশ্যে আমাদের প্রাননাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সঠিক তদন্ত পূর্বক প্রকৃত দোষীদের আইনানুগ শাস্তি ও রোজিনা খাতুনের পরিবারের নিরাপত্তার দাবী জানিয়ে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম কবির জানান, তেঁতুলিয়ার ভাংচুরের ঘটনা শুনেই ফোর্স নিয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসি। এ ঘটনায় রোজিনা বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ ২২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে ৬(৮)২০ নং একটি মামলা দায়ের করেছেন। কেউই আইনের উর্ধে নন। তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

#