আশাশুনির দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে শিঘ্রই রিং বাঁধের কাজ শুরু হবে : বিভাগীয় কমিশনার


368 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে শিঘ্রই রিং বাঁধের কাজ শুরু হবে : বিভাগীয় কমিশনার
আগস্ট ২৮, ২০২০ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

এস,কে হাসান,নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ
খুলনা বিভাগীয় কমিশানর মু, আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, আম্ফানের তান্ডবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে এবং পরবর্তীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির চাপে বেড়ী বাঁধ ও রিং বাঁধ ভেঙ্গে আশাশুনির ৪৮ গ্রামের ৮০ সহ¯্রাধিক মানুষ প্লাবিত হয়েছে। ৩ ইউনিয়নের অসংখ্য মৎস্য ঘের, শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ ও প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত মানুষ আশ্রয়ন কেন্দ্রে, রাস্তার উপরে ও বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে কষ্টকর জীবন যাপন করছে। এসব মানুষের দুর্গতি লাঘবে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। সুপেয় পানি সংকট, চিকিৎসা সেবাসহ সকল প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং যতক্ষণ প্রয়োজন করা হবে। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। আপনাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে সরকার সেনা বাহিনীকে দিয়ে বাঁধ রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। মূল বাঁধ বা ক্লোজারের কাজ এখনই সম্ভব হচ্ছেনা, নভেম্বর মাসের দিকে এ কাজ শুরু করা হবে। কিন্তু এভাবে তো প্লাবিতদের রেখে দেওয়া যাবেনা। তাই এখই রিং বাঁধের মাধ্যমে এলাকার বৃহত্তর জনগোষ্টিকে রক্ষার কাজ করা হবে। দু’ একের মধ্যে এ কাজ শুরু করা হবে। কেবল বাঁধ নির্মান নয়, সাথে সাথে কৃষি, মৎস্য’র ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার প্রনোদনার ব্যবস্থা করছে।

ঘরবাড়ি নির্মানে সহায়তার বিষয়টিও সরকার ভাবছে। বিভাগীয় কমিশনার বিশ^ পরিস্থিতির কথা বর্ণনা করে বলেন, করোনা বিশ^কে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ^ব্যাপী করোনার প্রভাবে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেছে। সরকারকে একলক্ষ কোটি টাকার বাজেট করতে হচ্ছে। এ ‘বালা’ থেকে রক্ষায় সরকার কাজ করছে। সাথে সাথে প্লাবনের বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। আমরা স্থানীয় জনগণের এবং দুর্যোগের সাথে সহাবস্থানে থেকে এলাকাকে টিকিয়ে রাখার কাজে অভিজ্ঞ জন প্রতিনিধিদের পরামশর্^ ও শক্তি কাজে লাগাতে চাই। তাই আপনাদের শক্তি ও পরামশর্^কে মাথায় রেখে আমরা বাঁধ রক্ষার কাজ এগিয়ে নিতে চাই। শুক্রবার দুপুর ৩ টার দিকে উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালীতে ভেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত মানুষদের উদ্দেশ্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

শ্যামনগর থেকে নদী পথে শ্রীউলায় এসে হাজরাখালী ভাঙ্গন কবলতি বাঁধের উপর প্লাবিত মানুষ ও সাংবাদিকদের সাথে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে বিভাগীয় কমিশনার আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এসময় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল, পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার, শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন, আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা, আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ গোলাম কবির, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আবুল হোসেন, পিআইও সোহাগ খান, শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল, আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এরআগে বিভাগীয় কমিশনার প্রতাপনগর ইউনিয়নের হরিষখালী, চাকলা ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

#

প্রতাপনগরে বার শ’ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে এক হাজার দু’শত পরিবারের মাঝে সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এ ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে ও আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিনিধি ট্যাগ অফিসার এস এম গোলাম মোস্তফার উপস্থিতিতে উপস্থিতে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ইউনিয়নের ১২০০ পরিবারের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ উদ্বোধন করেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ জাকির হোসেন। এসময় আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আনুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলমগীর আলম লিটন ও তাহার সহধর্মিণী এবং প্রতাপনগর ইউপি সচিব খায়রুল ইসলাম, ইউপি সদস্য / সদস্যা, গ্রাম পুলিশ, রাজনৈতিক ও গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন।