আশাশুনির নদী ভাঙনে দু’টি গ্রাম বিলুপ্ত প্রায়


474 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির নদী ভাঙনে দু’টি গ্রাম বিলুপ্ত প্রায়
অক্টোবর ২৯, ২০১৬ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আশাশুনি প্রতিনিধি :
আশাশুনি সদরের খোলপেটুয়া নদী শাসন করে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা না করে প্রতিবার পিছিয়ে বাঁধ দিতে দিতে দু’টি গ্রাম বিলুপ্ত প্রায়। উপজেলায় মাত্র একটি স্থানে (খাজরা বাজার সংলগ্ন)নদী শাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেখানে দৃশ্যমান সুফল হয়েছে। কিন্তু আর কোথাও সে ব্যবস্থা না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিভাবে গ্রামের পর গ্রাম বিলুপ্ত হতে দিচ্ছেন তা নিয়ে বানভাসিদের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সরজমিনে সদরের জেলেখালী ও দয়ারঘাট গ্রাম দুটিতে গেলে তারা জানান, মুলত ৯৩-৯৪ সালে খোলপেটুয়া নদীর বাঁকে প্রাকৃতিকভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়। ৯৫ সালে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় উপজেলা সদর সহ পাশের দুটি ইউনিয়ন। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে চাষ করতে পারেনি চাষীরা। জোয়ারের পানি আটকাতে  পিছিয়ে এসে বিভিন্ন সময় ৩টি রিং বাঁধ দেয়া হলে জেলেখালী গ্রামের মুল অংশ নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। একই ভাবে দয়ারঘাট গ্রামটিও বিলিন হয়ে গেছে। এসব গ্রামের মাত্র কয়েকটি করে পরিবার বাঁধের স্লোপে না হয় একটু ভেতরে বসবাস করছে। বাকি পরিবার গুলো অন্যত্র চলে গেছে, এমনকি অনেকে ভারতে পাড়ি জমিয়েছে। জেলেখালী গ্রামের ভারতে পাড়ি জমানো পরিবার তারক সরদার, নিরাপদ বাছাড়, প্রবীন বাছাড়, সুদান মন্ডল, সন্তোষ মন্ডল সুভাষ মন্ডল, কার্ত্তিক সরদার, দুখীরাম সরদার, দুখীরাম মন্ডল, রুপচাঁদ সরদার, বনমালী বাছাড়, শুশীল সরদার, ভবেন সরদার, নগেন্দ্র সরদার, কনেক মন্ডল, কাশীনাথ মন্ডল, তারক মন্ডল সহ দয়ারঘাট গ্রামের মধুসুদন রাজবংশী, কৃষ্ণপদ, সুভাষ, মতিরাম, বিমল, সন্ন্যাসী সহ আরো অনেকে।০৯ সালে আইলা পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটিতে আবার ভাঙন দেখা দেয়ায় বর্তমানে সেখানে আবারো বাঁধের ভেতরে মাটি ফেলে মেরামত কাজ চলছে। নদী ভাঙনও অব্যহত রয়েছে। ভেতরে মাটি দিলে জোয়ার-ভাটায় বাঁধটি আবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। ওয়াপদা স্লোপের মাত্র ৫ ফুটের মধ্যে হরিপদ বিশ্বাস নামে এক অসহায় পরিবার বসবাস করছে। তাদের আর পিছিয়ে যাওয়ার জায়গা নেই, ৬ ফুট পিছালে তারা উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। পাউবো কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০ বছর ধরে নদী শাসনের ব্যবস্থা না করে রিং বাঁধ দিয়েই তাদের দায়-দায়িত্ব শেষ করেছেন। প্রতিবছর চরম ঝুঁকিপুর্ন সময়েই তাদের আনা-গোনা শুরু হয়।কর্তৃপক্ষের এহেন আচরন ও কার্যক্রমকে বানভাসিরা যেন নিয়তি হিসেবে ধরে নিয়েছেন। এতে তাদের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা ও ক্ষোভ দিনদিন বেড়েই চলেছে। মাটির ভঙ্গুর কাজের জন্য বড়-বড় বরাদ্দের ব্যবস্থা না করে ব্লক দিয়ে নদী শাসনের ব্যবস্থা করে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন বানভাসি পরিবারগুলি। ###