আশাশুনির বিভিন্ন স্কুলে বেতের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছেনা !


287 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির বিভিন্ন স্কুলে বেতের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছেনা !
এপ্রিল ১৩, ২০১৯ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

*বুধহাটা কলেঃ স্কুলে দু’ছাত্রকে বেত্রাঘাত

স্টাফ রিপোর্টার ::

আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেতের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছেনা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক বেতের ব্যবহারে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।
সরকার কোন স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় লাঠির ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। কোমলমতি শিশুদের মনে ভীতি সঞ্চারের পরিবর্তে আদর, মমতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষা দানের ব্যবস্থাকে দৃঢ় ভাবে অটুট রাখতে নির্দেশনা রয়েছে। উপজেলার অনেক স্কুলে এই নির্দেশনা যথাযথ ভাবে মান্য করা হচ্ছেনা। ছাত্রদের উপর বেতের ব্যবহারের পাশাপাশি কঠোর ও কুরুচিপূর্ণ ভাষার ব্যবহার, ভীতিকর আচরণের অনুশীলন মাঝে মধ্যে হতে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উপর এমন আচরণ জানতে পেরে অভিভাবকরা যখনই প্রতিবাদ মুখর হন, তখনই কোন না কোন শক্তির ছোঁয়ায় আইনের কাছে যাওয়ার সুযোগ থাকেনা। তাই মানুষ গড়ার কারিগররা শিক্ষার্থীতের শাসন করার নামে ভুলে যান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলা কৌশলের ব্যবহার। খড়গ হস্তে নেমে যান অমানবিক শাসনের কাজে। এমনই একটি জঘন্য ঘটনা ঘটেছে শনিবার বুধহাটা বিবিএম কলেজিয়েট স্কুলে। স্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্র সেলিম রেজাকে সরাসরি বেতের আঘাতে শাসনের নামে করা হয়েছে কঠিন আচরণ। ১/২টি নয় ৭/৮টি বেতের আঘাদে জর্জরিত করা হয়েছে তার ২ হাতের বাহু, কবজি ও পিঠের দিকে। একই সাথে একই ক্লাসের অভিষেককেও ৪/৫টি বেত্রাঘাত করা হয়েছে। মারার সময় শিক্ষকের ঔদ্ধত্ব্যপূর্ণ আচরণ ক্লাসের সকল শিক্ষার্থীকে হতবাক করে দিয়েছে। মুখবুঝে সহ্য করেছিল কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সেলিম স্কুল ছুটির পর বাড়িতে গিয়ে কাউকে কিছু না বলে গায়ের জামা খোলার সময় তার মা লক্ষ্য করেন তার শরীরে রক্তজমা চিহ্ন। জিজ্ঞাসা করতেই বেরিয়ে আসে শিক্ষকের নির্মম আচরণের কাহিনী। তার পিতা আব্দার আলি মিস্ত্রী ছুটে আসেন স্কুলে। প্রধান শিক্ষক তখন স্কুলে ছিলেননা, পিতার চোখে মুখে ক্রন্দনের চিহ্ন ্দেখে অনেকে তার কাছে এসে হাজির হন। তিনি তার পুত্রকে কেন অমানবিক ভাবে মারা হলো জানতে চেয়ে যখন কাঁদছিলেন, তখন ঐ অমানবিক আচরণকারী শিক্ষকও সেখানে এসে পিতার প্রশ্নের উত্তর দিতে অক্ষম হয়ে কাকুতি মিনতি করেন। শিক্ষকের নাম যুগোল চন্দ্র দাশ। তিনি অংকের ক্লাস নেওয়ার সময় একান্ড ঘটান।
এই স্কুলে এটাই প্রথম নয়। এর আগেও অনেকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। জেলা শিক্ষা অফিসার পর্যন্ত ঘটনার তথ্য গেলেও শেষ মেষ অন্ধকারে নিভে গিয়েছিল অমানবিক আক্রমের শিকার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অভিযোগ। এছাড়া উপজেলার অনেক স্কুলে এমন ঘটনা ঘটে থাকে। কিন্তু অভিভাকরা প্রতিকার পাওয়ার জন্য এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত দফারফা করতে বাধ্য হচ্ছেন। এব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ বাকী বিল্লাহ জানান, শিক্ষকদের লাঠির ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বুধহাটা স্কুলে বেত্রাঘাতের কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।