আশাশুনির বিল বকচর সরঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে ভাসছে


130 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির বিল বকচর সরঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে ভাসছে
আগস্ট ২৯, ২০১৯ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

হাঠু-কোমর পানি ঠেলে স্কুলে যাতয়াত করতে হয়

এস,কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের ৬৭ নং বিল বকচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃষ্টির পানির চাপে টইটম্বুর করছে। বিদ্যালয়টি এখন পানিতে ভাসছে বলেলেও অত্যুক্তি হবে না। শিক্ষার্থীরা যাতয়াত করতে না পারায় স্কুল বন্দের উপক্রম হয়েছে।
বর্তমান যুগে স্কুলে যাতয়াতের পথ সম্পূর্ণ ভাবে পানিতে তলিয়ে থাকা, স্কুল চত্বর পানিতে তলিয়ে থাকা, হাটু ও কোমর পনি ঠেলে স্কুলে যাতয়াত করা হয় এমন পরিস্থিতি মেনে নিতে কষ্ট হয়। কিন্তু অবিশ^াস্য হলেও সত্য কঠিন নাজুক পরিস্থিতিতে চলছে বিল বকচর সরকারি প্রাইমারী স্কুল। ১৯৭১ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টির বিল্ডিং নির্মান করা হয় ১৯৯২ সালে। অফিস কক্ষসহ মোট ৪ কক্ষ বিশিষ্ট বিল্ডিং-এর অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়লে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দ প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ২০১৮-১৯ সালে সংস্কার কাজ ও প্রাক প্রাথমিকের অর্থায়নের কক্ষ সুসজ্জিত করা হয়েছে। দেখতে কিছুটা ভাল লাগলেও ভবনের অবস্থা শোচনীয়ই রয়ে গেছে। শিক্ষকের সংখ্যা ৩, শূণ্য পদ রয়েছে ২টি। তার পরও শিক্ষকরা অতিকষ্টে স্কুল পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু ভবনের দুরাব্স্থার পাশাপাশি বর্ষকাল আসলেই বিদ্যালয়টি পনিতে ভাসতে শুরু করে। স্কুলে যাতয়াতের পথ পানিতে নিমজ্জিত থাকায় শিক্ষকরা লুঙ্গি-গামছা পরে হাটু-কোমর পানিতে স্কুলে আসলেও শিক্ষার্থীরা পড়ে চরম বিপাকে। আষাঢ় মাস থেকে শুরু হয়ে আশি^স মাস পর্যন্ত ৪ মাস পানির ধকলে থাকতে হয় প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের। শিক্ষার্থীরা কখনো কোমর পানিতে বই হাতে, আবার কখনো গলা পানিতে বই মাথায় নিয়ে অভাবনীয় ভাবে স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করে। শিশু থেকে ২য় শ্রেণি ও ৩য় শ্রেণির অনেকেই স্কুলে আাসতে পারেনা। অভিভাকরাও তাদের ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠান বন্ধ করে দেয়। ফলে বছরের ৪টি মাস এ স্কুল বন্দের উপক্রম হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়টিতে বিল বকচর, ঢালীর চক দক্ষিণ পাড়া, বিল বুড়াখারাটি ও পুইজালার অংশ বিশেষের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করে থাকে। কিন্তু সকল গ্রামের শিক্ষার্থীরাই পানির ধকলের শিকার। স্কুলে যাতয়াতের প্রায় ১কিঃমিঃ সড়ক পনিতে তলিয়ে আছে। রাস্তার উপর পানিতে মাছ খেতে আসা সাপের উপদ্রবও সকলকে ভীত করে তুলেছে। পানির চাপ ঠেকাতে স্কুলের বারান্দায় ইটের গাঁথনি দিয়ে উচু করা হলেও শেষ রক্ষা হচ্ছেনা। স্কুলের ৩টি ল্যাট্রিন পনিতে তলানো। সুপেয় পানির ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। সবমিলে স্কুলটি সম্পূর্ণভাবে চালানোর পরিবেশ ধ্বংস হতে চলেছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিপংকর সরকার জানান, এলাকার পরিবেশ অনুযায়ী এখানে সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল বিল্ডিং নির্মান করা দরকার। স্কুল থেকে উভয় দিকে মাত্র ১কিঃমিঃ সড়ক উচু করে নির্মান করা হলে এবং মাঠ ভরাটের পাশাপশি সাইক্লোন শেল্টার নির্মীত হলে স্কুলের লেখাপড়া চালানোর পরিবেশ ফিরে আসবে। ক্লাস্টার অফিসার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহাজাহান আলি জানান, স্কুলের সার্বিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। স্কুলের চিত্র তুলে ধরে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে অবহিত করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবী সুদুর পল্লীর ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জন্য এই প্রতিষ্ঠান খুবই প্রয়োজনীয়। এখানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ও অতি জরুরী ভাবে সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন নির্মান এবং মাটি ভরাটের পাশাপাশি সড়কের উন্নয়ন খুবই প্রয়োজন। বিষয়টি সরকারি দপ্তর প্রধান ও জন প্রতিনিধিদের সুনজর দেওয়ার জন্য তারা বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

#