আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নে আগাম নির্বাচনী হাওয়া : ১১ চেয়ারম্যান প্রার্থী মাঠে


609 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নে আগাম নির্বাচনী হাওয়া : ১১ চেয়ারম্যান প্রার্থী মাঠে
অক্টোবর ১, ২০১৫ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

গোপাল কুমার, আশাশুনি :
আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নে পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ইউনিয়নের ১১টি চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে অর্ধশতাধিক  মেম্বর প্রার্থী। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঈদ ও পুজার শুভেচ্ছা বিনিময় ও নির্বাচনী প্রচারে মেতে উঠেছে প্রার্থীরা। ইউনিয়নের প্রাণ কেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী বড়দল বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে উপস্থিত হলেও মনে হচ্ছে এই বুঝি নির্বাচন। ইউনিয়নে মোট ১১টি চেয়ারম্যান প্রার্থীর পোষ্টার, ব্যানার ও ফেন্টুন দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও আরও চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে পারে বলে একাধিক সুত্রে জানা যাচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে ও তথ্যানুন্ধানে জানা যায়, এসকল প্রার্থীরা সকলেই আ’লীগ সমর্থিত ও নব্য আ’লীগে যোগদানকারী নেতা। তবে অনেক প্রার্থীর দলীয় স্বীকৃতি নেই। দলের জন্য তারা কোথাও কোন সহযোগিতা বা দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় না বলে অনেকেই  জানিয়েছেন।

নিম্মে প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো :
——————————————-

* বর্তমান চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম সানা। তিনি ৭নং ওয়ার্ডের বড়দল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে আওয়ামলীগ সমর্থক দাবী করলেও তার কোন দলীয় পদ নেই। তিনি নিজেকে আ’লীগ নেতা হিসাবে পরিচয় দিলেও তার কোথাও কোন দলীয় কার্যক্রমক্রম বা দলের দেখা যায়নি বলে এলাকাবসির দাবী। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করে বর্তমান ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী নির্বাচনী তিনি আবারও নির্বাচন করবেন বলে তিনি প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

* আব্দুর রহমান ফকির। তিনি ২নং ওয়ার্ডের গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বড়দল ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক। পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমান তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনী প্রচারে ও ঈদ ও পুজা শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যবস্ত সময় পার করছেন।

* আব্দুল হান্নান (মন্টু সরদার) তিনি ৪নং ওয়ার্ডের ফকরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তিনি বিগত নির্বাচনের পর থেকেই তিনি নির্বাচনী প্রচার ও জনসমর্থন আদায়ের প্রাণ পণ কাজ করে চলেছেন। এ ব্যাপারে তার সাথে কথা বললে তিনি জানান আমি চেষ্টা করছি অন্যায়, দুর্নীতিকে রুখে দিতে। অসহায় গবীর মানুষের সেবা করতে। এ সময় তিনি আরও জানান জনগণের কাছে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবী করেন।

* নব্য আওয়ামী লীগে যোগদানকারী, সাবেক চেয়ারম্যান রউফ গাজী। তিনি ৭নং ওয়ার্ডের বড়দল গ্রামের বাসিন্দা। বিগত দিনে তিনি বিএনপি সমর্থক ছিলেন। তিনি ইতি পূর্বে বড়দল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসাবে এক বার দায়িতও¡ পালন করেছেন। তার পর তিনি দু’দুই বার পরাজিত হয়ে তিনি আবারও নির্বাচনী কাজে ব্যবস্ত সময় পার করছেন।
* প্রায়ত চেয়ারম্যান এসএম ইউনুছ আলী সানার জামাতা, আব্দুল আলিম মোল্যা। তিনি বর্তমান ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি। তিনি কিছু দিন প্যানেল চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচনের লক্ষ্যে তার প্রচার ও জনসাধারণের সাথে কুশল বিনিময় করছেন।

* প্রায়ত চেয়ারম্যান এসএম ইউনুছ আলী সানার পুত্র, ইসলামুল হক টুটুল। তিনি জানান আমার পিতা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। উপজেলা আ’লীগের সিনিঃ সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন বড়দল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার পিতার সম্মান অক্ষুন্ন রাখনে আমি এই নির্বাচনে নেমেছি। নির্বাচনী সকল প্রচার জন গণের সমর্থন আদায় চেষ্টা করছি। তিনি ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

* শিক্ষক রবিউল ইসলাম, তিনি আ’লীগ সমথিত। বর্তমান তিনি বড়দল কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক। তিনি একজন আ’লীগের সক্রিয় কর্মী বলে তিনি দাবী করেন। সে মোতাবেক তিনি আসন্ন নির্বাচন কে সামনে রেখে নির্বাচনী সকল কাজে ব্যবস্ত সময় পার করছেন। তিনি জনগণের সমর্থন আদায়ের সকল প্রকার কার্যক্রম করে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবী করেন। তিনি ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

* আবুল কামাল সানা, তিনি সাবেক ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক প্রায়ত আব্দুল হান্নান সানার ভাইপো বলে তার বলে জানা যায়। তিনি নির্বচানী সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

* পরিতোষ কুমার রায়, তিনি নিজেকে আ’লীগের নেতা হিসাবে দাবী করেন। তার বর্তমান কর্মস্থল ঢাকার গন্ডারিয়া থানা। তিনি এলাকায় না থাকলেও ইউনিয়ণ পরিষদ নির্বাচন করবেন বলে বিগত সারদীয় দুর্গা পুজায় তার সকল প্রচার কার্য চালান।

* শফিকুল ইসলাম (শফি) ১নং ওয়ার্ডের বামনডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।  তিনি গত নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে প্রতিদন্দিদ্বতা করে পরাজয় বরণ করেন। আসন্ন নির্বাচনে তিনি আরও নির্বাচন করে বলে তার প্রচার কার্য চালিয়ে যাচ্ছেন। উক্ত প্রার্থীর সাথে কথা বলা সম্ভয় হয়নি তবে তার ব্যানার থেকে জানা যায়, তিনি একজন আ;লীগ সমথির্ত প্রার্থী। তার ব্যানারে আ’লীগের প্রতিক নৌকার ছবি ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাগণের ছবি দেখা যায়।

* আব্দুল কাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা তিনি ২নং ওয়ার্ডের গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিবার্চন করবেন বলে বিভিন্ন এলাকায় পোষ্টার দেখা যাচ্ছে। উক্ত প্রার্থীর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে অনেকে আমাদের এ প্রতিবেদনকে জানান চেয়ারম্যান ও মেম্বর নির্বাচিত হয়ে তারা জনগণের স্বার্থ না দেখে নিজ পটেক ভরেন। তারা সেবার নীতি নয় পেট নীতিতে বিশ্বাসী। এলাকার উন্নয়ন সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তারা অভিযোগ করে বলেন আ;লীগের আমলে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও আমাদের বড়দল ইউনিয়নে তার কোন ছোয়া লাগেনি। সে কাজ গুলো হয়েছে সে গুলো গতানুগতিক। এলাকার রাজনৈতিক ও সুধীজন মনে করেন অতিথি পাখির মত এসব প্রার্থীদের আর্ভিরভাব হলেও সময়কালে অনেকে প্রার্থী লা-পাত্তা হয়ে যাবেন। চেয়ারম্যান প্রার্থী সংখ্যা বেশী হওয়ায় বাজারের চায়ের দোকানে বেশ আলোচনার ঝড় বয়ে চলেছে। তাদের মধ্যে মৃদু হাসিও লক্ষ্যনীয়।