আশাশুনির মরিচ্চাপ ব্রীজ যেন মরণ ফাঁদ, কর্তৃপক্ষ উদাসীন


508 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির মরিচ্চাপ ব্রীজ যেন মরণ ফাঁদ, কর্তৃপক্ষ উদাসীন
এপ্রিল ১২, ২০১৬ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

গোপাল কুমার, আশাশুনি ব্যুরো ঃ
আশাশুনি মরিচ্চাপ ব্রীজটি মানেই মরণ ফাঁদ। যে কোন মুহুর্তে ঘটে যেতে পারে বড়ধরণের কোন দুর্ঘটনা। অসহায় পথচারী! ব্যর্থতা মেনে নিচ্ছে উপজেলা বাসী। এক যুগ পার হতে যাচ্ছে ব্রীজটি ঝালাই আর পট্টিতে। প্রশাসনের নাকের ডগায় অবস্থি এই জনগুরুত্বপূর্ণ মরিচ্চাপ ব্রীজটি। কর্তৃপক্ষের উদসীনতায় এ যেন অভিভাবকহীন একটি সম্পদ, যার দেকভাল করার কেহ নেই। সকল পাটাতনই ছোট বড় গর্ত হয়ে গেছে। ঝালাই আর পটি মেরে চলার শক্তিও হারিয়ে ফেলে বর্তমানে ব্রীজটি মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। তিন চাকার যানবাহনতো দুরের কথা যাত্রীবাহী বাসও চলাচল বন্ধ প্রায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি-চাপড়া উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মরিচ্চাপ সেতুটি কিছু অংশ প্রায় বিনষ্ট  কিছু অংশ দুমড়ে-মুচড়ে, ছিড়ে-ছুটে গেছে। চায়না তৈরী পার্টই মূল পাটাতন (প্লেট) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুরোটাই লোহার রড, পাতি ও পরিত্যাক্ত প্লেট দিয়ে ঝালাই আর পটি মেরে চলছে কোন রকম। যার ভার বহন ক্ষমতা অত্যান্ত রুগ্ন প্রায় সময় দেখা যায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হলে মালবাহী যানবহন,  মোটর সাইকেল, ভ্যান ও সাধারণ মানুষ উক্ত গর্তে পড়ে আহত ও রক্তাক্ত জখম হয়। বিগত দিনে উক্ত ব্রীজ ঠেকাদারের মাধ্যমে মেরামত করা অত্যান্ত নিম্ন মানের প্লেট ব্যবহার করে পুকুর চুরি করা হয়েছে। লোনা এলাকা বিধায় তাতে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। এরপরও গত ২/৩ মাস পূর্বে সড়ক ও জনপদ বিভাগ নিজ দায়িত্বে জাহাজের পরিত্যাক্ত লোহার কোন বিট ছাড়া প্লেট দিয়ে ঝালাই পটি মারলেও বর্তমান পূর্বের ন্যায় প্লেট গুলো সব দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে চুরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। উক্ত ব্রীজের উপর দিয়ে প্রতিদিন ২০/৩০ হাজার লোক যাতায়াত করে থাকে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রীজটি আশাশুনি বাসীর জন্য এখন যেন মরন ফাঁদ হয়ে দাড়িয়েছে। সন্ধ্যার পরে বৈদ্যুতিক কোন লাইটের ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষের পায়ে হেটে চলাটা অত্যান্ত বিপদজনক হয়ে দাড়িয়েছে। প্রায় সময় দেখা যায় রাতের বেলা পথচারীরা দুমড়ে-মুচড়ে ও ভেঙ্গে-চুরে গর্ত হয়ে যাওয়া প্লেটের ভেতরে পা ঢুকে রক্তাক্ত জখম হয়। এমনকি ১০/১২ টি সেলাইও দিতে হয়েছে অনেক আহত পথচারীর। কোন বাস, ট্রাক বা ভারী কোন যান বাহন চলাচল করার সময় ব্রীজ তলমল করে দুলতে থাকে, কারণ ব্রীজের বহু নাট-বোল্ট নড়বড়ে হয়ে গেছে। । ব্রীজটির খবর দৈনিক কালের চিত্রে ফলাওকরে খবর প্রকাশ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ কয়েকবার দায়সারা মেরামত করতে দেখা গেছে। তাই অবহেলিত হতভাগ্য উপজেলাবাসী সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপে সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে উক্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটি নতুন করে ঢালাই ব্রীজ নির্মাণ করে মরণ ফাঁদ থেকে রেহাই পাওয়ার জোর দাবী জানিয়েছেন। #