আশাশুনির শোভনালীতে চলছে বালি উত্তোলনের রমরমা ব্যবসা


121 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির শোভনালীতে চলছে বালি উত্তোলনের রমরমা ব্যবসা
জুন ৩০, ২০১৯ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বাটরা নৌয়াকাটি গ্রামে মেশিনের মাধ্যমে বিভিন্ন নদী, মৎস্যঘের ও খাল থেকে যত্রতত্র মাটি বালু উত্তোলন করে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি চলছে বাড়ির আঙ্গিনার জমি ভরাট করে জমজমাট পোলাটিং ব্যবসা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশাসনের নাকের ডগায় দেদারছে এব্যবসা চালিয়ে আসলেও যেন দেখার কেউ নেই। ফলে প্রতিনিয়ত তীব্র নদী ভাঙ্গনে ফসলী জমি, বিল-ডাঙ্গায় জমি ধ্বসে/বসে দিয়ে লোকালয়, বসত বাড়ি, বেড়ী বাঁধসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, চাম্পাফুল ও শোভনালী ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকার অসাধু কতিপয় ব্যক্তি বিভিন্ন খাল থেকে অবৈধ ভাবে আত্মঘাতী স্যালো বা ড্রেজার মেশিন দিয়ে নিজেদের সুবিধামত মাটি ও বালু উত্তোলন করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। আবার কেউ কেউ কৃষি জমি ভরাট করে চালিয়ে যাচ্ছে জমজমাট পোলাটিং ব্যবসা। ফলে কৃষি জমির পরিমানও দিন দিন কমে আসছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে দেদারচ্ছে এব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। এতে নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে প্রতিনিয়ত গাছপালা, বসত বাড়ী ও ফসলী জমিসহ পাউবোর বেড়ী বাঁধ নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। ওই সব অসাধু ব্যক্তিরা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে সড়ক, স্কুল-কলেজের মাঠ ভরাটসহ বিভিন্ন স্থাপনার কাজে প্রতি ঘনফুট দুই থেকে আট টাকা দরে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। কোন কোন স্থানে আবার রাস্তার উপর ইট, বালু ও খোয়া দিয়ে পাইপ বসিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বালু উত্তোলনের ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘœ সহ দূর্ঘটনাও ঘটছে। এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মাটির নিচের স্তর ফাঁকা হওয়ার কারনে ভূমিকম্পে এসব এলাকা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এমন আশংঙ্কাও করছেন এলাকার সচেতন মহল। এদিকে কথিত ঠিকাদার বা ব্যবসায়ীরা উত্তোলিত নিম্ন মানের বালু দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনার কাজ। অপরদিকে মাটি ও বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত কথিত ওই সব ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ হলেও কখনো প্রতিকার হতে দেখা যায়নি। তাই বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গৃহীত হয় তার বিহিত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল ।

#