আশাশুনির হত্যার মামলার আসামী কর্তৃপক্ষ বাদীকে হত্যার হুমকি : প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন


350 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির হত্যার মামলার আসামী কর্তৃপক্ষ বাদীকে হত্যার হুমকি : প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৬ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
হত্যা মামলা দায়ের করে আসামী পক্ষের হুমকিতে ভীত জিবন যাপন করছে বাদী পক্ষ। মামলা তুলে না নিলে ভাইয়ের মত একই ভাবে বোমা মেরে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে একাধীক মামলার আসামী ক্যাডার রুহুল কুদ্দুস। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অভিযোগ করেন আশশুনি উপজেলার গদাইপুর গ্রামের আমিন উদ্দীন ফকিরের ছেলে সাহাজউদ্দীন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দলীয় আধিপত্য কে কেন্দ্র গদাইপুর এলাকায় কথিত আওয়ামীলীগ নেতা রুহুল কুদ্দুস এর সাথে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক আমার বড় ভাই আশরাফ আলী ফকিরের বিরোধ চলে আসছিলো। এর সূত্র ধরে ২০১৪ সালে ২৮শে মার্চ কুদ্দুস তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রকাশ্যে বোমা মেরে ও কুপিয়ে আমার ভাই আশরাফ আলী ফকির কে হত্যা করে। এরপর আশাশুনি থানা কুদ্দুসসহ ৪২ জন কে আসামী করে বিষস্ফোক দ্রব্য আইনের আওতায় ৩/৪ ধারা মোতাবেক একটি মামলা রেকর্ড করা হয়। পরবর্তীতে ওই মামলাটি দুটি ভাগে ভাগ হয়। একটির পুলিশ বাদি হয়। অপরটির বাদি আমি। ধারা প্যানেল কোড ৩০২/৩৪। এরপর থেকে ওই সন্ত্রাসীদের কু-নজর পড়ে আমার উপর। এদিকে কুদ্দুস বাহিনী হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে বলছে মামলা তুলে না নিলে তোর ভাই কে যেভাবে হত্যা করেছি, তোকেও সেভাবে হত্যা করবো। আসামীরা ৩১ জানুয়ারী’১৬ সন্ধ্যা শহরের মুন্সিপাড়া এলাকায় আমাকে একা পেয়ে তারা আমার পথরোধ করে। এসময় বলে যে তুই মামলা তুলে নিব। আর যদি কোর্টের সামনে পাই তাহলে তোকেও তোর ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে দেবো। এঘটনায় আমি ৩১ জানুয়ারি‘১৬ তারিখে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি যার নং ১২৭৪। এছাড়া এর আগে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে সর্বমোট ৮৫টি মামলা রয়েছে। যে মামলা গুলোর কারনে ৩ বার ইতোমধ্যে তার ডিটেনশান হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কুদ্দুস প্রথম জীবনে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির দল করে। এরপর ২০০৮ সালে সাবেক এমপি ডা: মোখছেুর রহমানের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামীলীগের যোগদান করেন তিনি। তারপর থেকে কুদ্দুসের দাপট বেড়ে যায়। তার দাপটে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। বর্তমানে আওয়ামীলীগের ছায়াতলে থেকে জামায়াতের বিভিন্ন কর্মকান্ডে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন সে দলের ছত্রছায়ায় থেকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়।
এব্যাপারে কুদ্দুসবাহিনীর ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা ও ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশি¬ষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।