আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিমের পিতা ছিলেন রাজাকার !


1048 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিমের পিতা ছিলেন রাজাকার !
আগস্ট ১৬, ২০১৮ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

* মোস্তাকিম ও তার দোসর জামায়াত-বিএনপি মিলে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের চেষ্টা !

* সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে দুই মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ

* চেয়ারম্যান ডালিমের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার

॥ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি ॥

আশাশুনির হিতাইলখালি বিলের ৯৫ বিঘা জমির এসএ রেকর্ড ও মাঠ জরিপের মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হুদার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে জামায়াত ক্যাডার আনারুল ও তার বাহিনী। এই লক্ষ্যে ২৫ মামলার আসামি আনারুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ হোসেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলন করে খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিমের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছেন। আর এর নেপথ্যে রয়েছেন আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান, জামায়াত-বিএনপির দোসর এবিএম মোস্তাকিম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন আশাশুনির গদাইপুরের দুই মুক্তিযোদ্ধা রইচউদ্দিন সরদার ও ইবাদুল মোল্লা। তারা বলেন এই দখল চেষ্টার বিরুদ্ধে শামসুল হুদার পক্ষে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে গত ৭ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। তার জবাবে আনারুলের ছেলে ফরহাদ খাজরা ইউপি চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে নানা কথা বলেছে। সংবাদ সম্মেলনে দুই মুক্তিযোদ্ধা বলেন চেয়ারম্যান ডালিমের বাবা মোজাহারউদ্দিন ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ব্যক্তি। ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালিন সময়ে তিনি নৌ কমান্ডো রহমতুল্লাহ দাদুর সাথে ছিলেন। তার পরিবারের সব সদস্যই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের লোক। চেয়ারম্যান ডালিমের চাচাতো ভাইসহ ৯ জন মুক্তিযোদ্ধা।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন শাহনেওয়াজ ডালিম বারবার খাজরা ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ছাত্র জীবনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে ছাত্রলীগে যোগ দেন। এখন তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে তিনি ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক। তারা আরও বলেন ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি জামায়াতের প্রার্থীকে দাঁড় করিয়ে নৌকার বিপক্ষে উসকে দেন। নির্বাচনের পর মোস্তাকিমের পেটুয়া বাহিনী বলাবাড়িয়া এলাকায় নিরীহ গ্রামবাসীকে মারপিট ও তাদের ঘরবাড়ি ভাংচুর করে। তার অত্যাচারে জীবন বাঁচাতে ডা. সুশীল চন্দ্র দেশ ত্যাগে বাধ্য হন।

২০০৪ সালে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী এবিএম মোস্তাকিম বিভিন্ন সময়ে জামায়াত ও বিএনপিকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে আশাশুনির আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা করিয়েছেন। ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর পুলিশের গোয়েন্দা রিপোর্টে ৬১৪৭ স্মারকে বিএনপির পৃষ্ঠপোষক হিসাবে এবিএম মোস্তাকিমের নাম উল্লেখ করা হয়। এই মোস্তাকিম ২০০১ সালে সোনার দাঁড়িপাল্লা বুকে বেঁধে জামায়াতের পক্ষে নির্বাচন করেন। তার পিতা মো. মহিউদ্দিন ১৯৭১ সালে পিস কমিটির আশাশুনি উপজেলা নেতা ছিলেন। এখনও উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম জামায়াত ও বিএনপির পক্ষ নিয়ে শাহনেওয়াজ ডালিমসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের হয়রানি করছেন বলে উল্লেখ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে দুই মুক্তিযোদ্ধা সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষন করে উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিম ও তার দোসর আনারুল মোল্লার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।

———————————
এবিএম মোস্তাকিমের বক্তব্য :
———————————
এ ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে আজ পর্যন্ত আমি কোন পক্ষেই কথা বলিনি। আমার পিতা কখনো যুদ্ধাপরাধি ছিলেন না। তিনি পিস কমিটি কখনও করেননি। তিনি আমাদের জম্মের আগে থেকেই চাকরির সুবাদে খুলনাতে থাকতেন। এলাকায় আসতেন না। আর চেয়ারম্যান ডালিমের পিতা মোজহার সরদার একজন রাজাকার ছিলেন। তার পিতার নামে আশাশুনি থানায় যুদ্ধাপরাধীর মামলাও রয়েছে। ডালিমের অন্যান্য ভাইরা সবাই জামায়- বিএনপি করে। তার মা আছিয়া খাতুন মহিলা জামায়াতের রোকন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সব চেয়ে বেশি বরাদ্দ এসেছে ডালিমের ইউনিয়নে। তার কোন কাজই হয়নি। আমি মাঝে মধ্যে তার এসব দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছি। আর এ কারনেই আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন সামনে নির্বাচন। আমি এমপি প্রার্থী। এই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে এটা একটি প্রবাকান্ড চালানো হচ্ছে।