আশাশুনি থানার এএসআই আবু রাসেলের কান্ড !


1874 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি থানার এএসআই আবু রাসেলের কান্ড !
জুন ৫, ২০১৭ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::
আশাশুনি থানার এএসআই আবু  রাসেলের বিরুদ্ধে নিজেই মোবাইল কোর্ট বসিয়ে উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়ৎ থেকে জরিমানার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। উপজেলার মৎস্য ব্যবসায়ী, আড়ৎদার ও চাষীদের মধ্যে নেমেছে হতাশার ছোয়া।

অভিযোগ সূত্রে বিভিন্ন মৎস্য আড়তে গিয়ে জানা যায়, এএসআই আবু রাসেল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়তে গিয়ে বাগদা চিংড়ীতে পুশ করা অবস্থায় ব্যাপারীদের আটক করে পরে তাদেরকে থানায় না নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মোটা অংকের জরিমানার টাকা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে,যার কারণে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।

শনিবার সকালে উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের কাদাকাটি হাজীরহাট মৎস্য আড়তে বাগদা চিংড়ী পুশ করার অভিযোগ পাওয়া গেলে এএসআই আবু রাসেল মৎস্য আড়তে অভিযান চালিয়ে পুশকৃত বাগদা চিংড়ী আটক করে।

কিন্তু আটকের পর পুশকৃত বাগদা চিংড়ী সাড়ে ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

এব্যাপারে মৎস্য ব্যবসায়ী নওয়াপাড়া গ্রামের পঞ্চানন নাথ চিংড়ীতে পুশের কথা স্বীক্ষার করে বলেন আশাশুনি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে পুশকৃত মাছ আটক করেছিলো কিন্তু তার পর কি হয়েছিলো আমি জানিনা। আপনারা আড়ৎদারের সাথে কথা বলেন।

আড়ৎদার কাদাকাটি গ্রামের মোঃ শাহিন রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বাগদা চিংড়ীতে পুশ করার সময় আশাশুনি থানা পুলিশের এএসআই আবু রাসেল অভিযান চালায়। এসময় সাড়ে ১২হাজার টাকায় তৎক্ষনাত ভাবে বিষয়টি মিমাংসা হয় ও মাসিক ১০হাজার টাকা থানাকে দিতে হবে বলে তিনি জানান।

সূত্র আরো জানায় উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের পাইথালী মৎস্য আড়তে ২৫মে বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে ব্যাপারী সুকুমারকে হ্যান্ড ক্যাপ পরিয়ে আটক করে। সুকুমার জানান আটকের পর স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ড মেম্বর আলতাফ হোসেন সানা, পুলিশিং কমিটির সভাপতি বিজন দে ও আড়ৎদারদের মাধ্যমে তৎক্ষনাত ভাবে ৪০হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মিমাংসা করে আমাকে মুক্ত করে।

অন্যদিকে মাহে রমজানের আগের দিন উপজেলার সোভনালী ইউনিয়নের বসুখালীতে আইয়ুব আলীর পুত্র জাহাঙ্গীরের বাড়ী চিংড়ীতে  পুশ করা অবস্থায় তাকে সহ মাছ আটক করে। এসময় স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ড মেম্বর ফারুক হোসেনর বড়ভাই আজিবর হোসেন ও সাবেক মেম্বর শাহবাজ পিয়াদা এর মাধ্যমে ৩০হাজার টাকা জরিমানার নামে আত্মসাত করে বলে জানান জাহাঙ্গীর।

 

এসময় জাহাঙ্গীরের নিকট থেকে কোন টাকা নেওয়া হয়নি বলে আবু রাসেল তার নিকট থেকে জোর করে লিখিত নেয়। এর আগেও একই গ্রামের রায়সুল ইসলামের বাড়ী থেকে একই ভাবে নগদ ৭০হাজার টাকা ও বিশ কেজি খাওয়ার মাছ আদায় করে। এমনি কিছু ফোন রেকর্ড সাংবাদিকদের হাতে এসেছে।

এব্যাপারে এএসআই আবু রাসেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন আমি কিছুই জানিনা।

বিষয়টি নিয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন যদি কেউ  চিংড়ী মাছে অপদ্রব্য পুশ করে এবং এমন তথ্য উপজেলা প্রসাশন জানতে পারে তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অথবা উপজেলা মৎস্য অফিসার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদেরকে সাজা দিবেন।

কিন্তু থানা পুলিশ যদি বেআইনি ভাবে পুশ করা মাছ ও আসামী ছেড়ে দেয় এবং তা প্রমান হয় তবে তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

##