আশাশুনি সংবাদ ॥ অসুস্থ ৭ ব্যক্তির একজনের চির বিদায়


421 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি সংবাদ ॥ অসুস্থ ৭ ব্যক্তির একজনের চির বিদায়
অক্টোবর ১৪, ২০১৮ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস কে হাসান ::
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের কুঁন্দুড়িয়া গ্রামে একই পরিবারের অসুস্থ ৭ ব্যক্তির মধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি অইন্না ইলায়হি রাজেউন)। মৃতব্যক্তি পরিবার প্রধান আঃ হামিদ গাজী (৬৫)।
মৃত করিম গাজীর পুত্র হামিদ গাজী (৬৫) ৬ মাস আগে থেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার স্ত্রী আমেনা বেগম (৫৫) ২ বছর আগে থেকে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি ক্যান্সারের রোগি। তাদের ৫টি সন্তান আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫), হাফিজুল ইসলাম (২৬), সাইফুল ইসলাম (২০) এবং কন্যা হালিমা খাতুন (৩২) ও ফাতেমা খাতুন (২৫) সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের করুন চিত্র তুলে ধরে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন ও ফেসবুকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। উপজেলায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলে জেলা প্রশাসক মহোদয় নির্দেশনা মত ইউএনও মাফফারা তাসনীন, ইউএইচএ ডাঃ অরুন ব্যানার্জী, ইউপি চেয়ারম্যান আবম মোছাদ্দেক ও একদল সাংবাদিককে নিয়ে শনিবার তাদের বাড়িতে গমন করে বিস্তারিত খোজ খবর নেন। তাদের চিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ১০ হাজার এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু সাহায্যের টাকা হামিদ গাজীর পিছনে ব্যয় করা লাগলোনা। রবিবার বিকালে তিনি ইন্তেকাল করেন। এদিন বাদ মাগরিব নামাজে জানাযা শেষে তার দাফন করা হয়।
প্রসঙ্গত, যারা তাদের পাশে দাঁড়াতে চান তাদেরকে মোবাইল ০১৭৮৫৭৫৮৪০১ নম্বরে যোগাযোগ করতে পরিবার ও গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানান হয়েছে।
##

আশাশুনিতে দ্বিতীয় স্ত্রী কতৃক স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারনার অভিযোগ

এস কে হাসান ::
আশাশুনি উপজেলার কুল্যা গ্রামে দ্বিতীয় স্ত্রী কতৃক স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীতে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও বুধহাটা আঞ্চলিক প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে বসুখালী গ্রামের জিয়ারুল ইসলাম গাজীর কন্যা শারমিন সুলতানা জানান, তিনি গুনাকরকাটি গ্রামে তার ভগ্নিপতি রিয়াজুলের বাড়িতে আসা যাওয়ার সুযোগে বাজারে সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর কবির বাদশার সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুত্রধরে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে রাজী হয়। তারা মা-বাবা, বোন দুলাভাইদের অনুমতি ছাড়া প্রায় ৩ বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে জানতে পারে স্বামীর আরেক বিয়ে ও সন্তান-সন্তুতি আছে। বিয়ের পর তাকে নিজের বাড়িতে না নিয়ে বদরতলাসহ বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় রাখা হতো। এক বছর পূর্বে স্বামী জোরপূর্বক তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে। বর্তমানে তারা ইটাগাছায় কোহিনুরের বাড়িতে ভাড়া থাকে। ২০ সেপ্টেম্বর সে পিত্রালয়ে চলে আসে এবং সে ৩ মাসের অন্তঃসত্বা। তার সন্তান পুনরায় নষ্ট করতে স্বামী চাপ প্রয়োগ করছে এবং সাথে সাথে তার পিত্রালয় থেকে ২ লক্ষ টাকা আনিয়ে দিতে মানসিক চাপ প্রয়োগ করছে। এব্যাপারে আইনগত প্রতিকার দাবী করে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরের সাথে মোবাইলে (০১৭১২৮৪৩১২০) যোগাযোগ করা হলে পরে কথা বলবে বলে লাইন কেটে দেওয়া হয়।
##

কুল্যা চেয়ারম্যান রফিকের বোনের ইন্তেকাল

এস কে হাসান ::
আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউপি চেয়ারম্যান এস এম রফিকুল ইসলামের মেঝ বোন ফাতেমা খাতুন (৬৪) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি অইন্না ইলায়হি রাজেউন)।
ফাতেমা খাতুন এর বিয়ে হয় দুর্গাপুর গ্রামের এমদাদুল হকের সাথে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ কুল্যা ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে পিত্রালয়ে বসবাস করেন। শনিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মৃতকালে তিনি ২ পুত্র ও ৩ কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। আগামী মঙ্গলবার বাদ জোহর মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়ানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
##

মরহুম গোলদার জলিল স্মৃতি ফুটবল ফাইনাল অনুষ্ঠিত

এস কে হাসান ::
এইচ এম এস পল্লী উন্নয়ন মাঠে মরহুম গোলদার জলিল স্মৃতি ৮ দলীয় ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকালে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এইচএমএস পল্লী উন্নয়ন সংঘের আয়োজনে খেলায় হাজরাকাঠি ফুটবল একাদশ ২-১ গোলের ব্যবধানে দাদপুর ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। আতাউর রহমান গোলদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, এড. মোস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, খেশরা ইউপি চেয়ারম্যান রাজীব হোসেন, আ’লীগ নেতা প্রনব ঘোষ বাবুল, সরদার মশিউর রহমান, খোরশেদ আলম, শামছুর রহমান মেম্বার। খেলা পরিচালনা করেন আবু ওয়াহিদ। সহকারী রেফারী ছিলেন বরুন ও পশুপতি। ধারাভাষ্যে ছিলেন সিরাজুদ্দৌলা ও সজীব।
##

প্রতাপনগরে নাশকতা মামলার আসামীর দৌরাত্ব্য

এস কে হাসান ::
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে নাশকতা মামলার আসামী বাবুল গাজীর দৌরাত্বে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া গ্রামের ইব্রাহিম গাজীর পুত্র বাবুল গাজী এলাকার জামাত-শিবির চক্রের সক্রিয় সদস্য। ২০১৩ সালে এলাকায় যত মিছিল মিটিং ও নাশকতার সৃষ্টি হয়েছে সবকিছুর সাথে তার সম্পৃক্ততা ছিল। ৫/১১/২০১৩ তাং তাকে ৩৪ নং আসামী করে নাশকতা মামলা নং ০৩ রুজু করা হয়। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপন করলেও মাদক দ্রব্যসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে তিনি নিজেকে ছাত্রলীগের জেলা কর্তা/কর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান, সে এলাকায় জামাত-শিবিরের তান্ডবের সাথে সরাসরি জড়িত। নাশকতা মামলার আসামী হওয়ার পরও সে নিজেকে ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকায় মাদকের কারবার ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে উপরে যোগাযোগ আছে বলে দালালী করে যাচ্ছে। কুড়িকাহুনিয়া গ্রামের হাশেম গাজীর পুত্র ওলি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাবুল তাদের কাছ থেকে দু’বার চাঁদা আদায় করেছে। তার যন্ত্রনায় তারা অতিষ্ঠ।
##

আশাশুনির কাদাকাটি স্কুলে ভবন নির্মান কাজে অনিয়মের তদন্ত অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি ::

আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি আইডিয়াল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ভবন নির্মান কাজে অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে ঢাকা থেকে একটি টিম তদন্তে আসেন।
প্রায় ২ কোটি ৭ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দে ৩ তলা বিশিষ্ট (নীচতলা উন্মুক্ত) মাল্টিপারপাস সাইক্লোন শেল্টারের নির্মান কাজে ৪২টি পাইলিং এর প্রতিটি ডিপ করার কথা ৭২ ফিট। কিন্তু তা করা হয়নি। রডের লেবেল ঠিক না রেখে ঢালাই করা হয়েছে। প্রতিটি পাইলিং-এ ২৯ বস্তা সিমেন্ট দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ২৩ বস্তা করে। পিলারে সিডিউল মোতাবেক রড দেওয়া হয়নি। সিমেন্টের ব্যবহারেও রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। সিম-১ সিমেন্টের ব্যবহার করার নিয়ম থাকলেও তদস্থলে সিম-২ সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। রডের ব্যবহারেও রয়েছে ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ। সবশেষে ১৫ সেপ্টেম্বর পাইল ক্যাপ ঢালাই করা হয়। কিন্তু পিআইওকে অবহিত করা হয়নি। স্থানীয় সরকারি প্রতিনিধি হিসাবে পিআইওকে কাজ দেখে নেওয়ার কথা থাকলেও তাকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ইকরামুল হক জানান, পিআইও কিংবা অন্যদের বলতে চাইলে তিনি (ঠিকাদার) বলেন, কাউকে বলতে হবেনা, যাকে বলার তিনি বলবেন বলে জানিয়েছিলেন বলে জানান। স্কুলের সভাপতি মোসলেম আলি মালী সিমেন্ট সিম-১ ব্যবহার না করে সিম-২ ব্যবহার করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বারক নং ৫১.০১.৮৭০১.০০০.১৪.০০৮.১৮.৩৬৬ তাং ১৬/০৯/১৮ পত্রে কাজের ঠিকাদার মিসার্স মিলন ট্রেডার্স, কাটিয়া, সাতক্ষীরাকে কার নির্দেশনায় ও কোন প্রািক্রয়ায় প্রকল্পের পাইল ড্রাইভের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, কখন কোন অবস্থায় পিআইটি টেষ্ট করা হয়েছে, ফলাফল কি, কার নির্দেশনায় পাইলের ক্যাপের ঢালাই করা হয়েছে, সিডিউল কোথায় তা জানাতে বলা হয়। কাজের অনিয়মের বিষয়ে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়া এবং স্থানীয় লোকজনের মোবাইল ও সিমেন্টের ক্যাটাগরি পরিবর্তন, নি¤œমানের রডের ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রেক্ষিতে কাজ বন্দের জন্য অবহিত করার পরও কর্ণপাত না করার এবং কার্যাদেশের ১নং শর্তাবলী অনুযায়ী কাজ শুরুর পূর্বে পিআইওকে অবহিত করার কথা থাকলেও না করার কারনে কাজ বন্দ রাখতে পত্র দেওয়া হয়।
এরপর থেকে কাজ বন্দ ছিল। অভিযোগ তদন্তে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহকারী প্রকল্প পরিচালক ইসমাইল হোসেন (এপিডি), উপ প্রকল্প পরিচালক আঃ মতিন সরকার। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহরিয়ার মাহমুদ রঞ্জু, উপ সহকারী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদসহ স্কুল সভাপতি, শিক্ষক মন্ডলী, ঠিকাদার ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তদন্তকালে তেমন কিছু দেখা হয়নি। ঠিকাদারের কাছে প্রকাশ্যে কিছু শোনা হয়নি। পিআইওর কাছে কিছু জানাবোঝা করা হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে ঢালাইকৃত কাজ দেখতে যাওয়া হয়। তখন চালাকি করে একজন কর্মচারী হাতুড়ি দিয়ে আস্তে ঘা দিয়ে শব্দ শুনাচ্ছিলেন। তখন পাশ থেকে এরকজন সেখানে গিয়ে নিজে হাতুড়ি নিয়ে ঢালাইয়ের উপর আঘাত করলে বড় এশটি অংশ ভেঙ্গে পড়লে চালাকি ধরা পড়ে। তখন ভাঙ্গা অংশটুকু হাতের মধ্যে নিয়ে চাপ দিলে ভেঙ্গে গুড়ো হয়ে যায়। তখন স্থানীয়রা কাজে অনিয়মের কথা বললেও তদন্ত কর্মকর্তারা কর্ণপাত করেননি। কাজের মান ও মালের ব্যবহারে অনিয়ম ও দুর্নীতির কোন খোজ খবর নেওয়া বা পরীক্ষা নীরিক্ষা করা হয়। এব্যাপারে সাংবাদিকরা কথা বললে তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, সবকিছু ঠিক আছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পিআইওর সাথে কথা বলে পারবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহরিয়ার মাহমুদ রঞ্জু জানান, কাজ শুরুর পূর্বে ঠিকাদার আমাদের কাছে আবেদন করার কথা। আবেদন করলে আমরা কি রড, কি সিমেন্ট, কি পাথর ব্যবহার হবে তা টেস্টের জন্য বুয়েটে পাঠাই। কিন্তু এখানে কোন আবেদন না করায় টেষ্ট রিপোর্ট ছাড়াই কাজ করা হয়েছে। যা নিয়ম বহির্ভুত। ঠিকাদার মাত্র ২/৩ দিন আগে আমাদের কাছে আবেদন করেছে। এখন টেষ্ট রিপোর্ট নিয়ে সঠিক ভাবে কাজ করাতে পারবো। আমাদের অনুপস্থিতিতে কাজ করার কোন সুযোগ না থাকলেও ঠিকাদার কমিটির সদস্য ও প্রধান শিক্ষককে নিয়ে কাজ করিয়েছে। পূর্ববর্তী পিআইও সাহেবও কাজের উপস্থিত ছিলেননা।
##