আশাশুনি সংবাদ ॥ কাদাকাটির এক ঘের মালিক সর্বশান্ত


191 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি সংবাদ ॥ কাদাকাটির এক ঘের মালিক সর্বশান্ত
জুলাই ১২, ২০১৯ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস কে হাসান ::

বিএডিসি’র অনুমোদিত ডিলার বিশেষজ্ঞ সেজে মৎস্য ঘেরে বিষ ও ঔষধ নির্বাচন করে ব্যবহারে প্রলুব্ধ করে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। ঘেরের ৭ লক্ষাধিক টাকার মাছ খুইয়ে ঘের মালিক সর্বশান্ত হতে চলেছে। ঘটনা ঘটেছে আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি বিলে।
তালা উপজেলার মুড়োগাছা শাহপুর গ্রামের আঃ গফুর সরদারের পুত্র আজিজুর রহমান কাদাকাটি ইউনিয়নের কামারাবাদ বিলে ১০ বছর যাবৎ মৎস্য ঘেরে মাছ চাষ করে আসছেন। ৫/৬ বিঘা ব্যক্তিগত জমিসহ ২৩ বিঘা জমি ডিড নিয়ে তিনি মাছ চাষ করে থাকেন। এবছরও ঘেরে বাগদা, গলদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছের চাষ করেছেন। ঘেরের পানি ও মাছে সমস্যা দেখা দিলে তিনি বুধহাটা বাজারে বিএডিসির সার ডিলার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী সোভা এন্টার প্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারি বিভাষ দেবনাথের কাছে আসেন গত ১০ জুলাই। বিভাষ ঘের মালিক আজিজুরের কাছে তার ঘেরের অবস্থা শুনে ডলামাইট, ভিটামিনের বোতল ও সবুজ রঙের বোতলে ভরা বিষ (যার গায়ের লেবেল দোকানদার খুলে/ছিড়ে নেন) তাকে দিয়ে ব্যবহারের নিয়মাবালী বরে দেন। ‘কোন চিন্তা নয়, নির্ভয়ে এগুলো ব্যবহার করুন, সমস্যা হলে আমি দায়ি থাকবো’ এমন অভয় ও ভরসার বাণী শুনিয়ে ঔষধ ও বিষেল মূল্য নেওয়া হয় ২৫৩০ টাকা। এসময় তার সাথে শাহপুর গ্রামের নেহাল উদ্দিনের পুত্র রাশেদ ছিলেন। তারা ঔষধ ও বিষ নিয়ে পাশে আজমীর মোবাইল সেন্টার থেকে মোবাইল ক্রয় করে বাড়িতে ফেরেন। ১২ জুলাই সকালে তিনি মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে সমস্ত মাছ মরে ভাসতে, তলিয়ে যেতে ও ছোটাছুটি করতে দেখেন। সাথে সাথে তিনি মোবাইলে ডিলার বিভাষের সাথে কথা বলেলে তিনি সকালে বিষ দিয়েছেন কেন, বিকালে দিতে বলেছি, ইত্যাদি বলে নিজের দোষ ঢাকতে চেষ্টা করেন। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘেরের অনুমান ৬/৭ লক্ষ টাকার বাগদা ও ছাটি মাছ মরে যায়। কিছু মরা মাছ নিয়ে ঘের মালিক বুধহাটায় আসলে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ডিলার বিভাষের কাছে জানতে গেলে তিনি দোষ ঢাকতে “তার কাছে মাল বিক্রয় করেননি” বলে হাকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি ঘের মালিককে রীতিমত শাসাতে শুরু করেন। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ আ ব ম মোছাদ্দেককে অবহিত করলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ প্রদান করেন।

#

দরগাহপুর কলেঃ স্কুলের অধ্যক্ষকে হত্যার হুমকি ॥ থানায় জিডি

এস কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুর এসকেআরএইচ কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গেরৈপদ মন্ডলকে হত্যার হুমকী দিয়ে মোবাইলে ম্যাসেজ প্রেরন ও মোবাইলে কথা বলে হুমকী প্রদান করা হয়েছে। এব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থানায় সাধারণ ডায়রী করেছেন।
স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ জুলফিকর আলীকে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে তদস্থলে গৌরপদ মন্ডলকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব অর্পন করা হয়। অধ্যক্ষকে নিয়ে দুনীতির মামলা আদালতে চলমান আছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) মামলার ধার্য দিন ছিল। এনিয়ে সাবেক অধ্যক্ষ ও তার সহযোগিরা বিভিন্ন সময় নানা ভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে হুমকী-ধামকী ও স্কুলের কর্মকান্ডে বাধা প্রদান করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকালে ০১৬৩৯৫৩০৩৬৪ নং মোবাইল থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মোবাইলে (নং ০১৭১৫৩৫২৬৭৮) একাধিকবার মোবাইল করে নানা ভাবে অশ্রাব্য ভাষায় কথাবার্তা ও হুমকীধামকী দেওয়া হয়। বিকাল ৬.৪৬ টা হতে ৭.১৭ টা পর্যন্ত ৪ বার ৪টি ম্যাসেজ দেওয়া হয়। ম্যাসেজে “তোর মরার সময় চলে এসেচে”, “তোরে কুকুরের মতো মারবো”, “ফোন ধর ভয় পেলি” ও “তোর ভগোবান না তোকে মারবো আমি, তোর ভগোবান তোরে উপরে উঠিয়ে নেওয়ার আগে আমি উপরে উঠিয়ে নেব” লিখে প্রাণে শেষ করে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এব্যাপারে নিরাপত্তা চেয়ে এবং হুমকীদ্বাতার তথ্য উদ্ধারের জন্য আশাশুনি থানায় ১২ জুলাই ৫১৬ নং জিডি করা হয়েছে।

#

বুধহাটা থেকে শিশু আরিফুল উধাও

এস কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারে মালামাল ক্রয় করতে গিয়ে শিশু আরিফুল ইসলাম উধাও হয়ে গেছে। অনেক খোজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান মেলেনি।
উত্তর চাপড়া গ্রামের মইনুর সরদারের পুত্র আরিফুল ইসলাম (১৩) চাপড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। ৯ জুলাই সকাল ১০ টার দিকে সে মহেশ^রকাটি মৎস্য সেটে কাঁকড়া বিক্রয় করে টাকা নিয়ে বুধহাটা বাজারে মালামাল কিনতে যায়। এরপর থেকে তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। বাড়ির লোকজন সকল আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক খোজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান পায়নি। আরিফুল বাজারে যাওয়ার সময় সাদা রঙের চেকের শার্ট, জিন্সের ফুল প্যান্ট পরেছিল। তার গায়ের রং কালো, হালকা-পাতলা গড়ন ও সে স্বাভাবিক কথা বলতে পারে। কোন সহৃদয় ব্যক্তি তার সন্ধান পেলে তার বড় ভাই মিয়ারাজ হোসেন তার সাথে (০১৩০২৩৫৮৯৩০ নম্বরে) যোগযোগে করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

#