আশাশুনি সংবাদ ॥ গাঁজা ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার-৪


175 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি সংবাদ ॥ গাঁজা ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার-৪
মে ১১, ২০১৯ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস কে হাসান ::

আশাশুনি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২ গাঁজা ব্যবসায়ীসহ ৪ আসামীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের শনিবার আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোঃ সাজ্জাদুর রহমান (বিপিএম) এর দিক নির্দেশনায় আশাশুনি থানার পুলিশ পরদির্শক (ওসি), পরপর দশ বার সাতক্ষীরা জেলার পূর্ব জোনের শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসাবে পুরস্কার প্রাপ্ত বিপ্লব কুমার নাথের নেতৃত্বে এএসআই জাকির হোসেন, এসআই বিজন কুমার সরকার ও এএসআই মোকাদ্দেস হোসেন কাদাকাটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে গফফার বেগের পুত্র শরিফুল ইসলামকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেন। এএসআই জাকির হোসেন পৃথক অভিযানে জিআর-২৬৯/১৩ (ওয়ারেন্ট) আসামী বড়দুর্গাপুর গ্রামের জলিল সানার পুত্র নাজমুল সানাকে গ্রেফতার করেন। এএএসআই মিলন হোসেন জিআর-২৭২/১৬ (ওয়ারেন্ট) আসামী বেউলা গ্রামের মৃত বিনয় অধিকারীর পুত্র আদর অধিকারীকে গ্রেফতার করেন। এএসআই হারুনুর রশিদ অভিযান চালিয়ে দরগাহপুর শেখপাড়ার মৃত শেখ মহিনুর রহমানের পুত্র শেখ তবিবুর রহমান (জীবন) কে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ বৈকরঝুটি বাজার হতে গ্রেফতার করেন।

#

আশাশুনিতে আবারও ছেলেধরা গুজবে বিপর্যস্তের ঘটনা : এবার নাজেহাল বৃদ্ধ পুটে সরদার

এস কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলা সদরে ছেলে ধরা গুজবের বেড়াজালে পড়ে আরও একজন চরম ভাবে বিপর্যস্ত ও লাঞ্চিত হয়েছেন। এবার শত শত মানুষের প্রশ্নবান ও ধমকানী ও লাঞ্চনার শিকার হয়েছেন ৭২ বছর বয়সের বৃদ্ধ পুটে সরদার। শনিবার বেলা ১১ টার দিকে সদরের দুর্গাপুর-কোদন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকাসহ পাশ^বর্তী উপজেলায় রোহিঙ্গা ছেলে ধরার গুজব ব্যাপক ভাবে বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন আটক হয়েছেন, ছেলে ধরার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহ ও হুজুগের কারনে। জুজুর ভয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চারসহ অনেককে সাবধানতা অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে। গুজবটি যখন সবার মুখে মুখে ব্যাপক আলোচনায় রূপ নিয়েছে, ঠিক তখন দু’দু’টি ঘটনা ঘটে গেল আশাশুনিতে। ছেলে ধরা সন্ধেহে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুল্যার মোড়ে এক মহিলাকে বিড়ম্বনায় পড়ার একদিন পর আশাশুনি সদরের দুর্গাপুর-কোদন্ডা সড়কের উপর ছেলে ধরা সন্ধেহে শনিবার বেলা ১১ টার দিকে আটকানো হয় আরার গোবিন্দপুর গ্রামের পুটে সরদারকে। তার পুত্র দ্বীন ইসলাম জানান, তার পিতা শুক্রবার সকালে একটি প্যাকেটে করে কিছু কাঁচা আম নিয়ে নাটানা গ্রামে মেয়ে জামাই ছাত্তার মাঝির পুত্র মফিজুল মাঝির বাড়িতে গিয়েছিল। সেখানে রাত্রি যাপন করে শনিবার বেলা ১১ টার দিকে সেই প্যাকেটে মেয়ের দেওয়া দু’টি চুড়ি ও কাপড়চোপড় নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঘটনাস্থলে পৌছে প্রচন্ড রৌদ্রের তাপদাহে একটি গাছের নীচে ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেখানে পাশ দিয়ে যাওয়া একটি ছোট্ট মেয়েকে নাম পরিচয় শুনলে সে ভয়ে ছুটে গিয়ে বাড়িতে জানালে ছেলে ধরা সন্ধেহে তাকে আটক করে বেহাল দশায় পরিণত করা হয়। মুহুর্তের মধ্যে শত মানুষ জড়ো হয়ে তাকে নাজেহাল ও জর্জরিত করে। গোবিন্দপুর এলাকার যে মেয়েদের সেখানে বিয়ে দেওয়া আছে তারা সেখানে গিয়ে বৃদ্ধকে চিনতে পেরে অনুনয়-বিনয় করে তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তাকে মোটর সাইকেলে করে বিকালে বাড়িতে পৌছে দেওয়া হয়েছে।
ইউপি সদস্য সন্তোষ কুমার জানান, তিনি ছেলে ধরা আটকে অসংখ্য মানুষকে ঘিরে থাকতে দেখেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি হয়েছে জানেনা।
আসলে এটি ‘সত্যি’ না ‘গুজব’ বিষয়টি এলাকাবাসীর কাছে সঠিক ভাবে পৌছে দিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির বিষয়টি আমলে নেওয়া দরকার। অবশ্য পুলিশ প্রশাসন বলছেন, বাচ্চা ধরার কোন বস্তুনিষ্ঠ তথ্য নেই। এটা নিছক একটি গুজব এবং মিথ্যাচার। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। আপনারা গুজবে কান দিবেন না। আশাশুনি থানা এলাকায় এরকম কোন তথ্য নেই। আশাশুনি থানা পুলিশ এ ব্যাপারে শতভাগ সতর্ক আছে।

#