আশাশুনি সংবাদ ॥ তেঁতুলিয়া আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর ও পুকুর জবর দখল


184 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি সংবাদ ॥ তেঁতুলিয়া আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর ও পুকুর জবর দখল
জুন ১৫, ২০১৯ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ঘর হস্তান্তর, নামে-বেনামে ও স্বামী-স্ত্রী দু’জনেও ঘর পেয়েছেন

এস,কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর ১৪০টি পরিবারের জন্য নির্মীত ঘরের অনেকগুলো, একটি পুকুর জবর দখল করা হয়েছে। কেউ কেউ ঘর হস্তান্তর, নামে বেনামে কিংবা স্বামী-স্ত্রী দু’জনেও ঘর পেয়েছেন। দীর্ঘদিন ঘর রেজিস্ট্রেশন করা হলেও এখনো সঠিক ব্যক্তিদের হাতে দলিল পৌছেনি, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে।
সরকার ভূমিহীন ও আশ্রয়হীন পরিবারের আশ্রয় প্রদান, এক টুকরো নিজের জমিতে বসবাসের সুযোগ দানের লক্ষ্যে আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় তেতুলিয়া ১৪০টি ঘর নির্মান করেন। এখানে রয়েছে তাদের চলাচলের সুন্দর ব্যবস্থা, খেলার পরিবেশ, গোসলের জন্য পুকুর, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা। কিন্তু বর্তমানে সেখানে অনেক কিছুই সমস্যা দেখা দিয়েছে। যখন ঘরের জন্য ভূমিহীন ও অসহায় পরিবার নির্বাচন করা হয়েছিল, সেখানে ছিল অনেক ঘাপলা। পরবর্তীতেও অনেক স্বজনপ্রীতি, জবর দখল, অনিয়ম এসে ভর করেছে এখানে। ১৪০ টি ঘরের মধ্যে রফিকুল তার দু’পুত্র চাকরীজীবি হলেও তিনি ঘর পেয়েছেন। হানিফের বিল্ডিং বাড়ি হলেও তিনি এখানের বাসিন্দা। হাফিজুল ও তার স্ত্রী দু’টি ঘর পেয়েছেন, রাজ্জাক ও তার স্ত্রী আলেয়া দু’টি ঘর পেয়েছেন। রিপন পিতা কেরামত গাজী এবং রিপন সরদার নামে একই ব্যক্তি দু’টি ঘর পেয়েছেন। মঞ্জুরুল শিবানীর কাছে, বাবু আলমের কাছে ঘর হস্তান্তর করেছেন। ফারুকের স্ত্রী স্বপ্না, আফাজদ্দিনের পুত্র শাহাবুদ্দিন, শহিদের পুত্র সালাউদ্দিন, কোরবান মোড়লের পুত্র শুকুর, শুকুর মোড়লের পুত্র জাহাঙ্গীর, জোনাব আলির পুত্র আরজান শেখ, আরজানের পুত্র শাহিনুর শেখ, গফফারের স্ত্রী জরিনা, কাশেম মোড়লের স্ত্রী মইরন, ইরশাদুলের পুত্র শাহাদী, আফাজদ্দিন গাজীর কন্যা মিনারা, দরগাহপুরের আয়ুব তাদের নামে ঘর না হলেও তারা অবৈধ দখল নিয়ে ঘরে উঠেছেন। প্রকল্পের আওতায় সেখানে দু’টি বৃহদাকারের পুকুর আছে, যা বসবাসকারীদের ভোগদখলের কথা। কিন্তু একটি শাহাবুদ্দিন একাই দখল করছেন। বাকীটা সবাই মিলে দখল করছেন। সেখানে সুপেয় পানির জন্য ৪টি ফিল্টার নির্মাণ করা হলেও একটিও স্বচল নেই। ফলে সার্বিক ভাবে সেখানে স্বাভাবিক ভাবে নিয়ম মেনে বসবাস চলছে না। জবর দখল, অবৈধ হস্তান্তর, অযোগ্যদের নামে ঘর বরাদ্দসহ নানান জটিলতা আশ্রায়ন প্রকল্পের সুফল বঞ্চিত করছে এই আশ্রায়ন প্রকল্পের। সাথে সাথে সরকারের মহান উদ্যোগ অনেকাংশে ব্যাহত হচ্ছে।

#

আশাশুনির বেতনা নদীতে নেট জালে রেণু পোনা নিধন

এস,কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার বেতনা নদীতে নিষিদ্ধ নেটজাল দিয়ে রেণু পোনা ধরে নিধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার রেণু পোনা ধরে ডাঙ্গায় ফেলে মেরে ফেলানোর ঘটনা দেদারছে চলছে।
নদীর তীরের কিংবা পাশ^বর্তী গ্রাম সমুহের অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন বাঁশের ত্রিকোণ খাঁচার সাথে নেট জাল বেঁধে নদীর তীরে পেতে রাখে। নদীর পানির ¯্রােতের সাথে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণু ঐ জালের মধ্যে ঢুকে আটকে যায়। কিছুক্ষণ পর পর জাল ঝেড়ে পাত্রে রেখে তার থেকে ছাটি/গলদা রেণু ধরে নেওয়া হয়। ধরা পড়া বাকী বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণু মারা যায় বা ডাঙ্গায় ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া অনেকে বাঁশে বাঁধা জাল নদীর পানিতে নেমে টেনে রেণু পোনা ধরে ধাকে। একই ভাবে তারাও তাদের দরকারি মাছের রেণু ধরে নিয়ে বাকীগুলো নষ্ট করে থাকে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মাছের রেণু মারা যাচ্ছে। ফলে এলাকার নদী সমুহ মাছ শূন্য হয়ে পড়ছে। এসব রেণু অবৈধ ভাবে ধরে নষ্ট না করা হলে নদীতে, গেটের পানির সাথে রেণু পোনা ভিতরে ঢুকে খালবিল, মৎস্য ঘের সমুহ প্রাকৃতিক মাছে ভরে যেত। নেট জাল দিয়ে রেণু পোনা ধরা নিষেধ থাকলেও চাপড়া, কাটাখালী, বৈরমপুর, গাবতলা, বাহাদুরপুর, গুনাকরকাটিসহ বিভিন্ন স্থানে শত শত মানুষ রেণু পোনা ধরার কাজ দেদারছে চালিয়ে আসছে। বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত সোহরাব ঢালীর পুত্র নজরুল ইসলাম গাজী শনিবার বাহাদুরপুর গ্রামের পাশে নদীতে নেট জাল পেতে রেণু পোনা ধরছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তিনি একা নন, এলাকার অসংখ্য মানুষ এভাবে রেণু পোনা ধরে থাকে। তিনি অবলিলাক্রমে বলে ফেললেন, তিনি গলদা চিংড়ীর রেণু বেছে নিয়ে বাকীগুলো ফেলে দেন। এগুলো মরে যাচ্ছে, ক্ষতি হচ্ছে তা জানেন কি? জবাবে তিনি বলেন, মরে যাচ্ছে ক্ষতি হচ্ছে, কিন্তু আমরা অত না বুঝে এগুলো করে থাকি। প্রতিদিন কত টাকার রেণু বিক্রয় করেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৫ থেকে ১০/১২ শত টাকার রেণু বিক্রয় করে থাকি। এব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

#

প্রতাপনগরে যুবলীগের বিলবোর্ড ছিড়ে কর্মীকে উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

এস,কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে আওয়ামী যুবলীগের বিলবোর্ড, প্যানা ফেস্টুন ছিঁগে যুবলীগ কর্মীকে উঠিয়ে আনার চেষ্টা করেছে দুবৃত্তরা। শুক্রবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় একটি দুবৃত্তদল ঘটনার সময় প্রতাপনগর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগ কতৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম রেজা মিলন ও অন্য নেতৃবৃন্দের ছবি সম্বলিত প্যানা বিল বোর্ড ব্যানার ছিঁড়ে ও পায়ে পিষ্ট করে উল্লাস করে। পরে উল্লাস করতে করতে স্বশস্ত্র অবস্থায় ৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সেক্রেটারী সোনাতনকাটি গ্রামের ইউনুস আলীর পুত্র ইউসারকে উঠিয়ে আনতে যায়। এছাড়া প্রতাপনগর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের ইউনিয়নবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা সম্বলিত প্যানা বিল বোর্ডও ছিঁড়ে তছনছ করে।

#

প্রতাপনগরে প্রাণ কোম্পানির ড্রাইভারের উপর হামলা

এস,কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে প্রাণ কোম্পানির ডিএসআর ও ড্রাইভার মনিরুলের উপর হামলা চালানো হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে প্রাণ কোম্পানির গাড়ি ফুলতলা বাজারে পৌঁছালে ৫/৬ জন দুর্বৃত্ত কোম্পানির ডিএসআর প্রতাপনগর আফজাল হোসেনের পুত্র মনিরুল ইসলামের উপর হামলা চালায়। এসময় তারা নগদ টাকা ও মেমোর ব্যাগ নিয়ে কেটে পড়ে। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ইব্রাহিমের মাধ্যমে মালামালসহ গাড়ি উদ্ধার করা হয়। আহত মনিরুলকে আশাশুনি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

#