আশাশুনি সংবাদ ॥ ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধ কয়েকটি পরিবার


115 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি সংবাদ ॥ ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধ কয়েকটি পরিবার
আগস্ট ২৪, ২০১৯ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মৎস্য ঘের ও ফসলী জমি প্লাবিত

এস,কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার বুধহাটায় ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতার স্বীকার হয়েছে কয়েকটি পারিবার। এছাড়া কয়েক শত একর জমির মৎস্য ঘের ও ফসলী জমি পানিতে প্লাবিত হয়ে আছে।
গ্রামীণ ফোন টাওয়ার সংলগ্ন বুধহাটা উত্তর পাড়ায় বৃষ্টির পানি নিস্কাশিত না হওয়ায় ১০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন। বাড়ি থেকে বের হতে পারছেননা। টয়লেট ও টিউবওয়েল পানিতে ডুবে একাকার হয়ে আছে। পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে সেলিম হোসেন, রজব আলী, আবুল দোফাদারের ছেলে মোবারেক হোসেন, মনিরউদ্দীন সরদারের ছেলে আব্দুল করিম ও আব্দুর রউফ, আব্দুল গফুরের ছেলে আতিকুল ইসলাম, মিয়াজান মালীর ছেলে আব্দুল হাকিম ও আব্দুল হামিদ, এরশাদ সরদারের ছেলে মিঠু সরদার এবং আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী মনি খাতুনের বসৎবাড়ী পানিতে প্লাবিত হয়ে আছে। স্থানীয়রা জানান, এসকল এলাকার পানি বুধহাটা বাজার সংলগ্ন স্লুইচ গেট দিয়ে নিস্কাশন হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে নতুন করে স্লুইচ গেট নির্মান করার কারণে গেটের মুখ বন্দ থাকায় পানি নিস্কাশনে ব্যহত হচ্ছে। একারণে বুধহাটা উত্তর পাড়া ও পশ্চিম পাড়ার সাধারণ মানুষ পানি বন্দী হয়ে কষ্টকর জীবন জাপন করছেন। জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বাথরুম ও বিভিন্ন খানা খন্দকের ময়লা পানি মিশে যাওয়ায় পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বিরাজ করছে। এব্য্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা জানান, বিষয়টি আমার জানাছিলো না। তবে অতিদ্রুত এলাকা থেকে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

#

আশাশুনির যদুয়ারডাঙ্গা প্রাইমারী স্কুল ভবন পরিত্যক্ত : ক্লাশ চলছে মন্দির,বারান্দা ও মাঠে

নিজস্ব প্রতিনিধি ::

আশাশুনি উপজেলার ৪১ নং যদুয়ারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় ক্লাশ পরিচালনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। উপায়ন্তর না পেয়ে পাশের মন্দির, স্কুলের বারান্দা ও মাঠে ঠাসাঠাসি করে বসে ক্লাশ পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছে।
ধূ-ধূ বিলের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্রামের মানুষের বাচ্চাদের পড়ালেখা করানোর কোন সুযোগ ছিলনা। গ্রামবাসী অতিকষ্টে ১৯৫০ সালে ৬২ শতক জমির উপর স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন মাটির দেওয়ালের উপর ছনের ছাউনি দিয়ে ক্লাশ চালানো হতো। পরবর্তীতে মাটির দেওয়ালে টালিদিয়ে ছাওয়া হয়। তখন ৩টি কক্ষে ক্লাশ চলতো। বাকী ক্লাশ গাছ তলায় করা হতো। সরকার ১৯৯৪ সালে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট একটি বিল্ডিং নির্মান করেন। একটিতে অফিস অন্য দু’টিতে ক্লাশ চলতো। ১৯১ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে পরিচালিত স্কুলের কক্ষের অভাব প্রকট হয়ে দেখা দিলে ২০০৬ সালে পিডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় ২ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মান করা হয়। তখন বেশ ভালভাবে ক্লাশ নেওয়া যেত। কিন্তু গত কয়েক বছর যাবৎ ৪ কক্ষের পুরাতন বিল্ডিংটি খুবই নাজুক হয়ে পড়ায় চরম ঝুঁকিতে ক্লাশ পরিচালনা করে আসা হচ্ছিল। বর্ষা মৌসুমে ছাদ দিয়ে পানি পড়া, ছাদের পলেস্তারা খসে খসে পড়ায় অনেক ছাত্র-শিক্ষক কমবেশী আহত হয়েছেন। দেওয়াল ও পিলার ফেটে যাওয়া, মেঝেতে ফাটল ধরা, জানালাগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। তারপরও উয়ান্তর না থাকায় ৪টি কক্ষের দু’টিতে ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ক্লাশ নেওয়া হচ্ছিল। এখন দুই শিফটে ক্লাশ চালান হলেও কক্ষের অভাবে পাশের মন্দিরে, অন্য বিল্ডিং এর বারান্দায়, অফিস কক্ষের মধ্যে ও মাঝে মধ্যে মাঠে ক্লাশ নিতে হচ্ছে। টিনের ছাউনি ছোট্ট মন্দিরে প্রচন্ড গরমে মেঝেতে বসে ক্লাশ করা, ঘরের ছোট্ট বারান্দায় ঠাসাঠাসি করিয়ে ক্লাশ চালান খুবই কষ্টকর হলেও বাধ্য হয়ে সেটি করা হচ্ছে। এছাড়া ১৯৯৪ সালে নির্মীত টয়লেটের অবস্থা খুবই বেহাল। টিউব ওয়েলের পানিতে আর্সেনিক থাকায় সুপেয় পানির সংকট বিরাজমান। বর্ষায় স্কুলের সামনের মাঠ নিমজ্জিত থাকায় খেলাধুলা পড়ে থাক চলাচল বিপদজনক হয়ে ওঠে। ফাকা মাঠের মধ্যে স্কুল অবস্থিত, সীমানা প্রাচীর না থাকায় স্কুলটি অরক্ষিত হয়ে থাকে। এজন্য নতুন ভবন নির্মান, টয়লেট নির্মান, সুপেয় পানির অভাব দুর করা, মাঠ ভরাট ও সীমান প্রাচীর নির্মানের জন্য এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

#