আশাশুনি সংবাদ ॥ মামলার প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন


128 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি সংবাদ ॥ মামলার প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস কে হাসান ::

চুক্তি মোতাবেক বালি সরবরাহ করে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে চাঁদাবাজী মামলার আসামী হওয়ার প্রতিকার প্রার্থনা করে আশাশুনিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আশাশুনি প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য অনুপ কুমার সানা লিখিত বক্তব্য ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জানান, গদাইপুরে মৌলভী আঃ লতিফ কলেজের সড়ক নির্মান প্রকল্পে বালি সরবরাহের জন্য গদাইপুর গ্রামের আঃ সালাম বাচ্চু ঠিকাদার তপন চক্রবর্ত্তীর সাথে উক্ত মেম্বারসহ অনেকের সম্মুখে চুক্তিবদ্ধ হন। ১০ টাকা ফুট দরে মৌখিক চুক্তিতে তিনি এ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৭ হাজার ৫০০ ফুট বালি সরবরাহ করেছেন। যার মূল্য ১০ লক্ষ ৭০ হাজার ৫০০ টাকা। বিগত তিন মাসে ঠিকাদার বালি সরবরাহকারী বাচ্চুকে বিভিন্ন কিস্তিতে ৫ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা শোধ দিয়েছেন। বাকি টাকার জন্য শ্রমিক ও মেশিন মালিক বারবার তাগাদা দিতে থাকায় বাচ্চুও ঠিাকাদারের কাছে তাগাদা দিতে থাকেন। কিন্তু বারবার ওয়াদা খেলাপ ও টালবাহনার কারনে বিপাকে পড়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং সাতক্ষীরায় বহুবার শালিসের ব্যবস্থা করা হয়। শালিসে টাকা দেওয়ার ওয়াদা করার পরও ঠিকাদার টাকা দেননি। বালি শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ না করতে পেরে সরবরাহকারী বাচ্চু গত সোমবার নির্মানাধীন রাস্তায় গিয়ে ঠিকাদারের শ্রমিক সর্দার শাহিনুরের সাথে কথা বলতে যান। সেখানে দাঁড়িয়ে মোবাইলে ঠিকাদারের সাথে কথাও বলেন। এনিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঠিকাদারের পক্ষের শ্রমিক সর্দারের নেতৃত্বে শ্রমিকরা বাচ্চুকে মারপিট শুরু করে। পাশের লোকজন জানতে পেরে সেখানে গিয়ে কারণ জানতে ও তাকে উদ্ধার করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে হালকা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটিতে রং মাখিয়ে টাকা পাওনাদার তাদের কাছে চাঁদা দাবী করেছে এমন ষড়যন্ত্র মূলক অভিযোগ এনে মিথ্যা চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করা হয়েছে। মেম্বার অনুপ আরো বলেন, ঠিকাদার তপন খুবই ধুরন্ধর, তিনি কাজের বিল তুলে নিলেও শ্রমিকদের পাওনা শোধ দিচ্ছেননা। টাকা চাইলে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রয়োজনে চাঁদাবাজী মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকী দিয়ে আসছেন। এরই ফলশ্রুতিতে ন্যয্য পাওনাদারকে টাকা না দিয়ে উল্টো চাঁদাবাজী মামলা দিয়ে তাকেসহ নিরিহ অনেককে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন, পাওনা টাকা না দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে উল্টো চাঁদাবাজীর অভিযোগ করা হয়েছে। সাথে সাথে তাকে নাশকতা মামলার আসামী হিসাবে অভিযুক্ত করে মিথ্যা খবর বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার তার তীব্র প্রতিবাদ জানান। এব্যাপারে এলাকার সকল স্তরের মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত করতে পুলিশ সুপার মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। এসময় বালি উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত মেশিন মালিকসহ এলাকার বহু মানুষ ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।

#

আশাশুনিতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

এস,কে হাসান ::

আশাশুনিতে আসন্ন শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে আইন শৃংখলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০ টায় আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আশাশুনি থানার আয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন, সিনিঃ এএসপি (দেবহাটা সার্কেল) শেখ মোঃ ইয়াছিন আলি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আঃ সালামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ কুমার বৈদ্যর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নীলকণ্ঠ সোম, এমপি ডাঃ রুহুল হক প্রতিনিধি শম্ভুজিৎ মন্ডল, উপজেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি ঢালী মোঃ সামছুল আলম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর হিরুলাল বিশ^াস, আশাশুনি সদর কেন্দ্রীয় মন্দিরের আহবায়ক রতন কুমার অধিকারী, বুধহাটা ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ চিত্তরঞ্জন ঘোষ, শোভনালী সেক্রেটারী উদয় কান্তি বাছাড়, কাদাকাটি সভাপতি প্রহ্লাদ সরকার, বড়দল সভাপতি সুরঞ্জন কুমার ঢালী, শ্রীউলা সেক্রেটারী দীপংকর মন্ডল, কুল্যা সভাপতি পরিমল কুমার দাশ, আনুলিয়া সাংগঠনিক সম্পাদক আনন্দ কুমার দাশ, প্রতাপনগর সভাপতি বিনয় কৃষ্ণ মিস্ত্রী, খাজরা সভাপতি দীনেশ চন্দ্র মন্ডল, দরগাহপুর সভাপতি মনিমোহন মন্ডল। প্রধান অতিথি বলেন, উপজেলার ১০৪ টি পূজা মন্ডপের সব কয়টিতে পুলিশের পদচারনা থাকবে, থাকবে অন্যান্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা। এসময় মন্ডপ কমিটিকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকসহ সকলকে যথাযথ ভূমিকা পালনের কথা বলেন।

#

শোভনালীতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ষড়যন্ত্র মূলক মামলা ॥ এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি ::

আশাশুনির শোভনালী ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে পূঁজি করে ষড়যন্ত্র মূলক মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানীর অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থানে গেলে এলাকার অসংখ্য মানুষ জানান, শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া গ্রামের আলহাজ¦ আঃ বারী সরদার বাঁকড়া মৌজায় সাড়ে ৮ বিঘা নিজস্ব জমিতে ২০০০ সাল হতে একই সাথে মাছ চাষ ও ধান চাষ করে আসছেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তার পুত্র সাগর ও খায়রুল আলম খোকন জমির ধান বাড়িতে আনার কাজ করছিলেন। এসময় কয়েকটি ছাগল ঘেরে ও ঘেরের বাঁধে ঘোরাফেরা করায় তাদের ফসলের ক্ষতি ও ধানের বোঝা নিয়ে যাতয়াতে সমস্যা হচ্ছিল। বাধ্য হয়ে তারা একটি ছাগল ধরে ঘেরের মধ্যে ফেলে দেয়। এসময় মৃত মতলেব সরদারের পুত্র আমিনুল্লাহ ও আমিনুল্লাহর মা সেখানে হাজির হয়ে ছাগল মারার ঘটনা নিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এনিয়ে সামান্য কথাকাটি ও মারধরে উদ্যত্বের ঘটনা ঘটে। কিন্তু কোন মারামারি হয়নি। বিষয়টিকে পুঁজি করে আমিনুল্লাহ প্রতিপক্ষকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত বলে অপবাদ দিয়ে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগ এনে থানায় মামলা (নং ১৮ তাং- ১৮/০৯/১৯) রুজু করেছেন। মামলার আরজিতে ছাগলটি মারা গেছে উল্লেখ করা হলেও, এলাকাবাসী জানান, ছাগলটি তাদের ছিলনা। কোন ছাগল মারাও যায়নি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন জানান, ছাগল ক্ষেতে ফসল নষ্ট করায় সাগর ও খায়রুল ছাগলটি ঘেরের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। এনিয়ে সামান্য হাতাহাতি, বাকবিতন্ডা হয়েছিল। অথচ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজী মামলা করা হয়েছে। ছেলে দুটি কখনো মাদকাসক্ত বা মাদক ব্যবসা করার প্রশ্নই ওঠেনা। অথচ তাদেরকে মিথ্যা অপবাধ দিয়ে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় নকুল ঢালীর পুত্র প্রসেনজিৎ জানান, পুলিশ তদন্তে আসলে তার কাছে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি বহু মানুষের সামনে পুলিশকে বলেন যে, আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঘটনার সময় মামলায় মানিত স্বাক্ষীরা কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলনা। এব্যাপারে সঠিক তদন্ত শেষে মিথ্যা অভিযোগের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।

#