আশাশুনি সংবাদ ॥ মুক্তিযোদ্ধাদের পুনঃ যাচাই বাছাই শুরু


172 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি সংবাদ ॥ মুক্তিযোদ্ধাদের পুনঃ যাচাই বাছাই শুরু
জুলাই ১৬, ২০১৯ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলায় ২০১৭ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) যাচাই বাছাই কমিটি কর্তৃক যাচিত “ক” গ্রুপের প্রতিবেদনভুক্তদের পুনঃ যাচাই বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
উপজেলার ১১ ইউনিয়নের “ক” প্রতিবেদনভুক্ত ১৮৪ জনকে পুনঃ যাচাই বাছাই এর জন্য ১৬ জুলাই হতে ২৩ জুলাই পর্যন্ত দিন ধার্য করা হয়েছিল। এ তফশীল অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল ৯.৩০ হতে দুপুর ১২ টা এবং দুপুর ২.৩০ হতে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত পুনঃ যাচাই বাছাই করা হয়। এসময় শোভনালী ইউনিয়নের ২ জন, কুল্যার ১১ জন, বুধহাটার ৩ জন, দরগাহপুরের ২০ জন মোট ৩৬ জনকে যাচাই বাছাই করা হয়। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত যাচাই কার্যক্রমে সভাপতিত্ব করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফুর। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। যাচাই কমিটির সদস্য হিসাবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আহাদ। ভারতীয় লাল তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ যাচাই কাজে সহযোগিতা প্রদান করেন। এসময় উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জন প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ১ম দিন ৩৬ জন মুক্তিযোদ্ধা আবেদনকারী ও তাদের স্বাক্ষীগণ উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষ্য ও প্রমানাদি উপস্থানে অংশ নেন। ১৭ জুলাই আশাশুনি সদরের ১৫ জন ও শ্রীউলার ১৯ জন মোট ৩৪ জনকে, ১৮ জুলাই খাজরার ৪৩ জনকে, ২২ জুলাই বড়দলের ৪৬ জনকে এবং ২৩ জুলাই আনুলিয়ার ৪ জন, প্রতাপনগরের ৬ জন ও কাদাকাটি ইউনিয়নের ১৫ জন মোট ২৫ জনকে যাচাই বাছাই করা হবে। ঘোষিত তফশীল অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে সংশ্লিষ্ট যাচাইযোগ্য বীরমুক্তিযোদ্ধাগণকে উপস্থিত থাকতে এবং ভারতীয় লাল তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ যাচাই কাজে সহযোগিতার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

#

আশাশুনির বেতনা নদীতে পথভুলে আসা ডলফিনটি অবশেষে মারাগেল

এস,কে হাসান ::

শান্তি প্রিয়, মানুষ ও পরিবেশের জন্য উপকারী ইরাবতি ডলফিনটিকে বাঁচাতে কেউ এলেন না। আসলেও কেউ বাঁচানোর জন্য কাঙ্খিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় দীর্ঘ ৪/৫ মাস আশাশুনির বেতনা নদীতে পথ ভুলে আসা ডলফিনটির বেঁচে থাকার আকুতি শেষ রক্ষা হয়নি। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) নওয়াপাড়া গ্রামে বেতনা নদীর তীরে মরা ডলফিনটি পাওয়া যায়।
গত ২ এপ্রিল প্রথম বার ডলফিনটি ভাটার সময় নদীর পানি একেবারে কমে যাওয়ায় বেতনা নদীর তীরে বুধহাটা ইট ভাটার কাছে চরে আটকে গিয়েছিল। তখন প্রশাসনকে জানানোর পর ডলফিনটি নদীর পানিতে ছেড়ে দিতে বললে স্থানীয়রা সেটি নদীতে যেখানে পানি একটু বেশী সেখানে ছেড়ে দিয়েছিল। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডলফিন না ধরা এবং ডলফিনকে বাঁচিয়ে রাখার উপায় সম্পর্কে সচেতনা সৃষ্টির প্রচার চালান হয়। ২য় দফায় একই ডলফিন গুনাকরকাটি ব্রীজের কাছে ২৮ এপ্রিল আটকা পড়ে। এরপর সেটি জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে চলে যায়। তখন খুলনা থেকে সরকারি ভাবে জলজ প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনার জন্য লক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কর্মকর্তাগণ এসে ডলফিন এর জীবন যাপন প্রণালী, ডলফিনের বাঁচিয়ে রাখার উপায় সচেতনা মূলক সভা করেছিলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) পাপিয়া আক্তারও ঘটনাস্থান পরিদর্শন করেছিলেন। কিন্তু ডলফিনটিকে উদ্ধার করে সাগরে কিংবা অপেক্ষাকৃত বেশী পানির নদীতে ছেড়ে আসার কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরপর কয়েকবার ডলফিনটিকে বুধহাটা, কুল্যা, নওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাসতে দেখা গেছে। নদীর ঘোলা ও ময়লা পানি, কম পানি, প্রয়োজনীয় খাদ্য না পাওয়াসহ প্রতিকূল পরিবেশে জীবনকে টিকিয়ে রাখতে না পেরে ডলফিনটি মারা গেছে। মঙ্গলবার নওয়াপাড়া গ্রামে ঈদগাহ এর পাশে বেতনা নদীতে ভিড়ে থাকা সাগরের পানি এনে বিভিন্ন এলাকার হ্যাচারিতে সরবরাহ কাজে নিয়োজিত কার্গোর গিরাফীর দড়িতে আটকে থাকা মরা ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়। ধারনা করা হচ্ছে এটি ২/৩ দিন আগেই মারা গিয়েছিল।

#

আশাশুনির কুলসুমিয়া এতিমখানা ও হাফেজীয়া মাদরাসায় পাগড়ী প্রদান

এস,কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার শীতলপুর কুলসুমিয়া এতিমখানা ও হাফেজীয়া মাদরাসায় হেফজ সম্পন্নকারী হাফেজদের পাগড়ী প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বাদ জোহর মাদরাসা হল রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আলহাজ¦ আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, সমাজ সেবা অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক দেবাশীষ সরদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার সুমনা শারমিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহাগ খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার নাজিম উদ্দিন ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার পিতা আলহাজ¦ আঃ আজিজ সরদার। আশাশুনি প্রেস ক্লাবের সদস্য আঃ আলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আবু সাইদ, প্রতিষ্ঠাতার পুত্র তাহিয়ান হোসাইন ত্বোহাসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ক্বোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ তরিকুল ইসলাম ও ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করেন হাফেজ ওছমান গনি। অনুষ্ঠানে হেফজ সম্পন্নকারী হাফেজ মুস্তাফিজুর রহমান, হাফেজ সাইদুর রহমান, হাফেজ শিহাব উদ্দিন, হাফেজ তরিকুল ইসলাম ও হাফেজ ওছমান গনিকে পাগড়ী ও অন্যান্য উপহার তুলে দেন অতিথিবর্গ।

#

আশাশুনিতে জমি জবরদখল ও দেশ ছাড়ার হুমকির প্রতিকারে সংবাদ সম্মেলন

এস,কে হাসান ::

প্রভাব খাটিয়ে নি:সন্তান চাচার জমি জবরদখল, রোহিঙ্গাদের মতো ঘরবাড়ি জ¦ালিয়ে দিয়ে বাপ দাদার ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে দেশ ছাড়া করার হুমকির প্রতিকারের দাবিতে আশাশুনি প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে গোকুলনগর গ্রামের মৃত বক্স গাজীর পুত্র জয়বাংলা ’৭১ লীগের খুলনা জেলার লবনচোরা থানা শাখার সিনিঃ সহ-সভাপতি ফারুক আল-মামুন বলেন, গোকুলনগর গ্রামের মফিজুল ইসলাম ওরফে পলাশ মাহমুদ ও তার ভাই বিএনপি নেতা সুন্দরবনের বনদস্যু শরিফুল ইসলামের নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রে জর্জরিত হচ্ছেন তারা। তার চাচাতো ভাই মফিজুলের জন্মস্থান একই গ্রামে হলেও তারা পরবর্তীতে খুলনার কয়রা উপজেলা সদরের বাসিন্দা। বর্তমানে সে ঢাকার আব্দুল্লাহপুরে থাকে। কয়রার কালনা মাদ্রাসা থেকে দাখিল, কপোতাক্ষ কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে মফিজুল। ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করাকালীন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ভিসির সঙ্গে বিরোধ বাঁধলে মফিজুলের নেতৃত্বে ছাত্রশিবির সেখানে তান্ডব চালায়। ভিসিকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে মারপিট করে মফিজুল। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়েরকৃত মামলায় মফিজকে দেখা মাত্র গুলি করার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে আত্মগোপন করে মফিজুল। রাজনৈতিক পালাবদলের সাথে সাথে জাতীয় পরিচয় পত্রে (নং-১৯৮৮৪৭১৫৩৫৫৭৪৯৮১৩) মফিজুল ইসলাম নাম থাকলেও অনিয়ম ও দুর্ণীতির মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন (নং-১৯৮৮৪৭১৫৩৫৫১০০৬৫৯) তৈরি করে ভোল পাল্টাতে পলাশ মাহমুদ (ভোটার নং-৪৭১৪০১৭৪৯৮১) নাম ধারণ করেছে। তার বিরুদ্ধে লগি-বৈঠা আন্দোলনের সময় খুলনা ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ছাত্র শিবিরের পক্ষে তান্ডব চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তার ভাই শরিফুল ইসলামের নামে কালিগঞ্জ থানায় ১৯৯৫ সালে অস্ত্র মামলা, ১৯৯৮ সালে খুলনা সদর থানায় চাঁদাবাজি ও অপহরণ মামলা, তাদের জমি জবরদখল করতে গেলে স্বশস্ত্র হামলা করায় ২০১৭ ও ২০১৯ সালে পৃথক দু’টি হত্যা চেষ্টা মামলা ও ২০০৪ সালে হ্যাচারি ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলা (১৫/০৪) হয়। একইভাবে তার (মফিজুল) ভাই ১৯৯০ সাল থেকে প্রতাপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারি শরিফুলের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র বিক্রির অভিযোগ ছাড়াও এলাকার চিংড়ি ঘের দখল, চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। চার চারটি বিবাহের নাটের গুরু শরিফুল ও তার সন্ত্রাসী ভাই মফিজুল প্রভাব খাটিয়ে নিঃসন্তান চাচা কছিম উদ্দিন গাজীর আট বিঘা জমির অর্ধেক দাবিদার হলেও গায়ের জোরে সবটুকু দখলে নিতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তারা তাদেরকে (ফারুকদেরকে) রোহিঙ্গাদের মত ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে বাপ দাদার ভিটা থেকে উচ্ছেদ করে দেশ ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় (১৫৬৪/১৯ নং) জিডি করা হয়েছে এবং বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৪১৬/১৯ ও ২৬৩/১৯ নং মামলা করা হয়েছে। তবুও মফিজুল ও শরিফুলকে এহেন চক্রান্তমূলক কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। তাই অর্ধ ডজন মামলার আসামী নাম পাল্টে পলাশ মাহমুদ সাজা সন্ত্রাসী মফিজুল ও শরিফুলের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

#

আশাশুনির কুল্যায় কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

এস,কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার কুল্যায় গোপালগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে কুল্যা গ্রামের বড় মসজিদ সংলগ্ন আম বাগানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আশাশুনির আয়োজনে এলাকার কৃষক কিষানীদের অংশ গ্রহনে মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে আলোচনা রাখেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি সাতক্ষীরার উপ পরিচালক অরবিন্দু বিশ^াস। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজিবুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলহাজ¦ নূরুল ইসলাম, এসএপিপিও আব্দুল গনি, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুখদেব কুমার সাধু। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পাট প্রদর্শনী কৃষক হাবিবুর রহমান তার পাট চাষের অভিজ্ঞতা ও ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ আবু হোসাইন।

#