আশাশুনি সংবাদ ॥ সততা সংঘের সদস্যদের প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান


221 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি সংবাদ ॥ সততা সংঘের সদস্যদের প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
জুলাই ৭, ২০১৯ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস কে হাসান ::

আশাশুনিতে সততা সংঘের সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক, রচনা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের পি এন এফ ধণীরাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা ও নিষ্ঠারোধ সৃষ্টি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুনীতি দমন কমিশনের (দুদক) এর সহযোগিতায়ে ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অখিল কৃষ্ণ সানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রদীপ কুমার মন্ডল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মোহাম্মাদ নাজিম উদ্দীন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহকারি শিক্ষক সুকুমার রায়, লক্ষণ চন্দ্র মন্ডল, তপন কুমার গাইন, দেবাশীষ মুকুর মন্ডল, নেপাল চন্দ্র গাইন, পশুপতি রায়, রেখা রানী, শেলা সরকার, শুভেন্দু কুমার, আব্দুল হাই, হাবিবুল্লাহ, পুলিন বিহারী, দেব কুমার, শ্রীকান্ত প্রমুখ। পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এদেশকে দুর্নীতি মুক্ত করতে হলে প্রথমে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করতে হবে। এর জন্য বিভিন্ন সমাজিক উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড, সভা ও সেমিনার করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি মুক্ত করতে পারলে সহজে এ সমাজ থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। সবশেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

#

ঢাকায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ী তাছলীম হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে আশাশুনিতে বিশাল মানববন্ধন

এস কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কলিমাখালী গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র তাছলিম আলমকে ঢাকায় নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শ্রীউলায় বিশাল মানববন্ধন করা হয়েছে। রবিবার (৭ জুলাই) বিকাল ৫টায় নাকতাড়া কালিবাড়ি বাজার সড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
শ্রীউলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের আয়োজনে হাজার হাজার নারী পুরুষের অংশ গ্রহনে নিহতের চাচাত ভগ্নিপতি সমাজসেবক ওসমান গনীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক অসীম বরণ চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিহতের ভাই তানজির আহম্মেদ, চাচাত ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাবু, পিতা নজরুল ইসলাম, চাচাত ভাই মোস্তফা কামাল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন- গার্মেন্টস ব্যবসায়ী তাছলিম আলমকে ২৯ জুন সকালে অপহরণ করা হয়। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল সেটটি বন্ধ করে রাখা হয়। ৩০ জুন রাত ১২টার দিকে আলমের ফোনে রিং হলেও কেউ রিসিভ করেনি। এরপর কিছুক্ষণ পর আলমই ফোন করে তার মায়ের সাথে এক মিনিট এগারো সেকেন্ড কথা বলে। এ সময় সে ভাল আছি এবং বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে বলে মায়ের কাছে দোয়া চায়। এরপর ১ জুলাই দুপুর তিনটার দিকে সে মায়ের ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে লিখে ‘ মা আমার জন্য দোয়া কর, বিপদে আছি, সময়মত বাড়ি আসব’। এরপর ওইদিন রাত ১১টার দিকে তার ফোন অন্য লোক (রেল পুলিশ) রিসিভ করে জানায় উত্তরা আট নং সেক্টরে রেলগেটের সামনে তার (আলম) মৃতদেহ পড়ে আছে। নিরীহ ছেলে আলমকে অপহরণ করে তিনদিন পর অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করে রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কলিমাখালী গ্রামের সাদ্দাম। হত্যাকান্ডের কয়েকদিন আগে সাদ্দাম বাড়ি থেকে বিকাশে ১০ হাজার টাকা নিয়েছিল। এ টাকা দিয়ে সে হত্যাকান্ডের নকশা সমন্ন করেছে বলে দাবী করে বক্তাগণ বলেন, নিহত তাছলিমের সাথে যে মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছিল, তাকে সাদ্দাম বিয়ে করার পরিকল্পনা করে। এনিয়ে তাছলিমের সাথে তার দ্বন্দ্ব হয় এবং গত ঈদের সময় সাদ্দান তাছলিমকে কিভাবে বিয়ে করিস, কিভাবে বেচে থাকিস দেখে নেওয়ার হুমকী দিয়েছিল। অবিলম্বে সাদ্দামসহ এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী জানান বক্তাগন। গ্রেফতার না হলে সাতক্ষীরা ও ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে গণ অনশনসহ বৃহত্তর কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়।

#

আশাশুনির শিবির ক্যাডার হাফ ডর্জন নাশকতা মামলার আসামী মফিজুল নাম পাল্টে এখন পলাশ মাহমুদ

এস কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার গোকুলনগর গ্রামের দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার মফিজুল ইসলাম ওরফে পলাশ মাহমুদ ও তার ভাই বিএনপি নেতা সুন্দরবনের বনদস্যু শরিফুল ইসলামের নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রির হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টায় প্রেসক্লাবে গিয়ে এ সম্পর্কিত অভিযোগপত্র সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন আশাশুনি উপজেলার গোকুলনগর গ্রামের বক্স গাজীর ছেলে ফারুক আল মামুন।
লিখিত অভিযোগপত্রে ফারুক আল মামুন উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে তিনি খুলনা জেলার লবণচোরা থানাধীন মোহাম্মদ নগরে বসবাস করেন। তিনি জয় বাংলা’৭১ লীগের লবনচোরা থানা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি। মফিজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম তার চাচা মোহাম্মদ গাজীর ছেলে। মফিজুলের জন্মস্থান একই গ্রামে হলেও তারা পরবর্তীতে খুলনার কয়রা উপজেলা সদরের বাসিন্দা। বর্তমানে সে ঢাকার আব্দুল্লাহপুরে থাকে। কয়রার কালনা মাদ্রাসা থেকে দাখিল, কপোতাক্ষ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করে মফিজুল। ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করাকালিন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ভিসির সঙ্গে বিরোধ বাঁধে ছাত্র শিবিরের। এ সময় মফিজুলের নেতৃত্বে ছাত্রশিবির তান্ডব চালায়। ভিসিকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে মারপিট করে মফিজুল। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়েরকৃত মামলায় মফিজকে দেখা মাত্র গুলি করার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে আত্মগোপন করে মফিজুল। রাজনৈতিক পালাবদলের সাথে সাথে জাতীয় পরিচয় পত্রে মফিজুল ইসলাম (নং-১৯৮৮৪৭১৫৩৫৫৭৪৯৮১৩) নাম থাকলেও অনিয়ম ও দুর্ণীতির মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন (নং-১৯৮৮৪৭১৫৩৫৫১০০৬৫৯) তৈরি করে ভোল পাল্টাতে পলাশ মাহমুদ (ভোটার নং-৪৭১৪০১৭৪৯৮১) নাম ধারণ করেছে। তার বিরুদ্ধে লোগো বৈঠা আন্দোলনের সময় খুলনা ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ছাত্র শিবিরের পক্ষে তান্ডব চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কালিগঞ্জ থানায় ১৯৯৫ সালে অস্ত্র মামলা, ১৯৯৮ সালে খুলনা সদর থানায় চাঁদাবাজি ও অপহরণ মামলা, তাদের জমি জবরদখল করতে গেলে স্বশস্ত্র হামলা করায় ২০১৭ সালে আশাশুনি থানায় ২০১৭ ও ২০১৯ সালে পৃথক দু’টি হত্যা চেষ্টা মামলা ও ২০০৪ সালে হ্যাচারি ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলা (১৫/০৪) হয়।
একইভাবে তার (মফিজুল) ভাই এক সময়কার ছাত্র শিবিরের সক্রিয় সদস্য ১৯৯০ সাল থেকে প্রতাপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেব দায়িত্ব পালনকারি শরিফুলের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র বিক্রির অভিযোগ ছাড়াও এলাকার চিংড়ি ঘের দখল, চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। চারটি বিবাহের নাটের গুরু শরিফুল ও তার সন্ত্রাসী ভাই মফিজুল প্রভাব খাটিয়ে নিঃসন্তান চাচা কছিম উদ্দিন গাজীর আট বিঘা জমির অর্ধেক দাবিদার হলেও গায়ের জোরে সবটুকু দখলে নিতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তারা তাাদেরকে (ফারুক) রোহিঙ্গাদের মত ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে বাপ দাদার ভিটা থেকে উচ্ছেদ করে দেশ ছাড়া করার হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। মামলা করা হয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেড আদালতে। মফিজুলের ভাই রবিউল ও আসাদুল বর্তমানে জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ও তাদের বোন ফিরোজা আক্তার সালমা প্রতাপনগর ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক। তারাই মুলতঃ সাঈদী মুক্তি মঞ্চের উদ্যোক্তা ও অর্থযোগানদাতা বলে অভিযোগ রয়েছে। জানতে চাইলে মফিজুল ইসলাম বলেন, ফারুক আল মামুন এক সময় জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিল। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সে খুলনায় যেয়ে নব্য আওয়ামী লীগার সেজে পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

#