আশাশুনি সংবাদ ॥ সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন


167 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি সংবাদ ॥ সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন
মে ১২, ২০১৯ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস কে হাসান ::

সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও চাঁদাবাজদের ধিক্কার জানিয়ে এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবিতে আশাশুনিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০ টায় আশাশুনি থানা সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
আশাশুনি সদর ইউনিয়ন পরিষদ, সুশীল সমাজ ও হাট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির যৌথ উদ্যোগে আহুত মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলন। যুবলীগ নেতা সাংবাদকি এম এম সাহেব আলির সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম মোল্যা, জাপা নেতা জহুরুল হক, হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি প্রদর্শক ইয়াহিয়া ইকবাল, স্বেচ্ছাসবেকলীগ সভাপতি এস এম সাহেব আলি, শ্রমিকলীগ সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বিপুল, পুজা উদযাপন পরিষদ সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কুমার বৈদ্য, গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সভাপতি ডাঃ আশুতোষ রায়, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারী আবুল কালাম আজাদ, প্যানেল চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা শাহিনুর আলম, ইউপি সদস্য তরিকুল আওয়াল সেজে, সন্তোষ কুমার মন্ডল, মিজানুর রহমান, তারক চন্দ্র মন্ডল, পারুল আক্তার প্রমুখ। বক্তাগণ, আশাশুনিতে মাদক দ্রব্যের বেচাকেনা ও মাদকাসক্ততা নির্মূল করা, সন্ত্রাস-নাশকতা ও চাঁদাবাজীর মত চরম ্আইন বিরোধী কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কমানা করেন।

#

আশাশুনিতে বিশ্ব মা দিবসে আলোচনা সভা

এস কে হাসান ::
বিশ^ মা দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আশাশুনিতে মহিলা সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলাম। মহিলা দপ্তরের ট্রেইনার সারমিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা য্বু উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম আজিজুল হক, সমবায় অফিসার মোঃ করিমুল হক, আশাশুনি প্রেসক্লাব সভাপতি এস এম আহসান হাবিব, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জি এম মুজিবুর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য কল্যাণী রানী সরকার প্রমুখ। উপজেলার বিভিন্ন মহিলা সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ মহিলাদের অংশ গ্রহনে সভায় ‘মা’ তথা নারী সম্প্রদায়ের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় সামাজিক দায়বদ্ধতা, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধান ও ধর্মীয় অধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়। যাতে আর কোন মা ও মায়ের জাতের কোন অসম্মান, অমর্যাদা ও অবহেলা-অযতœ না হয় সে ব্যাপারে সকলকে সজাগ হতে সচেতন করা হয়।

#

এনজিও’র ঋণের বেড়াজালে অসহায় মানুষ

এস কে হাসান ::

হত দরিদ্র জনগোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মানব সেবা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এনজিওগুলো কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু তার মধ্যে একটি অংশ সরকারি অনুমোদন নিয়ে কিংবা অনুমোদনের রীতি ভেঙ্গে ঋণের নামে টাকার অংক ফাঁকা রাখা ব্যাংক চেক গ্রহন করে, গ্রাহকদের ঠকানোর পাশাপাশি সর্বশান্ত করার মত অসাধু কর্ম করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এনজিওগুলো সরকারি অনুমোদন পেয়ে গ্রামের অসহায় মানুষকে ব্যবসা, কৃষিকাজ, মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন কাজের জন্য ঋণ প্রদান করে থাকে। এলাকার নিরিহ মানুষ এসব কাজের জন্য সমিতি/এনজিও থেকে ঋণ গ্রহন করে থাকে বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে। যার মধ্যে দলিল, স্বাক্ষরকৃত নন-জুটিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্প, ব্যাংকের সাদা চেক (স্বাক্ষরকৃত) জামানত হিসাবে জমা রাখতে হয়। চেক বা স্ট্যাম্পে ঋণের প্রকৃত টাকার অংক বসিয়ে জামানত হিসাবে রাখলে অভিযোগ ছিলনা। কিন্তু ঋণের কিস্তি পরিশোধের কোন এক পর্যায়ে অপারগতার কারণে ঋণ পরিশোধে সমর্থ না হলে কিংবা বিলম্বিত হতে থাকলে কোন কোন ঋণদ্বাতা সংস্থা তাদের কাছে রক্ষিত স্ট্যাম্প ও চেকে ইচ্ছেমত টাকার অংক বসিয়ে মিথ্যা মামলা রুজু করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে নিরিহ ঋণ গ্রহিতারা টাকার পাহাড়সম ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়ে থাকে। তাদরে সংসার ক্রমে ক্রমে রসাতলে পড়ে যায়। অপরদিকে কিছু কিছু এনজিও এলাকায় অফিস খুলে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। আর এন্ড পি’র বিভিন্ন শাখা, দারুস সালাম লিঃ (সোনালী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন), হায় হায়, সোপট, জয়েন্ট ইসলামী ফাইনান্স, ফুলতোলা সমবায় সমিতি প্রভৃতি এনজিও প্রতারণার কারবার গ্রাহকদের ঠকিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের কাছে ঋণ গ্রহিতাদের রাখা স্ট্যাম্প বা ব্যাংক চেক ব্যবহার করে এনজিও নয় বর্তমানে প্রভাবশালীদের সহায়তায় ব্যক্তি বাদি হয়ে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। আশাশুনির চিলেডাঙ্গা গ্রামের শাহাবুদ্দিন সরদারের পুত্র জোবায়ের, ধান্যহাটির গহর আলির পুত্র নজরুল, আমিনুর, গোদাড়ার শামছুদ্দিন মোড়ল, কুড়িকাহুনিয়ার হযরত আলি, গোদাড়ার বোরহান উদ্দিন, লতিফ মোড়ল, সোনাটির ছালাম গাজী, কালিগঞ্জের সহিদুল ইসলামসহ অনেকে মামলার শিকার হয়েছেন। জোবায়ের হোসেন বলেন, তিনিসহ মিথ্যা মামলার শিকার অনেকেই চরম বিপাকে রয়েছেন। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাগ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।

#

কুল্যায় বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন

এস কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার কুল্যা পশ্চিম পাড়ায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। বিষক্রিয়ায় প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মৎস্য চাষি কুল্যা গ্রামের মৃত আলি হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলাম জানান, শনিবার দিবাগত রাত্র ৮ টার দিকে তিনি দেখতে পান তার পুকুরে মাছ ভাসছে। তাৎক্ষনিক ভাবে তিনি পুকুরে জাল টানা শুরু করেন। এসময় তিনটি ডেনিটল নামক বিষের বোতল পাওয়া যায়। জাল টেনে প্রায় ৮/১০ মন মরা রুই, কাতলা, মৃগেল মাছের পোনা ও বড় মাছ ধরা পড়ে।া তিনি জানান, ৩ দিন আগে পার্শ্ববর্তী তার ৪ বিঘা জমির ঘেরের ১০-১৫ মণ মাছ এই এক বিঘা জমির পুকুরে নিয়ে আসেন।

#

আশাশুনিতে ইয়াবা ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার- ৩

এস কে হাসান ::

আশাশুনি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীসহ ৩ আসামীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের রোববার আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোঃ সাজ্জাদুর রহমান (বিপিএম) এর দিক নির্দেশনায় আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ, বিপ্লব কুমার নাথের নেতৃত্বে এএসআই হারুনুর রশিদ, এসআই বিজন কুমার সরকার, এএসআই মোকাদ্দেস হোসেন অভিযান চালিয়ে ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ খড়িয়াটি গ্রামরে মৃত অছের খাঁর পুত্র আঃ মালেক খাকে গ্রেফতার করেন। এএসআই তরুন কৃষ্ণ রায় জিআর-৫৪/০৫ (ওয়ারেন্ট) আসামী দরগাহপুর গ্রামের কামালউদ্দিনের পুত্র শেখ হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করেন। অপরদিকে এএসআই মাহাবুব হাসান জিআর-১৯৭/১০ (ওয়ারেন্ট) আসামী রাজাপুর গ্রামের কেটু মোড়লের পুত্র আক্তার মোড়লকে গ্রেফতার করেন।

#

আশাশুনিতে ৮৭ বছরের মানিক বয়স্ক ভাতা পেতে দারে দারে ঘুরছেন

এস কে হাসান ::
আশাশুনি সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বলাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মনিক চন্দ্র সানা। জন্ম ১৯৩১ সালের ২২ অক্টোবর। খাতা কলমে প্রায় ৮৭ বছর। একটি বয়স্কভাতার কার্ডের জন্য আজ দু’বছর হলো সমাজসেবা অফিসে ঘুরছেন। কিন্তু কার্ড আজও তার ভাগ্যে জোটেনি।
রবিবার (১২ মে) দুপুরে তিনি সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী চন্দ্র মল্লিকা সাহানীকে খুঁজতে অফিস ঘুরে তার বাসায় যান। দেখা না পেয়ে তার বাসার গেটের পাশে ঘাসের উপর শুয়ে পড়েন। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের চোখে পড়ে। তারা বৃদ্ধ মানিক চন্দ্রকে তুলে নিয়ে চায়ের দোকানে এনে তার কথা শুনে বিস্মিত হয়ে পড়েন। কথা বলার শুরুতে তিনি ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন। তিনি জানান, যৌবনকালে তিনবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। ৩ ছেলের মধ্যে দুটো থাকে ভারতে। একটি ছেলে (খগেন্দ্র) সামান্য জমিতে মাছের ঘের করলেও বাগদায় ভাইরাস লাগায় সেও একেবারে কপর্দক শুণ্য। সংসার চলেনা। তাই বাধ্য হয়ে প্রায় দুবছর যাবত সমাজসেবা অফিসে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য ঘুরছি। অফিসের লোক দুবার আমার আইডি কার্ডের (৮৭১০৪১৭৬৯৬৩৬৭) ফটোকপি নিয়েছেন কিন্তু অজ্ঞাত কারনে আজও কার্ড হয়নি। আজ (রবিবার) প্রখর রোদে অফিসে এসেছিলাম বাড়ী থেকে ১০টি টাকা হাতে নিয়ে প্রায় ৭ কি:মি: পথ পায়ে হেঁটে। দুপুরের ঝাঁ ঝাঁ রোদে ক্ষুধার্ত অবস্থায় মাথা ঘুরতে থাকায় চন্দ্রমল্লিকার বাসার সামনে ঘাসের উপর শুয়ে পড়েছিলাম। তিনি বলেন হোটেলে গিয়েছিলাম ভাত খেতে। ১০ টাকায় ডাল ভাতও হয়না তাই চলে এসেছি। সাংবাদিকরা তার খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, পরিস্থিতি আর নিয়তি এখানে নিয়ে এসেছে। অসহায় ছেলের বোঝা হয়ে থাকতে বড় কষ্ট হয়। বাবা আর হয়ত বেশি দিন তোমাদের কষ্ট দেব না। দেখ চেষ্টা করে যদি কিছু করতে পার।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলন বলেন, মানিক চন্দ্র সানা আমার তালিকা জমা দেওয়ার পর আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন। ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বরও তার তালিকায় ওনার নাম দেননি। ওনাকে বলেছি এর পরের তালিকায় অবশ্যই তার নাম দেব।