আশাশুনি সংবাদ ॥ স্রোতস্বিনী মরিচ্চাপ নদী এখন ছোট্ট একটি নালায় পরিণত


181 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি সংবাদ ॥ স্রোতস্বিনী মরিচ্চাপ নদী এখন ছোট্ট একটি নালায় পরিণত
মে ২৫, ২০১৯ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,কে হাসান ::

কালের আবর্তে আমাদের দেশের অনেক কিছু হারিয়ে যাচ্ছে। অনেক কিছু এমন পর্যায় এসে পৌছেছে যে ভাবতে অবাক লাগে এটি কি করে সম্ভব! এমনই একটি অসম্ভব পরিণতির শিকার খর স্রোতা মরিচ্চাপ নদী।
বড়দল হতে শুরু হয়ে চাপড়ার গা ঘেষে আশাশুনি উপজেলা সদরের সীমানা নির্ধারণ করে শোভনালী হয়ে ব্যাংদহা বাজার দিয়ে সাতক্ষীরার প্রাণ সায়ের খালে গিয়ে পৌছেছিল মরিচ্চাপ নদী নামে একটি খর¯্রােতা নদী। এ নদির একটি শাখা শালখালী হয়ে কালিগঞ্জের কাকসিয়ালি নদীতে গিয়ে নেমেছিল। মরিচ্চাপ নদী দিয়ে স্টিমার, লঞ্চ ও বড় বড় নৌকাসহ বাণিজ্যের কাজে ব্যবহৃত অনেক নৌযান এই পথে চলাচল করতো। দেশের বড় বড় শহর এবং ভারতের কোলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানে মাদুর, তামাক, ধান, সোনালী আশ পাট আমদানী রপ্তানি ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রধান পথ ছিল এই নদী। নদীতে ছিল বড় আকৃতির ভয়াবহ প্রাণি ও সব ধরনের মাছে পরিপূর্ণ। কিন্তু এখন সে নদী আর নেই। কালের আবর্তে সবকিছু হারিয়ে গেছে। নদীটি বর্তমানে ছোট হতে হতে এখন নালায় পরিণত হয়েছে। নদীর দু’পাশের ভরাটি জমিতে এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, স্থাপনা, ইটভাটা, মৎস্য ঘেরসহ অবৈধ ও ইজারা নেওয়ার পর দখল। ফলে নদী দখল হতে হতে এখন খুবই সংকীর্ণ হয়ে গেছে। দখলদারদের কবলে পড়ে নদী এখন খাল নয় বরং কয়েক গজের নালায় পরিণত হয়েছে। ভাটার সময় এখানে কোন পানি থাকেনা। সাধারণ জোয়ারেও পানি উঠেনা। অমাবস্যা, পুর্ণিমা তিথিতে সামান্য পানির ছোয়া পায় এই মৃত নদীটি। ফলে এলাকার পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে। ধান চাষ যেমন খুবই সমস্যা জর্জরিত, পাশাপাশি মৎস্যঘের গুলো লবণ পানির অভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ৭/৮ বছর আগে খাল খননের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হলেও শেষ করা হয়নি। অপর্যাপ্ত ভাবে ইল্লারচর, ব্যাংদহা এলাকার দিকে খাল খননের কাজ করা হয়েছিল। শোভনালী-নৈকাটির দিকে খনন কাজ করা হয়নি। ফলে সামান্য খননের কাজেরও কোন সুফল এলাকাবাসী দেখতে পায়নি। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর দাবী মরিচ্চাপ নদীটি পুনঃ খননের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সাথে সাথে নদীর পানি প্রাণ সায়েরে আটকে না থাকে সে ব্যাপারেও সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

#

কাদাকাটিতে ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই,বিবাদীদের আদালত অমান্য

এস,কে হাসান ::

আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটিতে এক মাছ ব্যবসায়ীকে বেদম মারপিট করে টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। এব্যাপারে গ্রাম আদালতে অভিযোগ করা হলে বিবাদীরা আদালতকে অমান্য করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে জব্দ করতে বিজ্ঞ আমলী আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানাগেছে।
পূর্ব কাদাকাটি গ্রামের অনিল সরকারের পুত্র তপন কুমার সরকার পূর্ব কাদাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন কিত্তীবাস স্টোরের পাশে বসে মাছ ক্রয় করছিলেন গত ১০ মে সকাল ৭ টার দিকে। এসময় স্থানীয় কনক চন্দ্র সরকারের পুত্র পলাশ ও তার ভাই আশীষ এবং দিলীপ সরকারের পুত্র দেবব্রত সরকার তার সহযোগিদের নিয়ে তাকে বেদম মারপিট করে তার পকেটে থাকা ব্যবসার ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী অভিমান্য সরকারের পুত্র যুধিষ্টি সরকারসহ অন্যরা এগিয়ে গিয়ে তপনকে রক্ষা করলেও টাকা নিয়ে তারা কেটে পড়ে। এদিন রাতে আক্রমনকারীরা পুনরায় তপনের বাড়িতে গিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উৎখাত ও তাকে জীবন নাশের হুমকী ধামকী প্রদান করে। এব্যাপারে ১১ মে তপন কুমার কাদাকাটি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালেতে ৩২/০৯ নং মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত সমন জারি করলে প্রতিবাদীগণ সমন গ্রহন করেননি। তখন যথানিয়মে সমন লটকাইয়ে জারি করা হয়। ধার্য তারিখে আবেদনকারী হাজির হয়ে ২জন প্রতিনিধি মনোনয়ন করেন। প্রতিবাদীগণ হাজির হননি। বিধায় গ্রাম আদালত আইন মোতাবেক আবেদনকারী বিচারযোগ্য বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আদালতে মামলা করতে পারবেন মর্মে আদেশ সমেত আবেদনপত্রটি আবেদনকারীকে ফেরৎ প্রদান করা হয় গত ২১ মে। এদিকে ধুরন্ধর প্রতিপক্ষ বিষয়টিতে ভিন্নখাতে প্রবাহের হীন চক্রান্তে গ্রাম আদালতে মামলা দায়েরের ৫দিন পর টাকা খুইয়ে ও মারপিটের শিকার হওয়া তপনকে বিপাকে ফেলতে তাকেসহ ৪জনকে বিবাদী করে বিজ্ঞ আমলী ৮নং আদালত, সাতক্ষীরায় মিথ্যা ও পরিকল্পিত কাহিনী উপস্থাপন করে মামলা রুজু করেছেন। এব্যাপারে এলাকার মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ বিচার বিভাগীয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে তপন ও তার পরিবারের সদস্যরা সঠিক তদন্তপূর্বক কার্যকর পদক্ষেপের দাবী করেছেন।

#

আশাশুনিতে পুলিশী অভিযানে গ্রেফতার-৩

এস,কে হাসান ::

আশাশুনি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ আসামীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের শনিবার আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোঃ সাজ্জাদুর রহমান (বিপিএম) এর দিক নির্দেশনায় আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথের নেতৃত্বে এএসআই হারুনুর রশিদ ও এসআই মোহাম্মদ মামুনুর রহমান অভিযান চালিয়ে শ্রীধরপুর গ্রামের অফেল ঢালীর পুত্র রুবেল ঢালীকে শ্রীধরপুর বাজার হতে গ্রেফতার কারেন। এএসআই মোল্যা সোহেল জিআর-২৫৩/১৫ (ওয়ারেন্ট) আসামী খলিসানী গ্রামের মৃত আনিছ গাইনের পুত্র আজগর গাইনকে খলিশানী বাজার হতে গ্রেফতার করেন। এএসআই আলমগীর হোসনে পৃথক অভিযানে জিআর-১৮৬/১৮ (ওয়ারেন্ট) আসামী সামজেদ আলি গোলদারের পুত্র নজরুল ইমলামকে গ্রেফতার করেন।

#