আশাশুনি সড়কে জেলা পরিষদের ৫টি জীবন্ত শিরিস গাছ মৃত দেখিয়ে বিক্রি : জনতার প্রতিরোধ


1669 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি সড়কে জেলা পরিষদের ৫টি জীবন্ত শিরিস গাছ মৃত দেখিয়ে বিক্রি : জনতার প্রতিরোধ
আগস্ট ১৯, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান :
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর বাজারের সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কের ধারে লাগানো জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ৫টি মূল্যবান জীবন্ত শিরিস চটকা গাছ মরা ও ঝুঁকিপূর্ন দেখিয়ে কেটে ফেলার সময় জনগণের প্রতরোধের মুখে তা পন্ড হয়ে গেছে। এ সময় ঘটনা স্থল থেকে গাছ কাটার সাথে জড়িত জেলা পরিষদ সার্ভেয়ারসহ অন্যান্যরা দ্রুত পালিয়ে যান। জেলা পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে শুক্রবার অফিস ছুটির দিনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সকালে এই গাছ গুলো কেটে ফেলা হচ্ছিল। জনগণ বাধা দেয়ার আগেই গাছের ডালপালা সব কেটে ফেলা হয়। গাছগুলোর মূল্য আনুমানিক ৪ লাখ টাকা। সড়কের ধারে নির্মাণাধীন মাকের্টের মালিক পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামান অফিসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই গাছ গুলো কাটার ব্যবস্থা করেন বলে জানা গেছে।
Photo (1)
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কের দুই ধারে বড় বড় মূল্যবান শিরিস চটকা গাছ রয়েছে। সম্প্রতি সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর বাজারের গাজী মার্কেটের সামনের সড়কের পূর্বপাশে দু’টি মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণাধীন এই মাকের্টের সামনে সড়কের ধারে ৫টি মূল্যবান শিরিস চটকা গাছ রয়েছে। মার্কেটের মালিক শেখ ফারুক হোসেন ও গৌরাঙ্গ মল্লিক তাদের সুবিধার জন্য জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ওই গাছ গুলো কেটে ফেলার উদ্যোগ নেন। তারা এর জন্য জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামানকে ম্যানেজ করে ফেলেন। মার্কেটের মালিক পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামান ওই গাছ গুলো মরা এবং জনসাধারনের জন্য বিপদজ্জনক উল্লেখ করে তা কেটে ফেলার জন্য সুপারিশ করেন। একপর্যায় তিনি জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে ওই ৫টি গাছ কাটার অনুমোদন করান। সে অনুযায়ী শুক্রবার ছুটির দিনে এই গাছ গুলো কেটে ফেলা হচ্ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দা সিয়াম উদ্দীন সরদার, ইব্রাহিম মোড়ল, রবিউল ইসলামসহ আরো অনেকেই জানিয়েছেন।

Satkhira tree picture--08

স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, শহরের সুলতানপুর এলাকার শরিফুল ইসলাম মিঠু ও জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামান দুজনের যোসাজশে জেলা পরিষদের সড়কের ধারের জীবন্ত গাছ গুলো এভাবে মরা দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কেটে তা বিক্রি করে হচ্ছিল। তারা আরো জানান, জেলা পরিষদ প্রশাসক মুনসুর আহমেদ মিঠুর মামা এই পচিয় ভাঙ্গিয়ে মিঠু একের পর এক এ ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামান ঘুষ গ্রহণের কথা অস্বীকার করে বলেন, গাছ গুলো বিপদজ্জনক হওয়ায় সেগুলো কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। জেলা পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষেই সড়কের ধারের এসব গাছ কাটা হচ্ছিল, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানেরা সুবিধার জন্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, জেলা পরিষদের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরে গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়া হয়।
তবে স্থানীয় এলাকাবাসী বাজারের শোভাবর্ধনের জন্য এসব গাছ না কাটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।