ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিপাকে আ’লীগ-বিএনপি


343 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিপাকে আ’লীগ-বিএনপি
ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক:
সাতক্ষীরা জেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আ’লীগ-বিএনপি। চেয়ারম্যান পদে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অনেকেই মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, যোগ্য প্রার্থীর পরিবর্তে পছন্দের লোককে প্রত্যয়ন দেয়ায় বঞ্চিতরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরাই মূলত বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন। তবে বিএনপির চেয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। কোনো কোনো ইউপিতে আওয়ামী লীগের ৩-৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশাবাদ, বিদ্রোহীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন। আর বিএনপি বলছে, কৌশলগতকারণে তারা একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল করেছে। বিদ্রোহী দমন করতে না পারলে পাল্টে যেতে পারে ভোটের হিসেব বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সূত্র জানায়, জেলার ৭৮টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে কলারোয়ার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হওয়ায় ৭৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদরের ঘোনায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল কাদের, শিবপুরে ইমাদুল ইসলাম, ভোমরায় বিএনপি’র রবিউল ইসলাম, আলিপুরে জোটের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ছোট, লাবসায় বিএনপির স ম আকবর আলী, বাশদহায়ে যুবলীগের মইনুর, শেখ শহীদুজ্জামান, ইমাদুল হক, শরিফুল, আব্দুল খালেক ও জাহাঙ্গীর, বিএনপি’র নাছিমুল হক, আগরদাড়িতে আ’লীগের মজনুর রহমান মালি, বিএনপি’র লুৎফর রহমান।

কলারোয়া উপজেলায় জয়নগর ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা শফিকুর রহমান মালি, আ’লীগ নেতা হাবিবুর রহমান, যুবলীগ নেত্রী প্রভাষিকা মনিরা বিশ্বাস, আ’লীগ নেত্রী বিশাখা সাহা তপন। জালালাবাদ ইউনিয়নে আ’লীগ নেতা আব্দুল খালেক। কয়লা ইউনিয়নে ছাত্রলীগ নেতা শেখ ইমরান হোসেন, লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নে আ’লীগ নেতা প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম । কেঁড়াগাছি ইউনিয়নে আ’লীগ নেতা মারুফ হোসেন ও আফজাল হোসেন হাবিল। চন্দনপুর ইউনিয়নে আ’লীগ নেতা অধ্যাপক রুস্তম আলি, হারুন-অর-রশিদ ও নুরুল ইসলাম । কেরালকাতা ইউনিয়নে আ’লীগ নেতা আব্দুল হামিদ সরদার ও ফারুক হোসেন। হেলাতলা ইউনিয়নে আ’লীগ নেতা বেলাল হোসেন, কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নে আ’লীগ নেতা সাঈদ আলি গাজী, আ’লীগ নেতা জাকির হোসেন, দেয়াড়া ইউনিয়নে আ’লীগ নেতা মেহেদী মাসুদ এবং যুগিখালি ইউনিয়নে আ’লীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক ওজিয়ার রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছে।

দেবহাটা উপজেলার কুলিয়ায় আ’লীগ নেতা ইমাদুল ইসলাম ও তার ভাই আসাদুল ইসলাম, পারুলিয়া ইউনিয়নে উপজেলা ওলামা লীগের সভাপতি সফিকুর রহমান সেজ, বিএনপি নেতা গোলাম ফারুক বাবুর স্ত্রী আরিফা বেগম, নওয়াপাড়া ইউনিয়নে আ’লীগ নেতা আব্দুল করিম, দেবহাটা সদর ইউনিয়নে আবু বকর গাজী, বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন বকুল বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। অন্যদিকে কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নে আ’লীগ নেতা ডি এম সিরাজুল ইসলাম দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে জমা দিয়েছে। একই অবস্থা আশাশুনি, শ্যামনগর, তালার কয়েকটি ইউনিয়নে। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে কয়েকটি ইউনিয়নে সুপারিশ উপেক্ষা, আর্থিক লেনদেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ নানা কারণে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করেন দুই দলের একাধিক নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনৈতিক সুযোগে অনেক নিষ্ক্রিয় ও অযোগ্যরা মনোনয়ন পেয়ে গেছেন। বাদ পড়েছেন যোগ্য ও ত্যাগীরা।

এই প্রথম বারের মতো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ করার জন্য বড় দলগুলো নানা ধাপে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে। এই বাছাই প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের সমস্যার কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যাশার চেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন দুই দলের জেলা পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা। জেলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন এক নেতা জানান, বিভিন্ন উদ্যোগের পরও যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচন করবে প্রয়োজনে তাদের বহিষ্কার করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নির্দেশনার প্রয়োজন আছে। তবে ঐ নেতা আশা করেন যারা বিদ্রোহী হিসেবে আছেন তারা দলের প্রতি অনুগত হয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেবেন। তবে জেলা বিএনপি’র এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিছু কৌশলগত কারণে কয়েকটি ইউনিয়নে একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছে। বড় ধরণের সমস্যা না হলে তারা সঠিক সময়ে তা প্রত্যাহার করে নেবে।