ইতিহাসের পাতা থেকে : টেস্ট ক্রিকেটের একজন আদর্শ ফাস্ট বোলার শিবলু


946 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ইতিহাসের পাতা থেকে : টেস্ট ক্রিকেটের একজন আদর্শ ফাস্ট বোলার শিবলু
অক্টোবর ২৮, ২০১৬ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল শাহাদাৎ (জাকির), ক্রীড়া প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ক্রিকেটে স্পিনারদের দাপট দেখা গেলেও পেস বোলারের সংকট কখনোই ছিলনা এ দেশে। মাশরাফি, তাপস বৈশ্য, শাহাদাত, রাসেল,
রুবেল সহ অনেক বোলারই ভালো করেছেন।
হালের তাসকিন, মুস্তাফিজ তো আছেই। রবিউল ইসলামও তাদের মধ্যে অন্যতম।
একজন স্পেশালিষ্ট ফাস্ট বোলার হিসেবে ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডসে টেস্ট অভিষেক। ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড ৫০৫ রান
সংগ্রহ করেন। ৫ উইকেট নিয়ে অনার্স
বোর্ডে নাম লেখান শাহাদাত হোসাইন। ২২ ওভারে ১০৭ রান দিয়ে উইকেট শুণ্য থাকেন রবিউল। জবাবে বাংলাদেশ তামিম-জুনায়েদ এর
ফিফটিতে ২৮২ রান করে বাংলাদেশ। ১১ নাম্বারে নেমে ১৪ বলে ৯ রান করে অপরাজিত থাকেন
রবিউল। ফলোঅনে পরে পুনরায় ব্যাট করতে নেমে তামিমের সেঞ্চুরী ও কায়েস জুনায়েদ এর ফিফটিতে ৩৮২ করে বাংলাদেশ।
৩ বলে কোন রান না করে অপরাজিত থাকেন রবিউল। ১৬০ রানের টার্গেট পেয়ে ৮ উইকেটে জয়লাভ করে ইংল্যান্ড।
১ ওভারে ১২ রান দিয়ে উইকেট শুন্য থাকেন রবিউল। তারপর জাতীয় দলের হয়ে ২০১৪ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ পর্যন্ত মাত্র ৯টি টেস্ট
ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে ৩৩ রান বেস্টে ৯৯ রান
করেন। বল হাতে ৬ উইকেট বেস্টে ২ বার পাঁচ বা ততোধিক উইকেট প্রাপ্তিতে ২৫ উইকেট
শিকার করেন। ফিল্ডার হিসেবে ৫টি ক্যাচ নেন তিনি।
২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ওয়ানডে অভিষেক। ম্যাচে নাসিরের ৬৮ রানের সুবাদে ২৬৯ রান করে বাংলাদেশ। ব্যাট করার সুযোগ হয়নি
রবিউল এর। জবাবে ১৪৮ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন জিয়াউর রহমান। ওপেনিং এ ৫.১ বল করে ২১ রান
দিয়ে ১ উইকেট শিকার করেন রবিউল। তৎপর ক্যারিয়ারে একই সিরিজের ৩টি ওয়ানডে ম্যাচ
খেলেন তিনি। ব্যাট হাতে কোন রান করতে না পারলেও বল হাতে ১ উইকেট বেস্টে ২
উইকেট শিকার করেন।
২০১৩ সালেই জিম্বাবুয়ের সাথে টি২০ ম্যাচে
অভিষেক। ম্যাচে তামিমের ৪৩ ও সাকিবের ৪০
রানের সুবাদে ১৬৮ রান করে বাংলাদেশ। ব্যাট করার
সুযোগ হয়নি রবিউল এর। জবাবে নির্ধারিত ২০
ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশ ৩৪ রানে জয়লাভ করে। বল হাতে ১
ওভারে ১৩ রান দিয়ে আর বল করার সুযোগ পাননি
রবিউল। ক্যারিয়ারে এই একটি মাত্র টি২০ ম্যাচ
খেলেন তিনি।
অভিষেক টেস্টে তেমন সুবিধা করতে না পারলেও পরবর্তীতে ঠিকই নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। বিদেশের মাটিতে যেখানে বাংলাদেশী বোলাররা সুবিধাই করতে পারেনা
সেখানে ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ২ টেস্টের সিরিজে ৫ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হন।
ক্যারিয়ার এর শেষ ৩ টেস্টের ২টি উইকেট শুণ্য এবং শেষের টেস্টে ২ উইকেট নেওয়ার পর
থেকে আর জাতীয় দলের হয়ে বিবেচিত হননি
তিনি। অথচ দূর্দান্ত বোলিং এর পাশাপাশি শেষের
দিকে ব্যাট হাতেও ঝড় তুলতে পারতেন তিনি।
২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ড এর বিরুদ্ধে ক্যারিয়ার
সেরা ৩৩ রান করেন। ২০১৩ সালেই জিম্বাবুয়ের
বিরুদ্ধে সিরিজের ২য় টেস্টের প্রথম ইনিংসে
১১ নাম্বার পজিশনে ব্যাট করতে নেমে ১৮
বলে ২ চার ও ২ ছয়ে ২৪ রান করে অপরাজিত
থাকেন।
২০১৪ সালের পর জাতীয় দলে নেই তিনি। অথচ
থেমে যাওয়ার মতো কোন কারনই ছিলো না। ৯
টেস্টের বিচারে ২৫ উইকেট দুর্দান্ত
ক্রিকেটেরই অংশ।