ইতিহাসের হাতছানি, প্রতিপক্ষ সেই ভারত


326 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ইতিহাসের হাতছানি, প্রতিপক্ষ সেই ভারত
আগস্ট ১৮, ২০১৮ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
আজকের ম্যাচ জিতলেই নতুন ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশের মেয়েরা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব–১৫ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হবে বাংলাদেশ। ইতিহাস গড়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তারা। মঞ্চও প্রস্তুত। সেই মঞ্চে বিজয়কেতন উড়ানোর অপেক্ষা।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে নামবে মেয়েরা। প্রতিপক্ষ সেই ভারত, আট মাস আগে ঘরের মাঠে যে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার আয়োজিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের উৎসব করেছিল বাংলাদেশ। কিশোরী মেয়েরা লিখেছে নতুন ইতিহাস। আজ তারা সেই ইতিহাসের পাতায় আরও একটি উপাখ্যান যোগ করার স্বপ্নে বিভোর।

এ টুর্নামেন্টে দু’দলের গোলসংখ্যা বা জয়ের ধরন কিংবা আগের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সমাবেশ- সব মানদণ্ডেই বেশ বড়সড় ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশের কিশোরীরা। আর তাই, থিম্পুতে আজ সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবলের ফাইনালে বাংলাদেশই ফেভারিট। মাঠে নামার আগে মারিয়া মান্ডা-আঁখি খাতুনরা আওড়ালেন চোয়ালবদ্ধ শপথবাক্য- ‘জিততে আমাদের হবেই।’ জয়ের শপথ নেওয়া শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি শুরু হবে আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়। ভুটানের থিম্পু থেকে ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে https://mycujoo.tv/video/bhutan-football?id=21948 এই ঠিকানায়।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় শিরোপার সুতীব্র স্বপ্ন সামনে রেখে শুক্রবার থিম্পুর চাংলিমিথান স্টেডিয়ামে অনুশীলন করে বাংলাদেশ দল। প্রায় চল্লিশ মিনিট স্থায়ী এ অনুশীলন পর্বে কিশোরীদের শেষ মুহূর্তের শারীরিক, মানসিক প্রস্তুতি দেখভাল করেন প্রধান কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন এবং টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি। পরে সন্ধ্যায় টিম হোটেল আরিয়া থিম্পুতে ব্রিফিং মিটিংয়েও বসেন খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তারা।

কোচ গোলাম রাব্বানী মনে করছেন জয়ের জন্য নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই যথেষ্ট, সাত মাস ধরে আমরা অনুশীলন করেছি। তারপর গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ আর সেমিফাইনালে স্বাভাবিক খেলাটাই খেলেছি। ফাইনালেও এ ধারা ধরে রাখতে হবে। আমরা এখানে এসেছি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। এখন ফাইনালের মঞ্চে সেটা পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চটা দিয়েই খেলতে হবে।

ফাইনালে ওঠার পথে তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে মোট ২২ গোল দিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে চারটি করে গোল করেছেন শামসুন্নাহার ও তহুরা খাতুন। শামসুন্নাহারের গোল চারটি প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫-০ তে জয়ের ম্যাচে। সে দিন জোড়া গোল করা তহুরা পরে নেপাল এবং ভুটানের বিপক্ষেও গোল করেন।

১০ নম্বর জার্সিধারী ময়মনসিংহের মেয়েটি ফাইনালেও গোল করতে আগ্রহী, এ টুর্নামেন্টে আমি সব ম্যাচেই গোল করেছি। ফাইনালেও সবার আগে গোল করতে চাই। চ্যাম্পিয়ন হতে আমরা আমাদের ১০০ ভাগ চেষ্টা করব।

অধিনায়ক মারিয়া মান্ডাও নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টার প্রতিজ্ঞা শুনিয়েছেন। আট মাস আগে ঢাকার মাটিতে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের যে সুখস্মৃতি, সে টিকে নিচ্ছেন অনুপ্রেরণা হিসেবে, আমরা সবাই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শপথ করেছি। চেষ্টা করব, ম্যাচের শুরুতেই গোল করে ভারতকে চাপে ফেলে দিতে। ভারত ভালো দল, কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও আছে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল জেতা, যেন ট্রফি নিয়েই দেশে ফিরতে পারি। সবাই আমাদের দলের জন্য দোয়া করবেন।

ফাইনালের আগ পর্যন্ত হওয়া তিন ম্যাচে ২২ গোল দিলেও বাংলাদেশ কিন্তু এক গোলও হজম করেনি। এর বড় কৃতিত্ব গোলরক্ষক মাহমুদা আক্তারের। তিন ম্যাচে ১৫ গোল করা ভারতের বিপক্ষেও গোলপোস্ট অক্ষত রাখার প্রত্যয় জানিয়েছে মাহমুদা, গত তিনটি ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, সেভাবে ফাইনালেও খেলতে চাই। গোলবার আমি আগলে রাখব।

গত আসরের শিরোপাজয়ী দলের ১৫ জন আছে এবারের দলটিতে। বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন আছেন কিশোরীদের সহকারী কোচ হিসেবে। জয়ের প্রত্যয় জানালেন তিনিও, আমরাই যে টুর্নামেন্টের সেরা দল, তা প্রমাণ করার আসল জায়গাই হলো ফাইনাল।