ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রকৌশলীর মৃত্যুর ঘটনায় দুইজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা


123 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রকৌশলীর মৃত্যুর ঘটনায় দুইজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
মে ২৬, ২০২২ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের প্রকৌশলী সুব্রত সাহার মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। এতে সরাসরি কাউকে আসামি না করা হলেও এজাহারগর্ভে সন্দেহভাজন হিসেবে দুই প্রকৌশলীর নাম বলা হয়েছে। তারা হলেন, আশ্রাফুর রহিম ও আজিজার রহমান।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সুব্রত সাহার বড় ভাই স্বপন সাহা বাদী হয়ে বুধবার রাতেই অজ্ঞাতপরিচয়ের আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বাদীর অভিযোগ, অফিসের কাজ নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

বুধবার সকালে হোটেল ভবনের বর্ধিতাংশের দোতলার ছাদে সুব্রত সাহার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, সর্বোচ্চ তলার ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়। তার মাথা ও মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলেও সন্দেহ করা হয়। তবে স্বজনরা জানিয়েছিলেন, চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন তিনি। অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে তার মধ্যে হতাশা বিরাজ করছিল।

পুলিশ সূত্র জানায়, সরকারি কোম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেডের (বিএসএল) মালিকানাধীন এই হোটেলটি বর্তমানে পরিচালনা করছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ এশিয়া প্যাসিফিক। এই হোটেলে বিএসএলের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপক হিসেবে ছিলেন প্রকৌশলী সুব্রত সাহা। আর মামলায় অভিযুক্ত আশ্রাফুর বিএসএলের চিফ অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আজিজার প্ল্যানিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত।

অভিযুক্ত প্রকৌশলী আশ্রাফুর রহিম সাংবাদিকদের জানান, সুব্রত সাহাকে অফিসের নির্দেশে হিসাব বিভাগের কিছু কাজ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনও কোনো চাপ দেননি।

রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ সমকালকে বলেন, বাদীর অভিযোগ, হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। তার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সুব্রত সাহা মারাত্মক ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। এ জন্য তাকে চিকিৎসকের কাছেও যেতে হয়েছে। তিনি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেও লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। এসব বিষয়ের সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি-না, তা তদন্তের পর বলা যাবে। আর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে তার মৃত্যুর কারণ।

তদন্ত সূত্র জানায়, প্রকৌশলীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে নানামুখী তদন্ত চলছে। হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংশ্নিষ্ট বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে মামলায় অভিযুক্তদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

সুব্রত সাহার বেয়াই বিদ্যুৎ সাহা সমকালকে বলেন, চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে মারাত্মক মানসিক চাপে ছিলেন সুব্রত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে আসছিলেন। তবে কিছুদিন ধরে তিনি কাজের চাপে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এ নিয়ে তার মধ্যে হতাশা কাজ করছিল।

পুলিশ সূত্র জানায়, সুব্রতকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিএসএলের ২৪ ভাড়াটে প্রতিষ্ঠানের তালিকা করতে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকমতো ভাড়া দিচ্ছে কি-না, তা দেখতে বলা হয়েছিল। এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন নিয়ে তার মধ্যে অস্থিরতা ছিল।