ইন্টারনেট শাটডাউন কী ? দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সুশীল সমাজের জন্য একটি নির্দেশিকা


117 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ইন্টারনেট শাটডাউন কী ?  দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সুশীল সমাজের জন্য একটি নির্দেশিকা
জানুয়ারি ১৯, ২০২৩ জাতীয় প্রবাস ভাবনা শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক :
গ্রেটার ইন্টারনেট ফ্রিডম প্রোগ্রাম-এর আওতায় এনগেজমিডিয়া কর্তৃক এই ব্লগ পোস্টটি তৈরি করা হয়েছে। “ইন্টারনেট শাটডাউনের কারিগরি দিকগুলো উন্মোচন: দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ঘটনার ওপর আলোকপাত”URL:https://engagemedia.org/2022/internet-shutdowns-south-southeast-asia/
আজকের ডিজিটাল সমাজে, দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার অপরিহার্য। ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অনলাইনে পড়াশোনা– সব ক্ষেত্রেই ইন্টারনেট অপরিহার্য। যখন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করা হয়, যেমনটিদক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে সামাজিক অস্থিরতার সময়েহয়েছে, তখন মানুষেরজীবন দারুণভাবে ব্যাহত হয়।
ইন্টারনেট শাটডাউন কী এবং সরকার বা অন্য অপরাধীরা এই ব্যবস্থা নিলে কী হয়? এর সংজ্ঞা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার চেয়েও অনেক বিস্তৃত। ইন্টারনেট শাটডাউন নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে ঢোকার সুযোগ আংশিকবন্ধ করা থেকে শুরু করে ইন্টারনেটের গতি সীমিত করে দেওয়া হতে পারে। শাটডাউনের বিভিন্ন ধরন এবং কীভাবে সেগুলো প্রযুক্তিগতভাবে বাস্তবায়ন করা হয় সে সম্পর্কে বোঝার বিষয়টি অধিকার-লঙ্ঘনকারী এই পদক্ষেপের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতেসুশীল সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিভিন্ন ধরনের ইন্টারনেট শাটডাউন, বিদ্যমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করা হয় এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অবাধে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ সমুন্নত রাখার জন্য কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানান তা এই নিবন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

কল্পিত ও ভুল ধারণা

ইন্টারনেট শাটডাউন সেটিসম্পূর্ণ বন্ধ করার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে অথবা একই ধরনের উদ্দেশ্যে ইন্টারনেট সেন্সরশিপের মতো ব্যবস্থাও হতে পারে। #KeepItOnজোট থেকে জনমতের ভিত্তিতে সংগৃহীত সংজ্ঞা ইন্টারনেট শাটডাউনকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করে:
[একটি] ইন্টারনেট বা ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগের ইচ্ছাকৃত ব্যাঘাত, যার কারণে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বা একটি নির্দিষ্ট এলাকায় এগুলো ব্যবহারের সুযোগ থাকে না বা কার্যকরভাবে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে, যা সাধারণত তথ্যের প্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্যই করা হয়।
এই সংজ্ঞাটি দেখায় যে, শাটডাউন প্রকৃতপক্ষে সংযোগ না থাকার চেয়েও বেশি কিছু। মোবাইল সেবা ব্যাহত হওয়া, সংযোগগুলোর গতি সীমিত বা ধীর করে দেওয়াবা বেছে বেছে নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া– সবইইন্টারনেট শাটডাউন হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইন্টারনেট সেন্সরশিপ কী ? ইন্টারনেট শাটডাউনকে সেন্সরশিপের একটি ধরন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে (কারণ নেটওয়ার্কে বিঘ্ন হলে তা মানুষকে অনলাইনে কনটেন্ট পোস্ট করতে বা নিজেদের প্রকাশ করতে বাধা দেয়)। তবে ইন্টারনেট সেন্সরশিপের সব দৃষ্টান্তকেই শাটডাউন হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। অ্যাক্সেসনাউ-এরমতে, পার্থক্যটি ব্লক বা বন্ধ করে দেওয়া প্ল্যাটফর্মের প্রাথমিক উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে। ওপরের সংজ্ঞাটি ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগের ব্যাঘাতকে তুলে ধরে; তবেযদি হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও টুইটারের মতোযোগাযোগের প্ল্যাটফর্মগুলো ব্লক করা হয়, তাহলেও সেটাকে ইন্টারনেট শাটডাউন বলে গণ্য করা হবে। কিন্তু যখন সংবাদ ওয়েবসাইটের মতো যারা মূলত কনটেন্ট প্রকাশ করে–এমনপ্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্লক করা হয়, তখন এগুলো ইন্টারনেট সেন্সরশিপের ধরন হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইন্টারনেট শাটডাউন করার সাধারণ যুক্তিসমূহ

সেন্সরশিপ ও তথ্য নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও,রাষ্ট্রীয়ভাবে ইন্টারনেট শাটডাউনের কলাকুশলীরা এই ধরনের নেটওয়ার্ক-বিঘ্ন করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। এ বিষয়ে অ্যাক্সেস নাউ-এর সাবেক পলিসি ফেলো ডেনিজ ডুরু আইডিন প্রচলিত কিছু সরকারি অজুহাতের তালিকা করেছেন:
• জাতীয় নিরাপত্তা: এটি ইন্টারনেট শাটডাউনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রচলিত এবং অসার যুক্তি। বিড়ম্বনা হলো যে, মানুষ যখন তথ্য জানার সুযোগ না পায় এবং প্রিয়জনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে, তখন তারা নিরাপদ ও সুরক্ষিত বোধ করে না।
• নির্বাচন: নির্বাচন-সম্পর্কিত বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধ করার জন্য সরকার ইন্টারনেট শাটডাউন করে। অবশ্য বাস্তবে এ ধরনের শাটডাউননির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং সাংবাদিকদের ও ভোট পর্যবেক্ষকদের যোগাযোগে বাধা দেয়।
• প্রতিবাদ: বিক্ষোভের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য ইন্টারনেট শাটডাউন করা হয়।তবে নেটওয়ার্কের এই বিঘ্নগুলো মানুষকে প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে বাধা দেয়।
• স্কুল পরীক্ষা: প্রতারণা বন্ধ করার জন্য অনেক সময় ইন্টারনেট শাটডাউন করা হয়। তবে এই ধরনের শাটডাউন অল্প কয়েকজনকে লক্ষ্য করে করা হলেও তা লাখ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করে।
• সরকারি কর্মকর্তাদের পরিদর্শন: সরকারি কর্মকর্তা বা বিদেশি রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার অনেক সময় ইন্টারনেট শাটডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়, যা জনগণের অবাধে তথ্য পাওয়ার অধিকারে হস্তক্ষেপ করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের সরকার এসব অজুহাতব্যবহার করে। অ্যাক্সেস নাউ-এর এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, ইন্টারনেট শাটডাউন সংক্রান্ত শীর্ষ নিয়ম ভঙ্গকারীরা এই দুই অঞ্চলে রয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ও পাকিস্তানে ইন্টারনেট শাটডাউনের ১২৮টি ঘটনা ঘটে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
ভারত ধারাবাহিকভাবে ইন্টারনেট শাটডাউন র্যাং কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট শাটডাউনের অন্তত ৬৬৫টি ঘটনারেকর্ড করা হয়েছে। মিয়ানমারও এক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি। সামরিক অভ্যুত্থানের পর ২০২১ সালে দেশটিতে অন্তত ১৫টি শাটডাউনের ঘটনা ঘটে। জনগণের প্রতিবাদের মধ্যে দেশটির সামরিক জান্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করার আদেশ দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে তারা আরেকটি নির্মম পদক্ষেপ নিয়েছে, তা হলো, ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (VPN)ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা।
ইন্দোনেশিয়ায় ২০১৯ সালে বেশ কয়েক দফায় ইন্টারনেটশাটডাউনের কারণে বিষয়টি সংবাদপত্রেশিরোনাম হয়।পশ্চিমপাপুয়ায় ২০২১ সালেএকটিআদালতরায় দেনযে, সামাজিকঅস্থিরতারমধ্যেইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করাবৈধছিল।বিক্ষোভদমন, ধর্মীয়উদ্বেগজনিতঅস্থিতিশীলতানিয়ন্ত্রণএবংজাতীয়নির্বাচনেরপূর্বে গুজবওঅপপ্রচারঠেকাতেবাংলাদেশেওএকাধিকবারইন্টারনেটশাটডাউনকরাহয়।একই ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যাঘাতের খবর পাওয়া যায়পাকিস্তানে, বিশেষকরে দেশটিরঅশান্তসীমান্তএলাকায়। ফিলিপাইনে২০১৫ সালে পোপের সফরএবংঅন্যান্যউৎসবেরসময়েএবংশ্রীলঙ্কায়সাম্প্রতিকঅর্থনৈতিকসংকটথেকেউদ্ভূতবিক্ষোভেরসময়ে ইন্টারনেট শাটডাউনের ঘটনা ঘটে।

ইন্টারনেট কীভাবে কাজ করে

ইন্টারনেট শাটডাউনের প্রযুক্তিগত দিকগুলোতে যাওয়ার আগে, ইন্টারনেট কীভাবে কাজ করে তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। অক্সফোর্ড অভিধান ইন্টারনেটকেসংজ্ঞায়িতকরে এভাবে:
[একটি] বৈশ্বিক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, যা বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও যোগাযোগ সুবিধা প্রদান করে, যা যোগাযোগের প্রমিত নিয়মনীতি ব্যবহার করে আন্তঃসংযুক্ত নেটওয়ার্কগুলোর সমন্বয়ে গঠিত।
ইন্টারনেট হল একটি রাউটারের সঙ্গে সংযুক্ত এক গুচ্ছ কম্পিউটার, যা একই ধরনের কম্পিউটারের গুচ্ছ পরিচালনাকারী অন্যান্য রাউটারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী (ISP) তারযুক্ত বা তারবিহীন সংযোগের মাধ্যমে এই রাউটারগুলোকে সংযুক্ত করে। প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে ইন্টারনেটব্যবহারকারীরা তাদের কম্পিউটারে ওয়েব অ্যাক্সেস সফটওয়্যার (ইন্টারনেট ব্রাউজার) ব্যবহার করে সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত হন। সার্ভার মূলত বিশেষায়িত কম্পিউটার, যা ওয়েবপেজ বা অ্যাপের জন্য ডেটা বা উপাত্ত জমা রাখে।
যখন কেউ তাদের ব্রাউজারে একটি ওয়েব ঠিকানা টাইপ করেন, তখন অন্তরালে বেশ কিছু ঘটনা ঘটে:
• ব্রাউজারটি ডোমেইন নেম সিস্টেম (DNS) সার্ভারে যোগাযোগ করে এবং ওয়েবসাইটটি যে সার্ভারে রয়েছে সেই সার্ভারের ইন্টারনেট প্রোটোকল (IP) ঠিকানা খুঁজে বের করে।
• এখন যেহেতু ব্রাউজারটি ওয়েবসাইটের প্রকৃত অবস্থান জানে, এটি সার্ভারে একটি হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল (HTTP) বার্তা পাঠিয়ে ক্লায়েন্ট বা গ্রাহক যে তথ্য খুঁজছেন তা গ্রাহককে পাঠাতে বলে। এই বার্তা এবং ক্লায়েন্ট ও সার্ভারের মধ্যে প্রেরিত অন্যান্য সমস্ত ডেটা ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রোটোকল (TCP)/আইপি ব্যবহার করে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
• সার্ভার এরপর একটি “200 OK” বার্তা পাঠায় এবং ওয়েবসাইটের ফাইলগুলোকে ডেটা প্যাকেট নামক ছোট খণ্ডের একটি সিরিজ হিসেবে ব্রাউজারে পাঠায়৷
• ব্রাউজার সমস্ত ডাটা প্যাকেট একত্রিত করে একটি সম্পূর্ণ ওয়েবপেজে ব্যবহারকারীর জন্য প্রদর্শন করে।
এখানে চিত্রিত হয়েছে যে, একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করার সময় অনেক উপাদান জড়িত থাকে। যখন একটি ইন্টারনেট শাটডাউন ঘটে, তখন এই উপাদানগুলোর মধ্যে কয়েকটিকে লক্ষ্যে পরিণত করা হয়। নেটওয়ার্কের কোন পয়েন্টে ইন্টারনেট শাটডাউন ঘটেছে এবং কীভাবে এটি কার্যকর করা হয়েছিল তা বের করার জন্য ইন্টারনেটের কাঠামো এবং এটি কীভাবে কাজ করে তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে ইন্টারনেট শাটডাউন প্রযুক্তিগতভাবে কার্যকর করা হয়

ইন্টারনেট কীভাবে কাজ করে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে দেখা যায়, অনেকগুলো উপাদান মিলে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের অবকাঠামো তৈরি হয়। নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পয়েন্টে ইন্টারনেট শাটডাউন কার্যকর করা যেতে পারে। ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে গবেষণাকারী অ্যাক্সেস নাউ, জিগস’ ও অন্য সংস্থাগুলো নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলোকে শাটডাউন কার্যকর করার সবচেয়ে প্রচলিত পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে:

  1. আন্তর্জাতিকইন্টারনেটব্যাকবোন:সমুদ্রেরনিচেঅপটিক্যালফাইবারক্যাবলসংযোগউচ্চ-গতিরইন্টারনেটসংযোগপ্রদানকরে।এইনেটওয়ার্কপয়েন্টেকোনোক্ষতিবাব্যাঘাতঘটলেসংশ্লিষ্টদেশেরসব ইন্টারনেটব্যবহারকারীও ইন্টারনেট সেবা ক্ষতিগ্রস্তহয়।
  2. ইন্টারনেটগেটওয়ে:এটিএকটিদেশেরইন্টারনেটসংযোগেঅত্যন্তগুরুত্বপূর্ণভূমিকাপালনকরে। কারণএটিআন্তর্জাতিকইন্টারনেটট্রাফিককেস্থানীয়নেটওয়ার্কেরসঙ্গে সংযুক্তকরে।
  3. জাতীয়এবংস্থানীয়ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী:আইএসপিনির্দিষ্টএলাকায়ইন্টারনেটসংযোগপ্রদানকরে।যদিএইপয়েন্টেব্যাঘাতঘটে, তাহলেএইনেটওয়ার্কেরসঙ্গে সংযুক্তসবব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন।
  4. সিঙ্গেলস্পট (এককসেলফোনটাওয়ারবানির্দিষ্টছোটএলাকা):এইস্তরেনেটওয়ার্কব্যাঘাতেরফলেএকটিখুবসুনির্দিষ্ট এলাকায়শাটডাউনঘটে। এতেশুধুওইনির্দিষ্টসেলফোনটাওয়ারেরগ্রাহকরাক্ষতিগ্রস্তহন।

কীভাবে দুর্বৃত্তরা ইন্টারনেট শাটডাউন কার্যকর করে? ইন্টারনেটের জন্য একটি “চালু” এবং “বন্ধ” সুইচ আছে কি?
যখন সরকার ইন্টারনেট অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ করে (রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে), তখন এটি অন্য পক্ষের মাধ্যমে না গিয়ে নিজেরাই ইন্টারনেট ব্যবহার সীমিত করতে পারে। অন্যথায় তারা আইএসপিকে নেটওয়ার্ক সংযোগ সীমিত করতে বা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ব্লক করার নির্দেশ দেয়। নেটওয়ার্ক ব্যাঘাতের লক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে, আইএসপি নিচে তালিকাভুক্ত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি ব্যবহার করে:

  1. মৌলিকঅবকাঠামোশাটডাউন:ইন্টারনেট সেবার জন্যপ্রয়োজনীয়যোগাযোগঅবকাঠামোরঅকার্যকারিতাবাক্ষতিরকারণেএইধরনেরইন্টারনেটশাটডাউনহয়।এক্ষেত্রেউদাহরণহিসেবেবলাযেতেপারে,একটিপাওয়ারগ্রিডবাসেলফোনটাওয়ারেরঅবকাঠামোক্ষতিগ্রস্তহওয়া।
  2. রাউটিং: গুরুত্বপূর্ণপয়েন্টে (উদাহরণস্বরূপ, আন্তর্জাতিকগেটওয়ে) গন্তব্যের তথ্যপরিবর্তনকরারমাধ্যমে নেটওয়ার্কেরনিয়মিতকার্যক্রমেব্যাঘাতঘটানো, যাতেকরেনেটওয়ার্কট্র্যাফিকব্লকবাঅবরুদ্ধঅবস্থায়থাকেএবংনিয়ন্ত্রিতঅবকাঠামোভেতরদিয়েঅতিক্রমকরতেনাপারে।
  3. ডিএনএসম্যানিউপুলেটকরা:ডিএনএসহলোএকটিনামকরণব্যবস্থা, যামানুষের-পাঠযোগ্যডোমেননামগুলো (যেমন google.com) মেশিন-পাঠযোগ্যআইপিঠিকানায় (যেমন142.251.32.46) সংরক্ষণ করে। ডিএনএসতথ্যম্যানিউপুলেটবানিজেরপ্রয়োজনমতপরিবর্তনকরাহলেতাশাটডাউনেরকারণহতেপারে।এটিঘটেযখন ব্যবহারকারীদেরএকটিঅস্তিত্বহীনসার্ভারেবাঅসৎউদ্দেশ্যধারীব্যক্তিদেরনিয়ন্ত্রিতসার্ভারেপাঠাতে ডিএনএসতথ্যম্যানিউপুলেটকরাহয়।
  4. ফিল্টারিং: এইধরনেরশাটডাউনে ইন্টারনেট সেবায় প্রবেশাধিকারবন্ধে বাণিজ্যিকফিল্টারিংযন্ত্রপাতিওট্রান্সপারেন্টপ্রক্সিডিভাইসব্যবহারহয়।এসবফিল্টারিংডিভাইসনেটওয়ার্কট্র্যাফিকথেকেমেটাডেটাবিশ্লেষণকরেএবংতারপরসেইমেটাডেটারওপরভিত্তিকরেইন্টারনেটপরিষেবায়প্রবেশেরঅনুমতিদেয়বাপ্রবেশাধিকারবন্ধকরে।
  5. গতিসীমিতকরা:এইধরনেরশাটডাউনেনেটওয়ার্কেরমাধ্যমেডেটাপ্রবাহসীমিতথাকে; কিন্তুসম্পূর্ণরূপেবন্ধহয়না।পরিষেবাবাপদ্ধতিকার্যকরভাবেঅব্যবহারযোগ্যকরেতোলারজন্যইন্টারনেটবানির্দিষ্টপরিষেবায়প্রবেশাধিকারধীরগতিহয়েযায়। উদাহরণস্বরূপ, মোবাইলইন্টারনেটকেটুজি-তেনামিয়েদিয়েবাডেটারগতিনিয়ন্ত্রণকরে ইন্টারনেট শাটডাউন করা হয়।
  6. ডিপপ্যাকেটবিশ্লেষণ:এইধরনেরশাটডাউনেনেটওয়ার্কডেটাবিশ্লেষণওবাছাইকরাহয়।যদিডেটাপ্যাকেটটিশাটডাউনেরকলাকুশলীদেরনির্ধারণকরেদেওয়ামানদণ্ডেরসঙ্গেঅসঙ্গতিপূর্ণবলে মনে হয়, তবেডেটাপ্যাকেটটিকেবিশ্লেষণপয়েন্টেরমধ্যদিয়েযেতেবাধাদেওয়াহয়।
  7. ডিনায়াল অব সার্ভিস (DoS):এইআক্রমণেরউদ্দেশ্যহলোএকটিমেশিনবানেটওয়ার্কবন্ধকরা, যারকারণে ইন্টারনেটব্যবহারকারীরাওইমেশিনবানেটওয়ার্কব্যবহারকরতেপারেননা।যেপ্ল্যাটফর্মবাসার্ভারকেলক্ষ্যকরেএইআক্রমণচালানোহয়সেইপ্ল্যাটফর্মবাসার্ভারকেব্যস্তরাখতেএবংব্যবহারকারীদেরডেটাপ্রদানথেকেবিরতরাখতেসেখানেনকলব্যবহারকারীপাঠানোহয়।

ইন্টারনেট শাটডাউন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো

বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজেরদল বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট শাটডাউনশনাক্তও পর্যবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ওপেন অবজারভেটরি অব নেটওয়ার্ক ইন্টারফিয়ারেন্স (OONI), যা ওয়েবসাইট ব্লকের বিষয়টিগণনা করার জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে এবংOONIএক্সপ্লোরারে এই ডেটা প্রকাশ করে। দ্য ইন্টারনেট আউটেজ ডিটেকশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস (IODA) প্রকল্প নেটওয়ার্কের প্রান্তকে প্রভাবিত করে–এমন দৃশ্যমান ইন্টারনেট বিভ্রাট শনাক্ত করতে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ করে। অন্যদিকেসেন্সরডপ্ল্যানেট সেন্সরশিপের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি নির্ধারণ করতে ২০০টিরও বেশি দেশে ডেটা সংগ্রহ করে। গুগল তার ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টের মাধ্যমে নিজেরপণ্যগুলোতেব্যবহারকারীট্র্যাফিক সম্পর্কে ডেটা প্রকাশ করে, যেখানে প্রতিমুহূর্তে প্রবেশাধিকার বাধাপ্রাপ্তির ঘটনা নথিভুক্ত থাকে, যা শাটডাউন নির্দেশ করে। বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট শাটডাউনের ঘটনা নথিভুক্ত করার জন্য বেশ কিছু গবেষণা প্রতিবেদন ওপদ্ধতি প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলো প্রকাশ করেছেওওএনআই, অ্যাক্সেস নাউ ও এনগেজমিডিয়ার মতো পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান।
জনসচেতনতা বাড়াতে এবং এসব অধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগেইন্টারনেট শাটডাউন পর্যবেক্ষণ এবং এ সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত করার এই কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এসব দেশেরসরকারজাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে ইন্টারনেট শাটডাউনের ঘটনাগুলোর পক্ষে সাফাই গাঙ। তবে এই বিস্তৃত ব্যবস্থাগুলো মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করে, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের কাজ করতে বাধা দেয় এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও এর অনেক নেতিবাচক প্রভাবপড়ে।
ইন্টারনেট শাটডাউনের ঘটনানথিভুক্ত করা এবং বাধাদানের বিষয়ে জনসাধারণের জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ানো এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে অভিযোগ করারমাধ্যমে, ডিজিটাল অধিকারের পক্ষাবলম্বনকারী ও সুশীল সমাজ ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদের এই রূপকে প্রতিহত করার চলমান প্রচেষ্টাকে আরও কার্যকরভাবে শক্তিশালী করতে পারে।