ইন্দিরা গান্ধীর আমলেও নেতাজির পরিবারের ওপর নজরদারি


844 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ইন্দিরা গান্ধীর আমলেও নেতাজির পরিবারের ওপর নজরদারি
সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৫ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :
স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর পর তার মেয়ে ইন্দিরা গান্ধীর আমলেও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের ওপর গোয়েন্দারা নজরদারি চালাতো বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম এ নেতা সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশ করা ৬৪টি নথির একটিতেই এমন ইঙ্গিত রয়েছে। এ নিয়ে তুমুল বিতর্কও শুরু হয়েছে ভারতে।

গত শুক্রবার রাজ্য সরকার নেতাজির বিষয়ে এসব নথি প্রকাশ করে। একটি নথিতে ১৯৭১ সালে সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্যদের গতিবিধির বিষয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা তথ্য চাইছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী।

বিষয়টি প্রকাশের পর রীতিমতো বিস্মিত হয়েছেন নেতাজির পরিবারের সদস্যরা। গত এপ্রিলে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর বরাতে ১৯৪৮ থেকে ৬৮ পর্যন্ত নেতাজির পরিবারের ওপর গোয়েন্দা নজরদারির খবর প্রকাশিত হলে বিকর্ত শুরু হয়। ওই খবরে বলা হয়, ‘ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা প্রায় দুই দশক কলকাতায় এক নম্বর উডবার্ন পার্ক এবং ৩৮ এর ২ এলগিন রোডের দুটি বাড়িতে নেতাজির পরিবারের সদস্যদের ওপর নজরদারি করেছেন।’

কলকাতার মানিকতলা ডিসি অফিসে পুলিশের সংগ্রহশালায় প্রকাশিত ওই নথিগুলোতে ১৯৪৫ সালের অাগস্টের পরও নেতাজি বেঁচেছিলেন- এমন তথ্য থাকতে পারে বলে মনে করা হলেও সে বিষয়ে সাড়া জাগানো কোনো তথ্য নেই।

শনিবার প্রকাশ করা অধিকাংশ নথি খতিয়ে দেখেন নেতাজির ভাতিজার স্ত্রী কৃষ্ণা বসু। এর পর তিনি বলেন, ‘লোকজনের মনে যে প্রশ্ন জেগেছিল যে, নেতাজি বিমান দুর্ঘটনার পর সন্ন্যাসী হয়েছিলেন, বা রাশিয়া চলে গিয়েছিলেন, সেসব বিষয়ে কোনো তথ্যই নেই।’

তবে নেতাজির অন্তর্ধান বিষয়ে বিচারপতি মনোজ মুখোপাধ্যায়কে প্রধান করে গঠিত এক সদস্যের কমিশনের সামনে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত যেসব নথি উপস্থাপন করা হয়েছিল তার মধ্যে ১২টি প্রকাশ করা হয়নি শুক্রবার। আবার শুক্রবার যেসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে তার মধ্যে ১৩টি কমিশনে উপস্থাপন করেনি পুলিশ। ১৯৯৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তৎকালীন বিজেপি সরকার কমিশনটি গঠন করে।

এর আগেও অবশ্য নেতাজির অন্তর্ধান বিষয়ে দুটি কমিশন গঠিত হয়। এর একটি নেহেরু এবং অন্যটি ইন্দিরা গান্ধীর আমলে গঠিত হয়েছিল। ইন্দিরা হগান্দীর সময়ে গঠিত খোসলা কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতাজি বিষয়ক সব নথি নষ্ট হয়ে গেছে নতুবা হারিয়ে গেছে।

মনোজ কমিশনে সবমিলে ৬১টি নথি উপস্থাপন করা হয়েছিল। আর শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে ৬৪টি নথি। তবে এর কয়েকটি আগের নথিগুলোর সঙ্গে মিলছে না। এসব কারণে নেতাজির অন্তর্ধান বিষয়ে বিতর্ক না থেমে বরং তা বেড়ে যাচ্ছে।

তাছাড়া নেতাজির বড় ভাই শরৎ চন্দ্র বসু ১৯৪১ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে একটি নথিতে। জাপান এই অভ্যুত্তানে সাহায্য করলে পঞ্চাশ হাজার সদস্যের এক সেনাবাহিনী গঠনের পরিকল্পনাও ছিল তাঁর।

ইন্দিরা গান্ধীর আমলেও নেতাজির পরিবারের ওপর নজরদারি
নেতাজি বিষয়ে প্রকাশিত একটি নথি
কলকাতায় জাপানের কনস্যুলেটের ‘চ্যান্সেলর’ পদধারী ‘ওথা’ নামের এক কর্মকর্তার কাছে এ বিষযে একটি চিঠিও লিখেছিলেন শরৎ বসু। চিঠিতে তিনি লিখেন, ‘এখনই অস্ত্র ধারণের মতো ১০ হাজার সদস্য তৈরি আছে আমাদের। প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও অর্থ পেলে কয়েক মাসের মধ্যে আমরা এ সংখ্যা ৫০ হাজারে উন্নীত করতে পারি। এসব অস্ত্র আমরা কখন পেতে পারি এবং অন্য কোনো মাধ্যমে আপনার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ পেতে পারি কি না তা জানাবেন। এটি জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ।’

১৯৪১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চিঠিটি লিখেছিলেন শরৎ বসু। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জার্মানির সঙ্গে জাপান অক্ষ শক্তিতে ছিল। আরও কয়েকদিন গেলে এসর নথির পর্যালোচনার মাধ্যমে নেতাজি বিষয়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নেতাজি বিষয়ক ওই নথিগুলো প্রকাশ করার আগেই অবশ্য কংগ্রেসকে একহাত নিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি অধীর চৌধুরীও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন তখন। নথিগুলো প্রকাশের ফলে আবারো এ নিয়ে রাজনীতি শুরু হতে পারে বলা যায়। সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস