ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে দৃশ্যমান হওয়ার নির্দেশ সিইসির


288 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে দৃশ্যমান হওয়ার নির্দেশ সিইসির
ডিসেম্বর ৫, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

সারাদেশে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির তৎপরতা দৃশ্যমান করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, এটা করতে পারলে জনমনে আস্থা ফিরে আসবে। তখন কমিশনে শত শত অভিযোগ জমা হবে না।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব নির্দেশ দেন। ইসি গঠিত ১২২ কমিটিতে ২৪৪ জন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং সহকারী জজ সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

সিইসি বলেন, ‘ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে প্রো-অ্যাকটিভ হতে হবে, ভাইব্রেন্ট হতে হবে এবং জানান দিতে হবে, এ কমিটি মাঠে রয়েছে। কমিটিকে ভিজিবল (দৃশ্যমান) হতে হবে। তার মানে আপনারা এখন পর্যন্ত কিন্তু ভিজিবল হননি। ভিজিবল যখন হবেন, কাজের মাধ্যমে যখন আস্থা অর্জিত হবে, তখন আপনাদের কাছেই অভিযোগ আসবে। নির্বাচন কমিশনে শত শত অভিযোগ আসবে না। কমিশন প্রতিদিন শত শত অভিযোগ পায়। এসব অভিযোগ আমাদের কাছে আসার কথা না।’

জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের জন্য গঠিত ১২২টি কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, এই কমিটিগুলো সরাসরি জনগণের কাছাকাছি রয়েছে। তারা যেন সমস্যার সমাধান পায়, এটা কমিটিকে দেখতে হবে।

ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির বিচারকদের সম্পূর্ণ শক্তি নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বিচারকদের সমন্বয়ে প্রতি জেলায় নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন আচরণবিধি প্রতিপালনসহ অপরাধ আমলে নিয়ে বিচার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীর অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য বিচারকদের আরও সক্রিয় হতে হবে।

কমিটির এ পর্যন্ত তৎপরতায় উষ্মা প্রকাশ করে সিইসি বলেন, গত ২৫ নভেম্বর এ কমিটি গঠনের পর প্রত্যেকটি কমিটি একটি করে অভিযোগ তদন্ত করলে ১২২টি অভিযোগের নিষ্পত্তি করা যেত। প্রকৃতপক্ষে ২২টি তদন্তও হয়নি। এখান থেকে ফিরে তদন্ত কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের অভিযোগগুলো শুনবেন, আমলে নেবেন এবং তাদের মুক্তি দেবেন। যাতে তারা এলাকা থেকে অভিযোগ নিয়ে ঢাকা পর্যন্ত আসতে না হয়।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। নির্বাচন আইনানুগ না হলে সে নির্বাচন কালো নির্বাচন। কমিশন কালো নির্বাচন নয়, স্বচ্ছ, সাদা নির্বাচন করতে চায়।

আরেক কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কমিশন একটি আইনানুগ নির্বাচন করতে চায়। নির্বাচনী তদন্ত কমিটির সদস্যদের সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের কাজটি সহজ করে দেবে।

কমিশনার কবিতা খানম বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু ও আস্থার পরিবেশ তৈরিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন শুধু নয়, নির্বাচনী তদন্ত কমিটির সদস্যদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। দৃশ্যমানভাবে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকতে হবে।

কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, এবারের নির্বাচন নানাদিক থেকে বৈচিত্র্যপূর্ণ। সংসদ বহাল রেখে, সরকার অপরিবর্তনীয় অবস্থায় এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ আগামী ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পর থেকে নির্বাচনী তদন্ত কমিটির সদস্যদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন।