ইসি সচিবালয়ে স্বেচ্ছাচারিতা চলছে : মাহবুব তালুকদার


228 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ইসি সচিবালয়ে স্বেচ্ছাচারিতা চলছে : মাহবুব তালুকদার
নভেম্বর ২৫, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে স্বেচ্ছাচারিতা চলে আসছে, যা এতদসংক্রান্ত সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ও নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালী বিধিমালা সমর্থন করে না। অনেক ক্ষেত্রে সচিবালয়ের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে প্রায় সবক্ষেত্রেই দায় বহন করতে হয়।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের নিজ কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালী বিধিমালা কঠোরভাবে পরিপালন করা আবশ্যক। নির্বাচন কমিশন ও সচিবালয়ের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

কমিশন সচিবালয়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মাহবুব তালুদকার বলেন, ‘কমিশন সচিবালয়ের সাম্প্রতিক কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় ১৩৫ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কিন্তু কারও বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি চিঠি দিয়ে বিশদভাবে জানতে চাই, কিছু প্রশ্নের জবাব চাই। জবাবে জানানো হয়, হাতের লেখার অমিল বা পরিচয়পত্রের অমিলের কারণে মৌখিক পরীক্ষার সময় ওই ১৩৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়। প্রতারণার দায়ে তাদের মৌখিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। কারও কারও কাছ থেকে লিখিত স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।’

তিনি বলেন, লিখিতভাবে আমাকে আরো জানানো হয়, কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় ৩৩৯টি শূন্যপদের বিপরীতে ৮৫,৮৯৩ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও উত্তরপত্র যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদকে ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই অর্থ প্রধান নির্বাচন কমিশনার অনুমোদন করলেও কতজন পরীক্ষককে কীভাবে এই টাকা প্রদান করা হয়, তার কোনো হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই। এমনকি নিয়োগ কমিটির সদস্যবৃন্দ এ বিষয়ে অবহিত নন। কমিশন সচিবালয় পরীক্ষা সম্পর্কে কিছুই জানে না। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ধরণ বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ।

লিখিত বক্তব্যে মাহবুব তালুকদার বলেন, বিগত ১৪ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে তার অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ অভিযোগ করেন যে, কমিশন সচিবালয় উক্ত নিয়োগ পরীক্ষা সংক্রান্ত ও অর্থ ব্যয় সম্পর্কিত বিষয়ে কমিশনকে কোনো পর্যায়েই অবহিত করেনি। উত্তরে কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব জানান, উল্লিখিত নিয়োগ বা এতদসংক্রান্ত ব্যয় নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও তার বক্তব্য সমর্থন করেন। স্বাভাবিক কারণেই নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ ২৪ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি ইউ,ও নোটের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কার্যাদির বিষয়ে কমিশনের এখতিয়ার সম্পর্কে অবহিত হতে চান।