ঈদেও আত্মগোপনে থাকছেন বিএনপির বহু নেতাকর্মী


354 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ঈদেও আত্মগোপনে থাকছেন বিএনপির বহু নেতাকর্মী
জুলাই ১৭, ২০১৫ জাতীয়
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
আত্মগোপনে থেকেই বিএনপির বহু নেতাকর্মী ঈদ কাটাবেন। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী এখনও কারাগারে। গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অসংখ্য নেতাকর্মী। তাদের কেউ ঈদের দিন প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না। অনেকে আবার ঈদের আগে আদালতে হাজির হয়ে জামিনও চাননি কারারুদ্ধ হওয়ার ভয়ে। ঈদের পর জামিন পেতে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন তারা। শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ হাসপাতালেও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফলে এসব নেতাকর্মীও প্রিয় স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উৎসব একসঙ্গে কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন না।

জামিন না পাওয়ায় দলের শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশের এবার ঈদ কাটবে কারাগারে। তবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদের তিন দিন আগে জামিনে মুক্তি পেলেও অসুস্থ অবস্থায় বাসায় রয়েছেন তিনি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামকে হাসপাতালে ঈদ করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ‘নিখোঁজ’ থাকার পর ভারতের শিলংয়ে গ্রেফতার হন দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ। শিলং ত্যাগ না করার শর্তে তাকে জামিন দিয়েছেন স্থানীয় আদালত। বর্তমানে শিলংয়ের একটি রেস্ট হাউসে থাকা সালাহউদ্দিনকে সেখানেই পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে হচ্ছে।

নেতারা বলছেন, আপাতত আন্দোলন কর্মসূচি না থাকলেও বিএনপির বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে। তাই গ্রেফতারের আশঙ্কা থাকায় আত্মগোপনের দিন শেষ হয়নি তাদের। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস ও যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান থেকে শুরু করে আত্মগোপনে থাকা তালিকায় রয়েছেন দলের বহু নেতা। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সাইফুল আলম নীরব, এস এম জাহাঙ্গীরসহ অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। তাই গ্রেফতারের আতঙ্ক নিয়েই তাদের ঈদ উদযাপন করতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

গত বছরের মতো এবারও কারাগারে ঈদ কাটাতে হচ্ছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তাদের সঙ্গে এবার আরও যোগ হয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মিজানুর রহমান মিনু, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বরখাস্তকৃত মেয়র আবদুল মান্নান, সিলেটের বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রমুখ। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর বিভাগসহ দেশের সব জেলা-উপজেলা ও থানা পর্যায়ের বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী এখন কারাগারে। যারা এখনও গ্রেফতার হননি, তারাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পালিয়ে থাকা নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ প্রায় প্রতিদিনই তাদের বাসা-বাড়িতে হানা দিচ্ছে। এ অবস্থায় ঈদের দিনও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হতে পারছেন না এসব নেতাকর্মী। সিলেট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন এ প্রসঙ্গে সমকালকে বলেন, সিলেটে ২২টি, হবিগঞ্জে ২৬টি, মৌলভীবাজারে ১৭টি ও সুনামগঞ্জে ১৬টি মামলায় নাম উল্লেখ ছাড়াই ‘অজ্ঞাতনামা’ হিসেবে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে জড়ানো হয়েছে। তারা এখন জামিন চাইতে ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু ঈদ শেষে জামিনের জন্য আদালতে আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দলের স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও নাটোর জেলা সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, গ্রেফতারের ভয়ে তিনি নিজেও আত্মগোপনে রয়েছেন। সাতক্ষীরা জেলায় বিএনপির বহু নেতার সঙ্গে দলের সমর্থক ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন চেয়ারম্যানও দীর্ঘদিন ধরে গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও লাবসা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আলিম ২০১৩ সালের শেষ দিকের আন্দোলনের পর থেকে পালিয়ে রয়েছেন। আরও আত্মগোপনে আছেন কলারোয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কয়লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রকিবসহ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান সমকালকে বলেন, সরকার বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটকে রেখেছে। মধ্যম সারি ও তৃণমূল নেতাকর্মীরাও মামলায় জর্জরিত। তারা ঘরে ফিরতে পারছেন না। অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ কাটানোর চিন্তাও তাদের জন্য দুরূহ হয়ে পড়েছে।