উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানি ও পয়নিষ্কাশন সংকট নিরসনে বিভাগীয় কর্মশালা


244 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানি ও পয়নিষ্কাশন সংকট নিরসনে বিভাগীয় কর্মশালা
জুলাই ২৪, ২০১৯ খুলনা বিভাগ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

“আমেরিকান সরকারের আন্তজার্তিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) এর ফুড ফর পিস (টাইটেল-২) খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের অর্থায়নে ‘নবযাত্রা’ একটি পাঁচ বছর মেয়াদী প্রকল্প; যা ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়েছে এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হবে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর নেতৃত্বে নবযাত্রা প্রকল্প অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলীয় খুলনা জেলার দাকোপ ও কয়রা এবং সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার ৮,৫৬,১১৬ জন উপকার ভোগীর জন্য বাস্তবায়িত হচ্ছে।

নবযাত্রা প্রকল্পের সুশাসন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা কম্পোনেন্টের আয়োজনে খুলনায় সিএসএস আভা সেন্টারে “উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানি ও পয়নিষ্কাশন সংকট : উত্তরণে অংশীজনদের ভূমিকা শীর্ষক বিভাগীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।নির্মল সরকার ও আশিক বিল্লাহ’র সঞ্চলনায় কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের ডেপুটি চীফ অফ পার্টি এ্যালেক্স বেকুন্ডা, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ( উন্নয়ন), খুলনা।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোসেন আলী খোন্দকার,পরিচালক, স্থানীয় সরকার, খুলনাবিভাগ, খুলনা ও এস এম ওয়াহিদুল ইসলাম, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকোশল অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগ।

কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন প্রোগ্রাম, পলিসি এ্যান্ড এডভোকেসী ডিরেক্টর মোহাম্মদ নূরুল আলম রাজু। তিনি বলেন, শতকরা ৪২.২ ভাগ বাড়িতে স্যানিটেশন সুবিধা আছে এবং শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ খাবার পানি ও গৃহস্থালী কাজকর্মের জন্য পুকুরের পানির উপর নির্ভরশীল।খাবার পানি সরবরাহ করতে নারীকেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে হয় যাতেকরে নানাভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।

অংশগ্রহনকারীগনবলেন, এলাকার সুপেয় পানির জন্য খননকৃত পুকুর গুলো ধীরেধীরে বিভিন্ন মানুষ দখল করে নিয়েছে। এসব এলাকায় নবযাত্রা প্রকল্পসহ অন্যান্য প্রকল্প সুপেয় পানি নিয়ে অনেক দিন ধরে কাজ করলেও সেই অর্থে খাবার পানির সংকট উত্তোরণ সম্ভব হয়নি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনানা করেই নলকূপ স্থাপনের কাজ নিয়ে অভিযোগ করেন অংশগ্রহন কারীগন।

প্রধান অতিথি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নিশ্চিন্তকুমার পোদ্দার বলেন,ওয়াটসন কমিটি গুলোকে কার্যকর করতে হবে।ইউনিয়নপরিষদকে সুপেয় পানির বিষয়ে বাজেট তৈরি ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে, ইউনিয়ন পরিষদকে ০৫ বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা করে সে অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়নে আন্তরিক হতে হবে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বিভিন্ন জলের উৎসের কেয়ার টেকার দের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে এবং পুকুর যাতে লিজনা দেয়া হয় এবং সংশ্লিস্ট সবাইকে সমন্বয় সভা করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে।

খুলনা বিভাগের স্থানীয় সরকার এর পরিচালক হোসেন আলী খন্দকার বলেন, সকলে মিলে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং ইউনিয়ন পরিষদে গড়ে প্রতি বছর ০৫ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রাখে। তিনি বলেন, এই বাজেট ধীরে ধীরে বাড়বে কিন্তু এখন যে টাকা বরাদ্দ থাকে তা যদি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে খরচ করা হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল নয়।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এস এম ওয়াহিদুল ইসলাম,তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকোশল অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগ বলেন, কর্মশালায় প্রাপ্ত সকল সুপারিশ সমূহ যেগুলো আমাদের দপ্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট সে সমস্ত বিষয় গুলো বিবেচনায় নিয়ে আমাদের দপ্তর থেকে তা বাস্তবায়নে উদ্যেগ গ্রহন করা হবে।

কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার স্থানীয় সরকার এর উপ-পরিচালক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানগন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারগন, সহকারী কমিশনার ভূমি, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাগন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যানগন ও সদস্যগন, বেসরকারী উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালকবৃন্দ,উন্নয়নকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সদস্যগণ,ওয়াটসন কমিটির সদস্যগন, প্রকল্পের কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

#