লবণাক্ততাকে জয় করে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে শ্যামনগরবাসী


626 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
লবণাক্ততাকে জয় করে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে শ্যামনগরবাসী
জুন ৪, ২০১৮ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান ::
উপকূলীয় এলাকার লবনাক্ততা সমস্যাকে জয় করে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাড়াচ্ছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বাসিন্দারা।
সুন্দরবন সংলগ্ন প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার আয়তনের এই শ্যামনগর উপজেলা। সিডর এবং আইলার মত প্রাকৃতিক দূর্যোগকে সঙ্গী করেই বেঁচে আছেন এখানকার ৩ লাখেরও বেশি মানুষ। সমুদ্র ঘেঁষা এলাকা হওয়ায় লবনাক্ত জমি তাই জীবনকে করে তুলেছে আরো কঠিন।


তবে এখন সে চ্যালেঞ্জে জয়ী হয়ে ঘুরে দাড়িয়েছেন দূর্বার মানুষগুলো। এ যুদ্ধে সহযোগী হয়ে পাশে আছে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন সংস্থা। পেয়েছেন চিংড়ি চাষে উন্নত প্রশিক্ষণ, আয়ত্ব করেছেন লবনসহিষ্ণু চাষাবাদের কৌশলও। তেমনই একটি উন্নয়ন সংস্থা সিএনআরএস। সিএনআরএস বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সিডিপি, ক্রেলসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সুন্দরবন ও বেঁড়িবাধ রক্ষা, মিষ্টি পানির পুকুর খনন, লবনসহিষ্ণু মাটিতে সবজি চাষ, মাছ চাষ, হস্তশিল্পের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরী, হাঁস-মুরগী পালনসহ নারী-পুরুষদের বিকল্প কর্মসংস্থান উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেছে। ক্রেল প্রকল্পের আওতায় ২০১৩ সালে শ্যামনগর উপজেলার সুন্দবন বেষ্টিত উপকুলীয় এলাকার ৩ টি ইউনিয়নের প্রায় ২০কিঃমিঃ চরবনায়ন করে যা এখন দৃষ্টিনন্দন মিনি সুন্দরবন নামে ক্ষ্যাত। আর এ বনায়নের ফলে এলাকার বেঁড়িবাধ রক্ষার পাশাপাশি মিষ্টি পানির পুকুর রক্ষার কাজসহ বিভিন্ন সুবিধা পাচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষ। এছাড়া মানুষের প্রধান সমস্যা বিশুদ্ধ পানির অভাব। মানুষ আগে বর্ষার পানি ধরে অথবা ৭/৮ কিঃমিঃ মাটির রাস্তা পায়ে হেঁটে পুকুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করত। এখন এই প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি পুকুর খনন করে পিএসএফ এর মাধমে তারা বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহ করতে পারে। যে সব নারীরা সুন্দরবনের উপর নির্ভর করে প্রতিদিন ৫০/৬০টাকা আয় করতো এ রকম দেড় হাজারেরও বেশি নারীদের প্রশিক্ষনের দিয়ে হস্তশিল্পের বিভিন্ন প্রকার সমগ্রী তৈরি করে তারা এখন দিনে ১৫০/২০০ টাকারও বেশি আয় করে থাকেন। তাদের হাতে তৈরী এসব সমগ্রী বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। আর পুরুষদের মটরভ্যান,ইজিবাইক কিনে দেওয়াসহ যে, যে কাজে পারদর্শী তাদের সে কাজের জন্য সহযোগিতা করা হয়েছে। এছাড়া ৬’শ জনকে বিভিন্ন টিম গঠন করে বন ও বেঁড়িবাধ রক্ষার কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের বনমন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় উপকুলীয় এলাকায় এভাবে বন ও বেঁড়িবাধ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে সিএনআরএস। এছাড়া এ প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে চিংড়ি ঘেড়ের পাড়ে নানা রকম সবজি সবজি চাষ করে বাড়তি অর্থ উপার্জন করছেন এ অঞ্চলের নারীরা।


এ ব্যাপারে ক্রেল প্রকল্পের কোঅর্ডিনেটর শরন কুমার চৌহান জানান, সুন্দবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১২ হাজার সুফল ভোগী কাজ করে যাচ্ছেন। যারা এ প্রকল্পের কাজ করে তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। তিনি আরো জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে নারী-পুরুষদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিকল্প কর্মসংস্থানের মধ্যে রয়েছে, সুন্দরবন ও বেঁড়িবাধ রক্ষা, মধূ আহরন, মিষ্টি পানির পুকুর খনন, লবনসহিষ্ণু মাটিতে সবজি চাষ, মাছ চাষ, হস্তশিল্পের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরী, হাঁস-মুরগী পালনসহ বিভিন্ন ধরনের আয়বর্ধন মূলক কার্যক্রম।

বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল জানান, সুন্দবন ও সুন্দরবনের বেঁড়িবাধ রক্ষায় ক্রেল প্রকল্পটি স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় উপকুলীয় এলাকায় প্রায় ২০কিঃমিঃ চরবনায়ন করা হয়েছে। যা এখন দৃষ্টিনন্দন মিনি সুন্দরবন নামে ক্ষ্যাত।
##