এক রানের নাটকীয় জয় চিটাগংয়ের


390 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
এক রানের নাটকীয় জয় চিটাগংয়ের
নভেম্বর ২৪, ২০১৫ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
বিপিএলে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তামিম ইকবাল ও ইয়াসির আলীর অর্ধশতকের ওপর ভর করে সিলেট সুপারস্টার্সকে ১ রানে হারিয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। রবিবারের মতো এদিনও শেষ ওভারে গড়াই ম্যাচের ভাগ্য। কিন্তু মোহাম্মদ আমিরের করা শেষ ওভারের প্রথম তিন বল থেকে কোনো রান সংগ্রহ করতে পারেনি অজান্তা মেন্ডিস। এরপর চতুর্থ বলে এক রান নিয়ে স্ট্রাইকে পাঠান মুশফিকুর রহিমকে। ৫তম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখান মুশফিক। কিন্তু শেষ বলে একরানের বেশি নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এক রানের নাটকীয় জয় পায় চিটাগং।

সোমবার মিরপুর শেরে-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৮১ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সিলেটকে জয়ের স্বপ্ন দেখায় দুই ওপেনার। মাত্র ৬ ওভারে ৬৬ রানের জুটি গড়েন তারা। যদিও এই রানের মধ্যে মাত্র ৫ রান করেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। এজন্য ব্যয় করেন মূল্যবান ১৩টি বল। বাকি সব রান আসে দিলশান মুনাউরার ব্যাট থেকে। কিন্তু দলীয় ৬৬ রানে জুনায়েদ, ৭৬ রানে দিলশান এবং ওই ওভারে মুমিনুল হক ফিরে গেলে ৬৬ থেকে ৭৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সিলেট। মাত্র ৩৬ বলে ৬৪ রানের মূল্যবান এক ইনিংস খেলেন দিলশান।

এরপর দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম ও নুরুল ইসলাম। ৫৬ রানে জুটি গড়ে ব্যক্তিগত দলীয় ১৩১ রানে ব্যক্তিগত ৩২  রানে নুরুল ইসলাম ফিরে গেলে আবারও ছন্দ পতন। একে একে ফিরে যান নাজমুল হোসেন মিলন ও মোহাম্মদ শহীদ। শেষ দিকে মুশফিক ৩৪ বলে ৫০ রানের হার না মানা এক বিধ্বংসী ইনিংস খেললেও অন্যদের ব্যর্থতায় হার বিপিএলে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় চিটাগং। দলের পক্ষে শফিউল ইসলাম ২৫ রানে ৩টি এবং সাঈদ আজমল ৩৫ রানে ২টি উইকেট লাভ করেন।

এর আগে, টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮০ রান সংগ্রহ করে চিটাগং। তামিম ৪৫ বলে ৬৯ আর ইয়াসির ৫২ বলে ৬৩ রান করেন। তবে দিনের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি চিটাগংয়ের। দলীয় ১৪ রানেই ওপেনার তিলকারত্নে দিলশানের উইকেট হারায় তারা। সুভাশিষ রায়ের বলে ডাক মেরে বিদায় নেন এই লঙ্কান ব্যাটসম্যান।

শুরুতে দিলশানের উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে ইয়াসির আলীকে নিয়ে বড় জুটি গড়ে তোলেন তামিম। ৩৩ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই খেলছিলেন চিটাগং অধিনায়ক। তবে ব্যক্তিগত ৬৯ রানে অজান্তা মেন্ডিসের বলে মোহাম্মদ শহীদের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তামিম। তার ৪৫ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৪টি ছক্কার মার। তামিম-ইয়াসিরের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৭৯ রান।

তামিমের বিদায়ের পর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন এনামুল হক বিজয়। নাজমুল ইসলাশের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে বিজয়ের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৩ রান। বিজয়ের বিদায়ের পর জেভান মেন্ডিস ক্রিজে নেমে ঝড় তুললেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১১ বলে ২ ছক্কায় ২০ রান করে শহীদের বলে মুশফিককে ক্যাচ দেন মেন্ডিস।

এরপর পঞ্চম উইকেটে ইয়াসির ও জিয়াউর রহমানের ১৭ বলে ৪২ রানের ঝোড়ো জুটিতে ১৮০ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে চিটাগং। শেষ বলে রান আউট হওয়া ইয়াসির ৫২ বলে ৪টি ছক্কা ও এক চারে ৬৩ রান করেন। ৭ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন জিয়াউর।

সিলেটের পক্ষে মোহাম্মদ শহীদ, নাজমুল ইসলাম, অজান্তা মেন্ডিস ও সুবাশিস রায় প্রত্যেকে একটি করে উইকেট লাভ করেন।