এনটিআরসিএ কর্র্তৃক সুপারিশকৃত এমপিওভুক্তি না হবার আশঙ্কায় শতাধিক জুনিয়র শিক্ষক


152 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
এনটিআরসিএ কর্র্তৃক সুপারিশকৃত এমপিওভুক্তি না হবার আশঙ্কায় শতাধিক জুনিয়র শিক্ষক
এপ্রিল ১৮, ২০১৯ ফটো গ্যালারি শিক্ষা সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

দিলীপ কুমার দেব :
সমগ্র দেশের বিদ্যালয়সমূহের জুনিয়র শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্র্তৃপক্ষ(এনটিআরসিএ) কর্র্তৃক নিয়োগের জন্য সুপারিশকৃত শতাধিক জুনিয়র শিক্ষক সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়সমূহে যোগদান করেও এমপিওভুক্তি না হবার আশঙ্কায় চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন। এমপিওভুক্তির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের নিকট অনলাইন আবেদন করার তারিখ অতিবাহিত হলেও জুনিয়র শিক্ষকগণ আবেদন করা হতে বঞ্চিত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্র জারীর মাধ্যমে ২২ অক্টোবর ২০১৫ থেকে বেসরকরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সকল শুন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ আর এক পরিপত্রের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্র্তপক্ষের (এনটিআরসিএ) নিকট বেসরকরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের শুন্যপদে নিয়োগের দায়িত্ব দেয়া হয়। ২৬ মে ২০১৬ একটি পরিপত্র জারি করে বলা হয়, ‘এমপিওভুক্ত শুন্যপদে ০১.০১.১৯৮২ তারিখের জনবল কাঠামো অনুসরণে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাথে সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ করা হলে তাদের পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত এমপিওভুক্ত করা যাবে’। এরপর এনটিআরসিএ ০৯ মে ২০১৭ বসরকারি (এমপিও ও ননএমপিও) বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের শুন্যপদে চাহিদা আহ্বান করে। পুনরায় শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে এনটিআরসিএ কর্তৃক সমগ্র দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ হতে ২৬ আগষ্ট ২০১৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত নিয়োগযোগ্য শুন্যপদ পূরণের জন্য চাহিদা আহ্বান করা হলে সর্বমোট ৪০,২৮৭টি শিক্ষক পদ পূরণের জন্য অনলাইনে চাহিদা পাওয়া যায়। এই চাহিদার মধ্যে জুনিয়র শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত শুন্যপদ পূরণের চাহিদাও রয়েছে।
এনটিআরসিএ শুন্যপদের চাহিদা আহ্বানের গণবিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুসরণে নিয়োগের কথা উল্লেখ করলেও চাহিদা আহ্বান করার সময় সহকারী শিক্ষকদের পদের সাথে জুনিয়র শিক্ষকদের পদও উল্লেখ করা হয়। সেই সাথে ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইনে এনটিআরসিএ’র পাবলিক সার্কুলেশনে সংশ্লিষ্ট স্কুলের নাম, ঠিকানা, পদ, বিষয়, শুন্যপদের সংখ্যা এবং ওই পদ এমপিওভুক্ত কিনা তাও উল্লেখ করা হয়। এই অনলাইনে সার্কুলেশনের মাধ্যমে প্রার্থীরা সহকারী শিক্ষক ও জুনিয়র শিক্ষক পদেও আবেদন করেন।
প্রাপ্ত আবেদনপত্রসমূহ মেধাক্রম অনুযায়ী যাচাই বাছাই করে বিদ্যালয় নির্বাচিত করে, পদ ও বিষয় উল্লেখ করে এনটিআরসিএ ২৪ জানুয়ারী, ২০১৯ নিয়োগের জন্য সুপারিশপত্র আনলাইনের মাধ্যমে প্রেরণ করে। এনটিআসিএ থেকে চুড়ান্ত নিয়োগযোগ্য সুপারিশপত্র পেয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহকারী শিক্ষকদের সাথে জুনিয়র শিক্ষকদেরও যোগদানের ব্যবস্থা করে।
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আঙ্গারদোহা গ্রামের মোঃ আবুল হোসেন খানের ছেলে মোঃ আবু দাউদ খান এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে সুপারিশ পেয়ে খুলনার রূপসা এলাকায় ঢাকা ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রী সেকেন্ডারী স্কুলে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি বলেন, এনটিআরসিএ’র অনলাইনে আবেদন করে যোগদান করেছি। কিন্তু এমপিওভুক্ত আবেদন করতে পারিনি। চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার বড়গাছী গ্রামের আমানত আলীর ছেলে আব্দুল ওয়াদুদ শহীদ মাহমুদ পুলিশ লাইন স্কুল এ্যা- কলেজ সংযুক্ত প্রাথমিক স্তরে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগ পান। তিনি জানান, এমপিওভুক্তির অনলাইনে আবেদন করতে গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ থেকে তাঁকে অনলাইলে আবেদন করতে নিষেধ করে। বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার জারিয়া গ্রামের মোঃ লুৎফর শেখের ছেলে মোঃ মনজুর শেখ বলেন, আমি নিয়োগ পেয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলার ফতেপুর নি¤œ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এমপিওভুক্ত শুন্যপদে যোগদান করেছি। কিন্তু বাগেরহাট উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে আমাকে এমপিওভুক্তির আবেদন করতে নিষেদ করা হয়েছে। এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে একই ভাবে নিয়োগ পেয়েছেন খুলনার নিরালা এলাকার আখতার উজ জামানের ছেলে ফয়সাল উজ জামান। যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এমপিওভুক্ত শুন্যপদে যোগদান করেন বিলাস চন্দ্র ম-ল। সাতক্ষীরা নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে যোগদান করেন ৪ জন জুনিয়র শিক্ষক। তাঁরা হলেন, মোঃ হাফিজুর রহমান, মোঃ মহিদুল ইসলাম, হাবিবুল্লাহ ও মোঃ হুমায়ূন কবির। অনুরূপ ভাবে ঢাকা ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রি সেকেন্ডারী স্কুল, খুলনা-এ ০৪টি, মিরকা হসিনা বানু গালস হাই স্কুল, ভালুকা, ময়মনসিং-০৪টি, আহমেদ আলী হাই স্কুল, মণিরামপুর, যশোর-০৪টি, ফতেপুর জুনিয়র গালস হাই স্কুল, বাগেরহাট সদর-০৩টি, আন্ধারমানিক গালস হাই স্কুল, কচুয়া, বাগেরহাট-০৩টি, খুলনা সেন্টস জেভিয়াস সেকেন্ডারী স্কুল-এ ০১টি, কাজী আব্দুল জব্বার হাই স্কুল এ- কলেজ, কয়রা, খুলনা-এ ০১টি, এভাবে সারা দেশের সেকেন্ডারী স্কুলের এনটিআরসিএ’র পাবলিক সার্কুলেশনে বহু সংখ্যক জুনিয়র শিক্ষকের এমপিওভুক্ত শুন্যপদ দেখা যায়।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল এবং মানবাধিকার সংস্থা ‘নিজ অধিকার’ সাতক্ষীরার সহ সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত পারভেজ বলেন, এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়সমূহের শুন্যপদ পূরণের জন্য আবেদন আহ্বানকালে জুনিয়র শিক্ষক পদ উল্লেখ থাকায় প্রার্থীরা আবেদন করেছেন এবং তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। যদি জুনিয়র শিক্ষক নিয়োগে কোন সমস্যা থাকত তাহলে এনটিআরসিএ পূবেই প্রার্থীদের আবেদন বাতিল করতে পারত। তিনি আরও বলেন, জুনিয়র শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে যদি কোন সমস্যা দেখা দেয় তাহলে এনটিআরসিএ প্রজ্ঞাপন জারী করে সমস্যার সমাধান করতে পারে।
খুলনা আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক নিভা রাণী পাঠক জানান, বিদ্যালয়সমূহের শিক্ষক নিয়োগে সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুসরণ করা হয়েছে। এই নীতিমালায় জুনিয়র শিক্ষকের পদ নেই। কিন্তু এনটিআরসিএ বিদ্যালয়সমূহের চাহিদা আহ্বানকালে জুনিয়র শিক্ষকদের পদ উল্লেখ থাকায় জুনিয়র শিক্ষকরা আবেদন করেছে। একারণে জুনিয়র শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক মহোদয়ের নিকট শিঘ্রই সুনির্দিষ্ট মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জুনিয়র শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে কথা বলার জন্য এনটিআসিএ’র চেয়ারম্যানের ল্যা- ফোনে(০২ ৪১০৩০১৪৩) বহুবার কথা বলার চেষ্টা করেও তাঁর সাথে কথা বলা যায়নি।

দিলীপ কুমার দেব, সাতক্ষীরা।
মোবাইল-০১৭১৫ ৪৮৪৮৯৮
তারিখ-১৮/০৪/২০১৯