আশাশুনির বুধহাটা নিবেদিতা নার্সিং হোমে সিজার রোগীর মৃত্যু । ক্লিনিক মালিক পলাতক


720 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির বুধহাটা  নিবেদিতা নার্সিং  হোমে  সিজার রোগীর মৃত্যু । ক্লিনিক মালিক  পলাতক
অক্টোবর ১, ২০১৫ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

 

নাজমুল হক / এস কে হাসান :
এবার আশাশুনির বুধহাটাস্থ নিবেদিতা নার্সিং হোমে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রাণ গেল কুড়ি বছর বয়সী গৃহবধু বিথিকা মল্লিকের। বৃহস্পতিবার সিজার অপারেশনের পরে প্রচন্ড খিচুঁনিতে বিকেলে জীবন প্রদীপ নিভে যায় বিথিকার। সে আশাশুনির চাপড়া (মাদরা) গ্রামের সুশান্ত মল্লিকের স্ত্রী ও একই গ্রামের বিকাশ চন্দ্র মল্লিকের কণ্যা। নার্সিং হোমে মৃত্যু নিশ্চিত হলে চিকিৎসক ডা. অরুন কুমার ব্যানার্জি তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয়। এ সময় স্থানীয়রা জানতে পেরে ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসকের গ্রেপ্তারের দাবীতে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ক্লিনিক মালিক ডা. সুলেখা মুখোপাধ্যায় ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানায়, ক্লিনিকে রোগী মরতেই পারে। এটা স্বাভাবিক ব্যাপারে।

নিহত বিথিকা মল্লিকের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা ২০ মিনিটে বিথিকা মল্লিকের প্রসব বেদনা শুরু হয়। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা আশাশুনির কুল্যার মোড়স্থ ডা. সুলেখা মুখোপাধ্যয়ের মালিকানাধীন নিবেদিতা নার্সিং হোমে ভর্তি করে। সকাল ৮টায় ক্লিনিকের মালিক ডা. সুলেখা মুখোপাধ্যয়ের স্বামী ডা. অরুণ কুমার মুখার্জি মোটা টাকার চুক্তিতে সিজার অপারেশন করেন। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তার একটি পুত্র সন্তান হয়। তখন রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক হলেও সকাল সাড়ে ৯টায় রোগীর প্রচন্ড খিচুঁনি হয়। এ সময় বিথিকা মল্লিকের পিতা বিকাশ চন্দ্র ডা. অরুণ কুমার মুখার্জিকে অবহিত করেন। অপারেশনের পরে এমন হয় হলে ডাক্তার রোগীর স্বজনকে জানান। অবস্থা ক্রমশ খারাপ হলে ডাক্তার সকাল ১০টায় রোগীকে ঘুমের ইনজেকশন প্রদান করে।

কিন্তু ঘুমের মধ্যেও বিথিকার খিচুনি হতে থাকে। এ সময় রোগীর পিতা ডাক্তারকে বার বার অনুরোধ করার পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। রোগীকে অন্য কোথাও পাঠানোর পরামর্শও প্রদান করেন নি। বেলা ২টায় রোগীর অবস্থা আরো অবনতি হলেও নার্সিং হোমের কোন ডাক্তার কর্ণপাত করেনি বলেও অভিযোগ করেন। এ অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রোগীর মৃত্যু হয়।
রোগীর স্বজনরা আরো জানান, নার্সিং হোমে রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত হলে ডাক্তাদের দৌঁড় ঝাপ শুরু করেন। কিন্তু ডাক্তার বিষয়টি চেপে যান। মৃত্যুর কিছুক্ষণ পরে ডা. অরুণ কুমার মুখাজি মৃত বিথিকার অবস্থা খুব খারাপ জানিয়ে দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেন। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে নার্সিং হোমের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় তারা ক্লিনিক মালিক ডা. সুলেখা মুখোপাধ্যায় ও অপারেশন করা ডা. অরুণ কুমার মুখার্জিকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবী জানান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত বিথিকার বাবার ব্যবসায়ীক বন্ধু চাপড়া গ্রামের আকবর হোসেন জানান, ডাক্তার ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ একটু যতœবান হলে বিথীকার মৃত্যু নাও হতে পারতো। যুবতী বয়সের এই মেয়ের মৃত্যুতে তার পিতা বার বার সংগাহীন হয়ে কারো সাথে কথা বলছে না। এ বিষয়ে নিবেদিতা নার্সিং হোমের মালিক ডা. সুলেখা মুখোপাধ্যয় মোবাইলে জানান, অপারেশনে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলব না। আমাদের ম্যানেজার আছে প্রয়োজন হলে তার সাথে কথা বলেন।

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমের বুধহাটা প্রতিনিধি এস কে হাসান জনান, এবার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটায় ‘নার্সিং হোম’ নামের একটি ক্লিনিকে সিজার করার পর এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ক্লিনিক ছেড়ে পালিয়ে গেছে। পরিস্থিতি শামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার রাতে আশাশুনি উপজেলার মাদরা গ্রামের সুমন্ত মল্লিকের স্ত্রী গর্ভবতী বীথিকা মল্লিক (২০) কে কুল্যাস্থ নিবেদিতা নার্সিং হোম নামের ওই ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে তাকে সিজার করা হয়। তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা একতা হাসপাতালে এবং ২১ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সুন্দরবন ক্লিনিকে দুই সিজার রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ভয়েস অব সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় জেলা প্রশাসন এসব ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়। একতা হাসপাতালের ঘটনায় ৩ ডাক্তারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সুন্দরবন ক্লিনিককে গত ৩ দিন আগে ভ্রাম্যমান আদালত ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এই ক্লিনিকে সিজার রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে জানাগেছে।

এদিকে, একের পর এক সিজার রোগীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।