সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে মাদক বিক্রির পোষ্টার !


2542 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে মাদক বিক্রির পোষ্টার !
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::

সাতক্ষীরা তালা উপজেলার পাটকেলকঘাটার পর এবার সাতক্ষীরা সদরে মাদক বিক্রির প্রচার প্রচারনা লক্ষ্যকরা যাচ্ছে। এখানে সুলভমূল্যে মাদক বিক্রি করা হয়, এমন রঙিন পোস্টার সাতক্ষীরা সদরের আমতলা, কাস্টমস গোডাউন মোড়, মিলবাজার, মাগুরাসহ শহরতলীর বিভিন্ন বিদ্যুতের খুটি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনের পাকা দেওয়ালে দেওয়ালে সাটানো হয়েছে।

মাদক বিক্রির ওই সাটানো রঙিন পোস্টারে লেখা রয়েছে সু-খবর….সু-খবর সকল প্রকার মাদক দ্রবাদি ডিলার ও বিক্রেতা, এখানে সকল প্রকার মাদক সামগ্রী সূলভ মূল্যে পাওয়া যায়।

(ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, মদ ও গাঁজা) যোগাযোগের ঠিকানা ০১৭১২-২৪৩৫০০, ০১৮৭৮-৯৭৩৮৯৫ (তাক বাবু) জেলখানার মোড়, মিলবাজার সড়ক সংলগ্ন, মাগুরা, সাতক্ষীরা। এছাড়া সাতক্ষীরা গণমূখী ক্লাবের সামনে, কাটিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে, সদর থানার সামনেও ওই পোস্টার দেওয়ালে দেওয়ালে সাটানো রয়েছে।

তবে মাদক বিক্রির ওই প্রচারনার পোস্টারে যে ব্যক্তিকে উল্লেখ করা হয়েছে, তার মুঠোফোনে একাধিকবার কলকরেও কোন যোগাযোগ মেলেনি।

সূত্রে জানাযায়, সম্প্রতি মিলবাজার, কাটিয়া মাঠপাড়া ও মাগুরা এলাকায় মাদকের ২টি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। ওই সিন্ডিকেটের মধ্যে টাকা পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায়, মাদকের ২টি সিন্ডিকেট দুই ভাগে বিভক্ত হয়।

তথ্যনুসন্ধানে জানাযায়, ৪০হাজার টাকার লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তারা মাদক ব্যবসা আলাদা করে নেয়। তবে এসমস্ত মাদক বিক্রেতার কেউ কেউ পুলিশের সোর্স পরিচয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। সম্প্রতি মিলবাজার ও কাটিয়া এলাকায়

পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী আব্দুল হাকিমের ছেলে কালামকে ফেনসিডিলসহ এবং মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে মহাশিন সোর্সকে ইয়াবাসহ আটক করে ডিবি পুলিশ।

সূত্রে আরো জানাযায়, ওই সমস্ত সোর্স পরিচয়দানকারী মাদক বিক্রেতারা শহরের নি¤œবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণীর পরিবারের ছেলেদের হাতে মাদক বিক্রি করে, আবার সোর্স মাদক বিক্রেতা পুলিশ দিয়ে ওই ক্রেতা যুবকদের ধরিয়ে দেয়।

তাতেকরে হয়রানির স্বীকার হয়ে, পরিবারের কর্তারা অসহায় হয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন।

পুলিশের সোর্স রূপে বহলতবিয়তে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করার অভিযোগ রয়েছে শহরের কাটিয়া মাঠপাড়া গ্রামের ভিক্ষুক হারানের ছেলে সোর্স বেল্লালের বিরুদ্ধে। বেল্লালের সহযোগি মাঠপাড়ার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মেহেদি হাসানের মাধ্যমে ইয়াবা

বিক্রি হচ্ছে শহরের নিউমার্কেটের পিছনে কামালনগর, রসুলপুর, লস্করপাড়া, রেজিষ্ট্রিপাড়া, পাটকেলঘাটা, গড়েরকান্দাসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায়।

বেল্লালের অপর সহযোগি কালিগঞ্জ উপজেলার নলতার ইসমাইল হোসেন, নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে সাতক্ষীরা শহরে দীপ নামে পরিচিত । খুব অল্প সময়ের মধ্যে বেল্লাল দেড়লাখ টাকা মূল্যের এ্যাপাসি মোটরসাইকেল, জমি ও ঘেরমালিক হয়েছে। তার আয়ের উৎস্য কোথায়?

আবার সদরের অপর প্রান্তে অবস্থানরত বাঁশদহা গ্রামের দীর্ঘদিনের সিনিয়র চিহ্নিত হেরোইন ব্যবসায়ী আতিয়ার ঢালী, বর্তমানে ইয়াবা ট্যাবলেটের আঞ্চলিক পরিবেশক হিসেবে ব্যবসা করছে।

আতিয়ার ঢালীর বাড়ি থেকে ইয়াবা পাঠানো হচ্ছে সাতক্ষীরা সদরের বিভিন্ন এলাকায়, তালা, পাটকেলঘাটার মনার মাদক স্পর্টে, আশাশুনি, কালিগঞ্জ, নলতা, দেবহাটা, পারুলিয়াসহ বিভিন্ন রুটে।

অপর দিকে সাতক্ষীরার দক্ষিণ প্রান্তে শ্যামনগরে মাদক ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে মুনছুর ঢালীর বিরুদ্ধে। শ্যামনগর বাস টার্মিনালের পিছনে মুনছুর ঢালী বিক্রি করছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ নেশা দ্রব্য।

শ্যামনগরের ওই মাদক স¤্রাট মুনছুরকে আটক করতে সাতক্ষীরা কালেক্টরেট থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে মাদক বিরোধী অভিযানে গেলে ভ্রাম্যমান আদালতে ব্যবহারিত মাইক্রোবাসে হামলা চালায় সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীরা।  মাদক স¤্রাট মুনছুর ঢালি থাকে ধরা ছোয়ার বাইরে।

সূত্রে জানাযায়, শ্যামনগরের মুনছুর ঢালী শ্যামনগর বাসটার্মিনাল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে পরিবহনযোগে ফেনসিডিল পাচার করে থাকে। ওই মাদক চোরা চালানে মুনছুর ৩জন নারী শ্রমিককে কাজে লাগায়।

শ্যামনগর উপজেলাকে মাদক মুক্ত করতে স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ব্যবসায়ী মুনছুর কে গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছেন।
##