এরশাদ লাইফ সাপোর্টে


195 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
এরশাদ লাইফ সাপোর্টে
জুলাই ১, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বাংলাদেশের রাজনীতির আলোচিত-সমালোচিত চরিত্র হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তাকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এরশাদের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন বলে দলটির তরফ থেকে জানানো হয়েছে। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া সমকালকে নিশ্চিত করেছেন, এরশাদকে লাইফ সার্পোটে রাখা হয়েছে।

এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের জানিয়েছিলেন, এরশাদের ফুসফুসে যে সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল তা মোটামুটি সেরে গেছে। তবে তার কিডনিতে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। তাই কিডনির কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিয়েছে। দুই ঘণ্টা পর পর তাকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তবে অক্সিজেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কমানো হয়েছে।

সন্ধ্যায় এরশাদকে দেখার পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জাপা চেয়ারম্যানকে বিদেশ নেওয়ার মতো অবস্থা নেই। চিকিৎসকরা এ বিষয়ে একমত। দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে একই কথা জানিয়েছিলেন এরশাদের ছোট ভাই জিএম কাদের।

সোমবার এরশাদকে দেখতে যান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চোখের অসুস্থতার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরশাদকে দেখতে যেতে পারেননি। ওবায়দুল কাদেরকে পাঠিয়েছেন। ওবায়দুল কাদেরের ডাকে চোখ মেলে সাড়া দেন জাপা চেয়ারম্যান।

জাপার নেতারা জানিয়েছে, সিএমএইচে চিকিৎসাধীন সাবেক সেনাপ্রধান এরশাদের পাশে রয়েছেন তার স্ত্রী বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ানো ছবিতে দেখা গেছে তিনি এরশাদের শয্যাপাশে পবিত্র কোরান পাঠ করছেন।

এদিকে এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেছেন, এরশাদের অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি চলছে।

৮৯ বছর বয়সি সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বছর খানেক ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিন দফায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেন। ভোটের প্রচারে নামতে পারেননি জাপা প্রধান। নির্বাচনের পর শপথ নিতে হুইল চেয়ারে সংসদে যান। গত আট মাস ধরে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়নি তাকে। গত ৪ মে জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে তার হাতে জাপার দায়িত্ব তুলে দেন এরশাদ। এর আগে স্ত্রী রওশন এরশাদকে করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা।

গত রোববার রাতে এরশাদের মৃত্যুর গুজব ছাড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ বিষয়ে দুপুরে করা সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদের বলেন, রাষ্ট্রপতি হুসেইন এরশাদ একজন জনপ্রিয় রাজনীতিক। তার জন্য দেশের মানুষের আবেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে। তাকে নিয়ে কেউ যেনো গুজব না ছড়ায়। দলীয় প্রধানের শারীরিক অবস্থার খবর তারা নিয়মিত ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানাবেন। সিএমএইচ কর্তৃপক্ষ আইএসপিআরের মাধ্যমে জানাবে।

সংবাদ সম্মেলনে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি, রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমানসহ জেষ্ঠ্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।