এ্যাড: আব্দুর রহমান কলেজের অনিয়ম-দুর্নীতি : অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু


372 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
এ্যাড: আব্দুর রহমান কলেজের অনিয়ম-দুর্নীতি : অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
মার্চ ৬, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক:
এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ ও ৫ শিক্ষককের বিরুদ্ধে অবশেষে তদন্ত শুরু হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কলেজে তদন্ত কাজ করেন মাওশির সহকারী পরিচালক আশেকুল হক। জেলা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইদুর রহমানের আবেদনের প্রেক্ষিতে উক্ত তদন্ত কাজ শুরু হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা আশেকুল হক জানান, উভয় পক্ষকে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে অভিযোগকারী ও অভিযোগের বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রদান করতে নির্দেশ বলেন। এ সময় কলেজের প্রভাষকসহ তিনজন লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

সূত্র জানায়, এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান তার স্ত্রী সেলিনা খাতুনসহ ৫জন প্রভাষককে পাঠদানের অনুমোদনহীন বিষয়ে এমপিও করিয়েছেন। তারা সকলে এক বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স পাশ আর কলেজ থেকে বেতন উত্তোলন করেন অন্য বিষয়ে। সেলিনা খাতুন সমাজবিজ্ঞানে অনার্স-মাস্টার্স পাশ হলেও জাল সনদ দিয়ে মনোবিজ্ঞানে বেতন তুলছে। সমর পাল সংস্কৃত বিষয়ে মাস্টার্স পাশ করলেও জাল সনদ নিয়ে বেতন তুলছে সংগীত বিষয়ে। হুমায়ুন কবীর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃত বিভাগে অনার্স-মাস্টার্স পাশ হলেও জাল সনদ নিয়ে বেতন তুলছে পরিসংখ্যান বিষয়ে। কলেজের প্রভাষক সুরাইয়া সুলতানা সাধারণ ইতিহাসে অনার্স-মাস্টার্স পাশ হলেও জাল সনদ দিয়ে বেতন তুলছে গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ে। শাজাহান কবির ভূগোল বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স পাশ করলেও জাল সনদ নিয়ে বেতন তুলছে অর্থনীতি ও বানিজ্যিক ভূগোল বিষয়ে।

সূত্র আরো জানায়, কলেজের অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী জাল জালিয়াতি করে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে সুবিধে নিচ্ছে। অধ্যক্ষর স্ত্রী সেলিনা সুলতানা ২০১০ সালে এভিএএস টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ এমপিও ভুক্তির জন্য এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান কলেজ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করে। তারপরও তিনি এডভোকেট আব্দুর রহমান কলেজ থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছে। অন্যদিকে তিনি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার খাতা দেখছে ও প্রধান পরীক্ষকও হয়েছে। ফলে তিনি চাকরি বিধি লঙ্ঘন করে দুইটি প্রতিষ্ঠান থেকে সুবিধে নিচ্ছে। অন্যদিকে, কলেজের শিক্ষার্থীদের নামে বিভিন্ন বর্ষে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেছে কলেজের অধ্যক্ষ। কলেজের অধ্যক্ষ ৩০ জন যুবকের নিকট থেকে ৪/৫ লাখ টাকা এমপিও ভুক্তির জন্য নিয়েছে। যারা ৯/১০ বছর যাবৎ বিনা বেতন চাকুরি করছে। এ সকল অভিযোগ উল্লেখ করে কাজী সাইদুর রহমান চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করে। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে মহাপরিচালক প্রফেসার ফাহিমা খাতুন সম্প্রতি কলেজ ও প্রশাসন উইং এর সহকারী পরিচালক আশেকুল হককে তদন্তের নির্দেশ নেয়। নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার আশেকুল হক এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান কলেজে গিয়ে তদন্ত সম্পন্ন করেন। তদন্তকালে কলেজের প্রভাষক এম সুশান্ত, প্রাক্তন অফিস সহকারী রুহুল আমীন ও অভিযোগকারী কাজী সাইদুর রহমান লিখিতভাবে বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সকল কাগজের কপি তুলে দেন। কলেজের প্রভাষক এম সুশান্ত, অভিযোগকারী কাজী সাইদুর রহমান জানান, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরে তদন্ত শুরু হয়েছে। আমরা সকল জাল কাগজের নথি তুলে দিয়েছি। তদন্তকারী কর্মকর্তা মাওশির কলেজ ও প্রশাসন উইং এর সহকারী পরিচালক আশেকুল হক জানান, তদন্ত পূর্বেই হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু স্বচ্ছতারভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে আরো কাগজপত্র দেওয়ার জন্য ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।