ঐতিহাসিক সফরে শি জিনপিং ঢাকায়


291 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ঐতিহাসিক সফরে শি জিনপিং ঢাকায়
অক্টোবর ১৪, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :
দুই দিনের ঐতিহাসিক সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকায় পৌঁছেছেন।

শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী এয়ার চায়নার বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

চীনের প্রেসিডেন্টের বিমানটি বাংলাদেশের আকাশ সীমায় প্রবেশ করার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর চারটি জেট ফাইটার তাকে পাহারা দিয়ে বিমানবন্দরে নিয়ে আসে। এ সময় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মন্ত্রীসভার বেশ কয়েকজন সদস্য।

অবতরণের পর রাষ্ট্রীয় এই অতিথিকে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ‌্যমে স্বাগত জানানো হয়। এরপর দুটি শিশু ফুল দিয়ে প্রেসিডেন্টকে বরণ করে নেওয়ার পর লাল গালিচায় হেঁটে তিনি সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান।

পরে চীনের প্রেসিডেন্টকে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এ সময় বাজানো হয় দুই দেশের জাতীয় সংগীত। এরপর প্রেসিডেন্ট হোটেল লা মেরিডিয়েনে চলে যান।

সংক্ষিপ্ত এই সফরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হোটেল লা মেরিডিয়েনে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছে তিনি হোটেলে বিশ্রাম নেবেন। এরপর মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেল ৩টায় যাবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন দু’দেশের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে। এখান থেকে তিনি আবার হোটেলে যাবেন। সেখানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় তিনি বঙ্গভবনে যাবেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অংশ নেবেন তার সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে।

ঐতিহাসিক সফরে শি জিনপিং ঢাকায়
বিমানবন্দরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ-

শি জিনপিংয়ের এটাই প্রথম ঢাকা সফর নয়। ২০১০ সালেও তিনি ঢাকা সফরে এসেছিলেন। তখন তিনি ছিলেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ২০০৮ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই ছিল তার দ্বিতীয়বার বিদেশ সফর। ২০০৯ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি প্রথম বিদেশ সফর করেন দক্ষিণ আমেরিকায়। ২০১০ সালে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশ সফরে আসেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সফল ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পররাষ্ট্রনীতির পরিচয় স্পষ্ট হয়েছে। ভূরাজনৈতিক-কূটনীতির বিচারে এ মুহূর্তে বাংলাদেশের, একই সঙ্গে ভারত, চীন, জাপান ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে পৃথকভাবে সুসম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য কূটনৈতিক দক্ষতারই প্রমাণ। বর্তমান মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সময় এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ঢাকা সফর করেছেন। এর পরই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরকে বড় মাপের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

চীনের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও এর প্রায় ৭৫ শতাংশের অংশীদার চীন। তার পরও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীনে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ ২৫ শতাংশ বেড়েছে। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যে আরও ভারসাম্য আনা নিয়েও আলোচনা হবে বৈঠকে। এ মুহূর্তে চীন বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার।

অবকাঠামো উন্নয়নে চীন বর্তমানে বিশ্বের ১৩০টি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ভারত ও যুক্তরাজ্যও রয়েছে। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নেও চীনের ভূমিকাই প্রধান। দেশে এ পর্যন্ত প্রায় ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরে আরও প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্প সহায়তার নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে। সে লক্ষ্য সামনে রেখেই ২১টি সমঝোতা স্মারক এবং তিনটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র। যেসব বিষয়ে চুক্তি হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে_ বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, রেল, সেতু ও সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন। এর বাইরে সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিকবলয় তৈরির জন্যও চীনের সহযোগিতা চাওয়া হতে পারে। এ ছাড়া চীনকে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এ অঞ্চল শুধু চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এ অঞ্চলে কীভাবে বিনিয়োগ করা যায়, তা নিয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন চীনের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বিশেষ করে দুই দশক ধরে বিশ্বে তৈরি পোশাক রফতানিতে শীর্ষে থাকা চীনের তৈরি পোশাক উৎপাদন গত কয়েক মাসে কমতে শুরু করেছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়াই এর মূল কারণ। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বে তৈরি পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগে নতুন নতুন তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চীনের বিনিয়োগেই বিশ্বে তৈরি পোশাক রফতানিতে নতুন মাইলফলকের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে।

সূত্র জানায়, প্রায় ২৩ ঘণ্টার সফর শেষে শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে চীনের প্রেসিডেন্টের। ঢাকা থেকে তিনি যাবেন ভারতের গোয়ায়। সেখানে তিনি ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ সম্মেলনে যোগ দেবেন।

চীনের প্রেসিডেন্টের সফর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাকে দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয়েছে। হোটেল লা মেরিডিয়েনে তার অবস্থানস্থলসহ চলাচলের পথে ব্যাপক নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টি করা হয়েছে।