‘ওরা শতর্ধো বৃদ্ধ-বৃদ্বার ঘর কেড়ে নিতে চায়’


161 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘ওরা শতর্ধো বৃদ্ধ-বৃদ্বার ঘর কেড়ে নিতে চায়’
আগস্ট ২৮, ২০২০ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোটর্ :
একশ দশ বছরের বৃদ্ধ তমেজউদ্দিন সরদার ও তার সহধর্মিনী মর্জিনা খাতুন বসবাস করে মাছখোলার মানিকতলা এলাকার মোড়ল পরিবারের কাছাকাছি একটি সরকারি খাস জমিতে। জায়গা-জমি ও ঘর না থাকায় ২০১২ সালে একটি বেসরকারি সংস্থা গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত একটি ঘর ও টয়লেট দেন তমেজউদ্দিনকে।

৫০ বছরের বেশি সময় ধরে পরিবার নিয়ে একটি খাস জমিতে বসবাস করছে বয়সের ভারে নুয়েপড়া তমেজউদ্দিন সরদার। কিন্তু তাদের পার্শ¦বর্তী কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এ বৃদ্ধর ঘর ভেঙে তুলে দিয়ে জমি দখলের পায়তারা শুরু করেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইতোমধ্যে বৃদ্ধ-বৃদ্ধার একমাত্র টয়লেট যেটা ২০১২ সালে সরকার দিয়েছিলো সেটা গুড়িয়ে দিয়ে সেখানে দোকানঘর দিয়েছেন জনৈক মোড়ল।


বৃদ্ধ তমেজউদ্দিন বলেন, আমার ঘরের এজাগায় বিরাট গর্ত ছেলো। মাথায় করে মাটি দিয়ে এজায়গা ভরাট করেছি আমি। আর এখন আমার ঘরভেঙে নিয়ে যেতে বলছে মোড়ল পরিবার। এই খাস জমির পাশে অনেক জমি তাদের তাই এই জমির দখল করতে আসে তারা। ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে বাস করছি আমি। আমার কোনো জায়গায় থাকার জায়গা নেই। ওরা আমার টয়লেট ভেঙে দিয়েছে, দিন-রাত গালাগালি করে ঘর কেটে উঠে যেতে বলে। আমি সরকারের কাছে আর্জি জানাই, আমার এ বয়সে অন্য কোথাও যাওয়ার ক্ষমতা নেই। এই জায়গাটুকু যেনো কেউ দখল করতে না পারে।

বৃদ্ধের নাতনী সেলিনা খাতুন জানান, তারা কিছুদিন আগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। চেয়ারম্যান সাহেব অভিযোগটা জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরনের জন্য বলেছেন। সেই অভিযোগের কপি অনুসরে জানা গেছে, এ অসহায় পরিবারটি ৫০ বছর ধরে বসবাস করছেন সরকারি ৪.৫ কাটা জমিতে। তবে স্থানীয় একটি কুচক্রিমহল উক্ত জমিতে মসজিদ করার নামে জবরদখল করে আমার এ জায়গাটুকু জবরদখল করতে চায়। পাশে তাদের প্রচুর জায়গা থাকা সর্ত্বেও তারা আমার টয়লেট ভেঙে সেখানে দোকানঘর বানিয়েছে। তারা আমাকে এজায়গায় থাকতে দেবে না। এ জমির দখল না ছাড়লে তারা আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করছে।

স্থানীয়রা চায় তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিবেশি যেনো সেখানে বসবাস করতে পারে। কিন্ত প্রভাবশালীদের ভয়ে তারা কথা বলতে অপারকতা প্রকাশ করেছে।

এ ব্যাপারে অসহায় পরিবারটি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের সহযোগিতা চেয়েছেন।